নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া চৌধূরীপাড়া এলাকায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতন চালিয়ে ফয়জুল মিয়াকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলেন, সজিব আহম্মেদ, মো. উজ্জল, শাফায়েত, মো. রমজান, মো. মামুন, মো. মনির, মো. হানিফ, রকি, আনিসসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন।
জানা যায়, উপজেলার বৈদ্দ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় ছগির আহাম্মেদের ছেলে সজিব আহম্মেদ, ইসমাইল মিয়ার ছেলে রকি ও মনির হোসেন পার্টনারে এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলে। এই নিরাময় কেন্দ্রে স্থানীয় মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার-পরিজনের সদস্যরা এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে পাঠাতেন। এই নিরাময় কেন্দ্রে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার নামে চলতো অমানবিক নির্যাতন। প্রায়ই তাদের উপর লাঠি দিয়ে পেটানো হতো।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে থাকা মাসুদ বলেন, ‘আমাদের উপর প্রায় মারধর করা হতো। নিহত ফয়জুলকে সহ প্রায় ১২ জনকে ওই দিন পিটানো হয়। আমাকেও লাঠি দিয়ে হাতের মধ্যে আঘাত করা হয়েছে।’
নিহত ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম বলেন, ‘তার স্বামীকে মাদক থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ঈদের পর দিন তাকে খাবার দিয়ে যান। বুধবার রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের নির্যাতন তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন।’
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বৈদ্দ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরী পাড়া এলাকায় এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল মিয়াকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার করে হাসপাতালে রেখে নিরাময় কেন্দ্র বন্ধ করে পালিয়ে যায় জড়িতরা।