• ই-পেপার

চিতলমারী

আঞ্চলিক মহাসড়কে বাঁশের হাট, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ আসতে পারে যেসব বড় পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ আসতে পারে যেসব বড় পরিবর্তন
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাইবার স্পেসে বিভিন্ন ধরনের গুজব, মানহানিকর ও ভুয়া কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কোনো বিভ্রান্তিকর ভিডিও, অডিও এবং ছবি তৈরি ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। সোমবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের একটি প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় জানা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফরমগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধানও আইনে আনা হবে।

 

আরো পড়ুন
আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে সত্যের জয় হলো : নাসির

আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে সত্যের জয় হলো : নাসির

 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাশ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ানো ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির পরিমাণ বাড়লেও নতুন এই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তির বিধান নেই। যে কারণে এসব অপরাধ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এই আইনটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আইন সংশোধন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা
গত রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। সোমবার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইনে হয়রানি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের পরই এটি নিয়ে জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তখন বলেন, "কিছুদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের সরকারের প্রধান তার স্ত্রী, তার কন্যা, আমার স্ত্রী কন্যা এবং অনেকের স্ত্রী ও কন্যা এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অথবা প্রতিপক্ষ বিবেচনায় যে সমস্ত কন্টেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভার্চুয়াল মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেটা আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, সেটা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফরমকে অন্তর্ভুক্ত করে 'সাইবার স্পেস'-এর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, সংশোধিত আইনে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ''কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান আনা হবে"।

সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনি সংস্কারে ড্রাফটে হাত দিয়েছি। আমি জানতাম না আজকে এই প্রশ্নটা এখানে আসবে।'

অপসারণ করা যাবে কন্টেন্ট?
গত কয়েক মাসে বিশেষ করে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন
প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৪ বিষয়ের মধ্যে যা থাকবে

প্রাথমিক-মাধ্যমিকে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন ৪ বিষয়ের মধ্যে যা থাকবে

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, আগের সাইবার সুরক্ষা আইন পরবর্তীতে সাইবার নিরাপত্তা আইনে পরিণত হলেও বর্তমান আইনে ভুয়া তথ্য, মানহানিকর কন্টেন্ট ও ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলেও তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বর্তমান আইনে এ সংক্রান্ত যে ধারাগুলো রয়েছে সেখানে ভুয়া ও মানহানিকর কন্টেন্টের কোন অভিযোগ আসলে সেগুলো নিয়ে আমরা বিটিআরসিতে লিখি। বিটিআরসি সেগুলো ডাউন করে কোন কোন ক্ষেত্রে"।

তার কাছে প্রশ্ন ছিল এই ধরনের কন্টেন্টগুলো কি শুধুই ডাউন করা যায়? নাকি সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা যায়? এর জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মেটার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি না থাকার কারণে এ নিয়ে খুব একটা সাড়া দেয় না মেটা কর্তৃপক্ষ। যে কারণে এসব কন্টেন্ট ফেসবুক ইউটিউব থেকে সব সময় সরানোও যায় না।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, "চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, সেক্সটর্শন কিংবা জঙ্গিবাদের মতো বিয়ষগুলো নিয়ে যখন কোন অভিযোগ মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে যায় তখন তারা এ সংক্রান্ত কন্টেন্ট অপসারণে গুরুত্ব দেয়। এর বাইরে অন্য কন্টেন্ট নিয়ে খুব একটা সাড়া পাওয়া যায় না"।

সোমবার জাতীয় সংসদে হেলেন জেরিন খান সম্পূরক একটি প্রশ্নে জানতে চান মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না? এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে এখনো এমন বিধান নেই, যার মাধ্যমে মেটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা যায়।

তিনি আরো বলেন, "বিটিআরসি বা অন্য কর্তৃপক্ষ মেটাকে অনুরোধ পাঠালেও তারা অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না। তারা বলে, তোমাদের তো আইনটা ঠিকমতো নাই। সুতরাং আইনি কভার না থাকলে সেটা প্রেসার দেওয়া যায় না। নতুন সংশোধনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়া কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিধান থাকবে।''

কেন্দুয়া

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক

আসাদুল করিম মামুন, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক
ছবি: কালের কণ্ঠ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পর্দা উঠছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। নিজের দেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের এনিয়ে উৎসাহের কমতি নেই। সমর্থকদের মধ্যে হিড়িক পড়েছে পছন্দের দলের জার্সি কেনার। পিছিয়ে নেই নেত্রকোনার কেন্দুয়ার ফুটবলপ্রেমীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  বিশ্বকাপ ঘিরে কেন্দুয়ায় বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানগুলোতে এখন ভীষণ ভিড়। বিভিন্ন এলাকায় দুই দলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তে কোনো কোনে এলাকায় আনন্দ  শোডাউন ও মিছিলও করছে তারা।

সরেজমিন উপজেলার মধ্যবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তারা। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের সমর্থকরা জার্সি কেনার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন। চায়ের কাপে ঝড় তোলা ছাড়াও পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে এখন ফুটবল নিয়ে তুমুল আলোচনা।

গোলাপ নামের এক পোশাক ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য জার্সি বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম একটু বেশি। বিভিন্ন মানের  জার্সি বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জার্সিতে প্রিয় খেলোয়াড় কিংবা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

বেচাকেনা নিয়ে আরেক ব্যবসায়ী রইছ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগেই বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি-পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, খেলা শুরু হলে বিক্রি বাড়বে আশা করি। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে নেইমারের ভক্ত। তাই ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওর নামও লিখে দেবো।’ 

