• ই-পেপার

নাটোরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

যশোরে জামায়াতের ৩ নেতার পদ স্থগিত

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে জামায়াতের ৩ নেতার পদ স্থগিত
সংগৃহীত ছবি

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেনের দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ ও ৩০ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে উঠে আসার পর জেলা জামায়াত এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

এদিকে আহসান হাবিব লিটন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।

ফরিদপুরের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসা

২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে ৩০০ শিক্ষার্থী

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে ৩০০ শিক্ষার্থী
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসা।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসায় গত ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাঠদান, অফিস কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় নুরা শেখের বাড়ির ওপর দিয়ে মাদ্রাসার বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২২ দিন আগে বিদ্যুৎ সংযোগ পুড়ে যায়। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে তারা বাধা দেয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যুৎ নেই।

তারা জানান, বারবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কারীর হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. এবিএম রাইসুদ্দিন বলেন, গত ২২ দিন ধরে মাদ্রাসাটি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বারবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরা শেখের স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদরপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ পুড়ে যাওয়ার পর নতুন করে সংযোগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়ির ওপর দিয়ে লাইন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাড়ির লোকজন কোনোভাবেই তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নিতে দিচ্ছেন না। তবে বিষয়টি সমাধানে আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি, দ্রুত এর একটি সুরাহা হবে।’

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। মাদ্রাসাটিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা। যাতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা সম্ভব হয়।

রাজশাহীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীতে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পুকুরে ডুবে নূর আহমেদ মাশরাফি নামের আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাশরাফি ওই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল মাশরাফি। একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

সালিশে হত্যার রায় ‘বিশ লাখ’ টাকা

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
সালিশে হত্যার রায় ‘বিশ লাখ’ টাকা
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় সালিশের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার করে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরাঞ্চলের পাড়াতলী ইউনিয়নের সোনাবালুয়া এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, গত ২৯ মে কদম ফুল পাড়া নিয়ে সোনাবালুয়া গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে সজল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোক্তার ও তার সহযোগীরা লাঠি দিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথার বাম পাশে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১২ জুন সজল মারা যান। শনিবার রাতে তার মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সজলের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত মোক্তার ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে। একই সঙ্গে থানায় মামলা না করার জন্য বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মরদেহ দাফনের আগেই সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি মিলে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা প্রদানের শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ঘটনায় মামলা না করার পরামর্শ দেন।

নিহত সজলের বড় বোন জেসমিন বলেন, আমার ভাইকে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে মোক্তার হোসেন। মেম্বার ও এলাকার লোকজন ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছে। তবে এখনো আমরা কোনো টাকা হাতে পাইনি।

তিনি বলেন, ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কি আমার ভাইকে ফিরে পাব? আমার ভাই বেঁচে থাকলে এর চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারত। তার জীবন তো সবে শুরু হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে এলাকায় গিয়ে অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন ও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাড়াতলী ইউপি সদস্য ইউসুফ মিয়া। তিনি বলেন, আমি ও এলাকার কয়েকজন মিলে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। তবে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কোনো আইনি বৈধতা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। হত্যার ঘটনা আপোষ যোগ্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।