• ই-পেপার

গোপালগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকের ভারে ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ, আহত ৪

‘ব্রাজিলের ড্র আমাদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে’

কুবি প্রতিনিধি
‘ব্রাজিলের ড্র আমাদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে’
ছবি: কালের কণ্ঠ

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ করতে আনন্দ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। রবিবার (১৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টেনে আর্জেন্টিনার সমর্থক সাইফ মাশরাফি বলেন, ‘মরক্কোর সঙ্গে ব্রাজিলের ড্র হওয়ায় আমাদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন দিন দিন তলানির দিকেই যাবে। আর এটাই আমরা আজকে বেশি করে উদযাপন করব।’

আর্জেন্টিনার আরেক সমর্থক মোহাম্মদ নাঈম খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করি। দলের প্রথম ম্যাচের জয়-পরাজয় দিয়ে আমাদের ভালোবাসা পরিমাপ করা যায় না। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হেরেও শেষ পর্যন্ত আমরাই চ্যাম্পিয়ান হয়েছি। এবারও লিওনেল মেসির ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে এবং আমরাই ট্রফি জিতব।’

আর্জেন্টিনার সমর্থক শাহাদাত তানভীর রাফি বলেন, ‘২০২২ সালেও ব্রাজিল হেক্সা মিশনের স্বপ্ন দেখেছিল, এবারও দেখছে, যা ২০৩০ সালেও অধরা থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে।’ 

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

দুই দেশের মাঝখানে এক মায়ের কান্না

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
দুই দেশের মাঝখানে এক মায়ের কান্না
ছবি : কালের কণ্ঠ

বারবার কেঁদে উঠছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা খাতুন। হয়তো সে জানে না সীমান্ত কী, জানে না রাষ্ট্রের সংজ্ঞা। সে শুধু জানে ক্ষুধা, রোদ আর মায়ের বুকের উষ্ণতা। কিন্তু সেই মা সুমি খাতুনও যেন অসহায়। কোলে শিশুকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, আর নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছেন।

একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ভারত। মাঝখানে কয়েক গজের শূন্যরেখা। সেই শূন্যরেখাতেই আটকে আছে একটি পরিবারসহ মোট ৯ জন মানুষ। রবিবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।

অনিশ্চয়তার ভার যেন সবচেয়ে বেশি এসে পড়েছে পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা আর চার বছরের ফাতেমা খাতুনের ওপর। ছোট বোনের কান্না থামছে না। বড় বোন ফাতেমাও ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বারবার কাঁদছে। দুই মেয়ের এমন অসহায় অবস্থা দেখে মা সুমি খাতুনের বুক ফেটে যাচ্ছে। কখনো ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরছেন, কখনো বড় মেয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন। কিন্তু একজন মা হয়েও যেন কিছুই করতে পারছেন না।

পাশেই দাঁড়িয়ে বাবা বিল্লাল। তার মুখে কোনো ভাষা নেই। শুধু অসহায় দৃষ্টি নিয়ে কখনো সন্তানদের দিকে, কখনো সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে থাকছেন। হয়তো একজন বাবার সবচেয়ে বড় কষ্ট এটাই—সন্তানের কান্না শুনেও কিছু করতে না পারা।

মাথার ওপর তপ্ত সূর্য। কোথাও কোনো ছাউনি নেই। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ফাহিম ও হিমেল নিজেদের পরনের লুঙ্গি খুলে অস্থায়ী ছাউনি বানানোর চেষ্টা করছেন। লুঙ্গির সেই সামান্য ছায়াতেই একটু স্বস্তি খুঁজছে শিশুরা।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্তে ছুটে আসেন। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে তারাও অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া এবং ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোরচর ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো সমাধান আসেনি।

এপারে বিজিবি, ওপারে বিএসএফ। দুই বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থানে। মাঝখানে ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে ৯টি জীবন।

সীমান্তে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল। কারণ রাষ্ট্রের সীমারেখা মানুষ টানে, কিন্তু শিশুর কান্নার কোনো সীমান্ত নেই। পাঁচ মাস বয়সী ফাহিমা জানে না সে কোন দেশের নাগরিক। চার বছরের ফাতেমাও জানে না কেন তাকে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। তারা শুধু জানে, তাদের ক্ষুধা লেগেছে, তাদের রোদ লাগছে, তারা মায়ের কোলে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চায়।

জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতীয় বৃদ্ধকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতীয় বৃদ্ধকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ভারতীয় এক বৃদ্ধ নাগরিককে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হাটখোলা বিওপির আওতাধীন ২৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২১ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন এলাকা এবং ভারতের মথুরাপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাইমুল ইসলাম জানান, দুপুরে এক বৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানান। তবে তিনি নিজের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।

পরে গ্রামবাসী ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের ২৭৯ নম্বর মেইন পিলারের ২১ নম্বর সাব-পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতের দিকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে অবস্থান নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএসএফ সদস্যদেরও ওই বৃদ্ধকে নিয়ে সীমান্তের ভারতীয় অংশে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় উভয় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত হাটখোলা বিওপির নায়েক সুবেদার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় হাটখোলা বিওপির ক্যাম্প কমান্ডারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

নাটোরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি আসলাম আলী (৫০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

রবিবার (১৪ জুন) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রাতে উপজেলার জামনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসলাম আলী হাঁপানিয়া গ্রামের মৃত কাইলি উদ্দিনের ছেলে। এ মামলার অন্য আসামি শ্রী ষষ্টি কুমার (৪২) এখনো পলাতক।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে জামনগর ইউনিয়নের চাইপাড়া আদর্শ গুচ্ছগ্রামের ওই নারী বাড়ির নিকটবর্তী একটি আমবাগানে খড়ি সংগ্রহ করতে গেলে আসামিরা তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যান। পরদিন ২৫ মে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় মামলা করা হয়।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আজ রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।