আরেক শিক্ষার্থী  রাকিব বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।

জার্সি কিনতে আসা গৃহিনী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি কিনেছি। বিশ্বকাপ ঘিরে বাসায়ও আলাদা একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’

অন্যদিকে দোকানে ব্যানার তৈরি করাতে আসা ব্রাজিল সমর্থক শফিক ও জাকির বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ১০০ জন মিলে টাকা তুলে বিশাল ব্যানার তৈরি করিয়েছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রিয়দলকে শুভেচ্ছা জানাতেই এই আয়োজন। 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোলাপ ও আয়েশ জানান, তারা বন্ধুরা মিলে জমানো টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির ছবিসহ বড় ব্যানার তৈরি করাচ্ছেন।

ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ী পাপ্পু জানান, নির্বাচন বা ঈদ মৌসুমের মতোই এখন তাদের ব্যবসা চাঙ্গা। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার তৈরি করছেন। কাজের চাপ এতই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারা দিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

ব্রাজিল সমর্থক সাবেক ফুটবলার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটবল মানেই  ব্রাজিল, ব্রাজিল মানে ফুটবল’- এই কথাটা সবারই মানতে হবে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের নৈপুন্য দেখে মূলত আমি ব্রাজিল দল সমর্থন করি। বর্তমানে কেন্দুয়ার পরিবেশটা পুরোপুরি উৎসবমুখর। শহরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সব খেলোয়াড়ই ভালো ফর্মে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হবে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক আয়েশ উদ্দিন বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আমার প্রত্যাশা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবগাথার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬ সালেও। আমার বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতে।

এদিকে, ফুটবলভক্তদের এই উন্মাদনায় কৌতুলী সাধারণ মানুষও। তারা বলছে, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। বর্ণাঢ্য শোডাউন, জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আরো নানা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান দুই দলের সমর্থকরা। 

এব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের ইমন বলেন, ফুটবল একটি ক্রেজ সৃষ্টিকারী খেলা। বাংলাদেশের ফুটবলে জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। সেইসঙ্গে দুই বিশ্ব ফেভারিট দল ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার রেকর্ড ভক্ত রয়েছে এই দেশে। কেন্দুয়ার চিত্র আরো বৃহৎ। এই উন্মদনা অত্যন্ত সুখকর। এর মাধ্যমের যুবসমাজের মাঝে সুস্থধারা তৈরি হয়। দুই দলের পাল্টাপাল্টি যে শোডাউনসহ অন্যান্য কর্মসূচি, তাতে উপজেলাজুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের ফুটবল উন্মাদনা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলাই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বিশ্ব ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠ আসর।

ফুটবল বিশ্বকাপ : হিলিতে বেড়েছে পতাকা বিক্রি

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ফুটবল বিশ্বকাপ : হিলিতে বেড়েছে পতাকা বিক্রি
ছবি : কালের কণ্ঠ

আর মাত্র এক দিন পর পর্দা উঠতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ইতোমধ্যেই মেতে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকার চাহিদা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা বিক্রিতে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ।

বুধবার (১০ জুন) সকালে হিলি গোডাউন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অটোরিকশা ও ভ্রাম্যমাণ স্টলে বিভিন্ন আকারের ফুটবল দলের পতাকা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পতাকা ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পতাকা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে কয়েক দিন ধরে পতাকা বিক্রি করছি। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই বাড়ি, দোকান ও যানবাহনে লাগানোর জন্য পতাকা কিনছেন।

আরো পড়ুন
আবারও ব্রাজিল বনাম মরক্কো: ইতিহাস রিপিট হবে, নাকি বদলে যাবে গল্প?

আবারও ব্রাজিল বনাম মরক্কো: ইতিহাস রিপিট হবে, নাকি বদলে যাবে গল্প?

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিলিতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা শুরু করেছেন। বিভিন্ন সড়ক, বাজার, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চায়ের দোকানে বিশ্বকাপ ও প্রিয় দলকে নিয়ে চলছে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও ভবিষ্যদ্বাণী।

আর্জেন্টিনার সমর্থক আলী আজগর বলেন, বিশ্বকাপ এলেই অন্য রকম আনন্দ কাজ করে। আমরা বন্ধু-বান্ধব মিলে আর্জেন্টিনার পতাকা কিনেছি। আশা করছি, মেসির দল এবারও ভালো খেলবে এবং শিরোপা ধরে রাখবে। তাই আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ব্রাজিলের সমর্থক আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সফল দল। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে এবারও ব্রাজিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করবে বলে বিশ্বাস করি। দলকে সমর্থন জানাতে আমরা পতাকা ও জার্সি কিনেছি। বিশ্বকাপকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পতাকার চাহিদা। আগামী কয়েক দিন বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে হিলিজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি মামলায় উভয়কে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ফেনী প্রতিনিধি
স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি মামলায় উভয়কে কারাগারে পাঠালেন আদালত
সংগৃহীত ছবি

ফেনীতে একে অপরের বিরুদ্ধে করা পৃথক মামলায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজ উদ্দিন এ আদেশ দেন।

জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. সুমন ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একই উপজেলার ভোয়াগ গ্রামের নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। 

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের দুই মাস পর নাসিমা আক্তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সহযোগিতায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় সুমনের বাবা বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা করেন।

অন্যদিকে নাসিমা আক্তার তার স্বামী মো. সুমন এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন।

দুই মামলার শুনানি শেষে পারিবারিক বিরোধ আপসের মাধ্যমে মীমাংসা না হওয়ায় আদালত পৃথক দুই মামলায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় স্বামী মো. সুমন এবং স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা চুরির মামলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।