বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধের বিপরীতে ঘুষ দাবি এবং ঘুষ না দেওয়ায় এক ঠিকাদারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর বাঘা পৌর সভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এসব দাবি করেন ঠিকাদার রবিউল ইসলাম। অভিযোগে তিনি অপর দুই ঠিকাদার শাকিল আহমেদ ও হিরাউল ইসলামকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বাঘা পৌরসভায় কর্মরত প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঘুষ আদায় করে আসছেন। তাঁর দাবি, ঘুষ না দিলে কোনো উন্নয়নকাজের বিল অনুমোদন করা হয় না।’
অভিযোগ অনুযায়ী, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় চারটি প্যাকেজের বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ তিনি ছয় মাস আগে সম্পন্ন করেন। কাজগুলো নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলেও প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম ওই কাজের বিল ছাড়ের জন্য তাঁর কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রবিউল ইসলাম আরও জানান, ঘুষ না দেওয়ায় তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিলের বিষয়ে জানতে তিনি প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তাঁর দিকে চেয়ার তুলে মারতে উদ্যত হন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ বিতরণ করেন এবং ঠিকাদারকে অন্যত্র বদলির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার কয়েকজন ঠিকাদার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, গত দুই বছরে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তারা অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নিম্নমানের কাজ করে অধিক মূল্যের বিল দেখানো হয়েছে।
এছাড়া সড়ক আলোকসজ্জা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তাদের দাবি, সে সময়ের একটি প্রকল্প কমিটির একজন কর্মকর্তা অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করতেও অস্বীকৃতি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার অফিসে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কাউকে মারতে উদ্যত হইনি। বরং স্থানীয় ঠিকাদার হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে রবিউল ইসলাম আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। কাজের চাপের কারণে আমিও কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়ে ছিলাম। তবে তিনি এখন পর্যন্ত বিলের বিষয়ে আমার কাছে কোনো লিখিত আবেদন দেননি। এ কারণেই বিল প্ররিষধ করা হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন , ‘সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




