• ই-পেপার

গুরুদাসপুরে আ. লীগ নেতা সবুজ ফকির গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় জমি বিরোধে কলেজছাত্র খুন, আটক ২

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় জমি বিরোধে কলেজছাত্র খুন, আটক ২

গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাতে ফাহমিদ রূমন (১৯) নামের এক অনার্সপড়ুয়া কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২২) গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের হাজী ছানা মিয়ার ছেলে রাকিবের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে রবিবার রাতে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুহিতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।

তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুহিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাকিব পলাতক রয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

আরো পড়ুন
বিজেপি জোটে যেতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ, স্পিকারকে চিঠি

বিজেপি জোটে যেতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ, স্পিকারকে চিঠি

 

চিকিৎসাধীন আহত ফারদিন রুহিত  জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী ছানা মিয়ার পরিবারের সাথে তাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তারা আমিন দিয়ে পরিমাপ করে তাদের বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করে নেন। নির্ধারিত সীমানায় দেয়াল তুলতে গেলে রাকিবসহ অন্যরা  বাধা দেন এবং তার মা ও ছোটভাই রুমনকে মারধর করে। 

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আমিনবাজার ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রীর, অসন্তোষ প্রকাশ

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আমিনবাজার ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রীর, অসন্তোষ প্রকাশ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, নাগরিক সেবায় দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।সোমবার (৮ জুন) সকালে সাভারের আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকস্মিক পরিদর্শন করে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ভূমি অফিস পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, সেবার মান এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি নানা অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার চিত্র দেখতে পান। এ সময় তিনি ভূমি অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে সেবাপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সেবা নিতে বারবার অফিসে আসতে হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নাগরিক সেবায় এমন দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

আরো পড়ুন
জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে : নাসিক প্রশাসক

জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে : নাসিক প্রশাসক

 

জনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মীর হেলাল বলেন, শুধু সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঠিক উপস্থিতির সময় যাচাই করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কার্যালয়ের তথ্যকেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্কের কার্যকারিতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন রেকর্ডরুম পরিদর্শন করেন এবং নথি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

নামজারি (মিউটেশন) ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবাসংক্রান্ত কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে মিউটেশন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সার্ভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কারণ দর্শানোর (শোকজ) জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া তথ্যকেন্দ্রকে আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সেখানে নির্দিষ্ট জনবল নিয়োগের নির্দেশের পাশাপাশি ভূমি সেবার মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে : নাসিক প্রশাসক

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে : নাসিক প্রশাসক
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ শহরের আখড়া এলাকার জিউস পুকুরকে আধুনিক দিঘিতে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, জলাধার সংরক্ষণ, ধর্মীয় স্থাপনা উন্নয়ন এবং জনসাধারণের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে এলাকাটিকে একটি আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে শহরের আখড়া এলাকায় জিউস পুকুর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমন্বিত উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে একটি গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিউস পুকুরকে সংরক্ষণ করে এটিকে একটি বৃহৎ দিঘিতে রূপান্তর করা হবে। দিঘির চারপাশে ঘাটলা, ওয়াকওয়ে, রেলিং ও সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পানির মান উন্নয়ন করে মানুষের গোসল ও সাঁতার শেখার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরো পড়ুন
চট্টগ্রামে যুবকের মৃত্যু

চট্টগ্রামে যুবকের মৃত্যু

 

নাসিক প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে মডেল মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব এলেও জিউস দিঘিকে কেন্দ্র করেই সেই মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিঘি ও মন্দিরের সমন্বয়ে এলাকাটিকে আরো সুন্দর, প্রাণবন্ত ও দর্শনার্থীবান্ধব করা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা ও ময়লায় ভরাট হয়ে থাকা পুকুরটি ইতোমধ্যে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অবৈধ দোকানপাট অপসারণের পর ভারী যন্ত্রপাতি এনে খনন ও সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। অপসারণ করা ময়লা তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে যাতে পরিবেশ দূষণ না ঘটে।

সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমানে জলাধারটি মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পুকুরটি পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে জনস্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি আরো বলেন, উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দিঘি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে দিঘি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ময়লা-আবর্জনা ফেলে এর সৌন্দর্য নষ্ট করতে না পারে।

ভারত থেকে ফিরেছে ৯১ জেলে ও ৪ ট্রলার

মোংলা প্রতিনিধি
ভারত থেকে ফিরেছে ৯১ জেলে ও ৪ ট্রলার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সমন্বিত উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি জেলে এবং তাদের ৪টি ফিশিং বোট দেশে ফিরেছে। সোমবার (৮ জুন) কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় জেলেদের ও তাদের মাছ ধরার নৌযানসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমাসংলগ্ন ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ৪টি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন জেলেকে আটক করে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলে ও ফিশিং বোটগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরো পড়ুন

বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৪

বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশাচালক নিহত, আহত ৪

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (IMBL)-এ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে ৯১ জন জেলে ও ৪টি ফিশিং বোট গ্রহণ করা হয়।

এরপর সোমবার দুপুর ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেদের তাদের ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কারণে এ ধরনের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম আরো গতিশীল ও সহজতর হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেশের জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।