• ই-পেপার

কিশোরগঞ্জের সেই সানি হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যকে “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future” ধারণ করে কার্বন নিঃসরণরোধী পশুখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন সম্প্রসারণ প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাংলাদেশ।

দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে মহিষের খাদ্য তালিকায় ঘাসের সঙ্গে ডালজাতীয় পশুখাদ্য অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডালজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে থাকা নডিউল বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন মাটিতে স্থির করে, ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে এবং মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহিষের মিথেনসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব, যা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

একদিকে মহিষের গোবরকে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয়, কৃষি উৎপাদন আরও টেকসই হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। অন্যদিকে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যে লালিত মহিষ থেকে প্রাপ্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য মানুষের জন্য উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহিষের দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে সহায়ক।

প্রকল্প পরিচালক ড. সুমনা আক্তার বলেন, ‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে পরিবেশবান্ধব মহিষ পালন, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করছি, অন্যদিকে তেমনি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও অবদান রাখছি। দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই কার্যক্রম টেকসই কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতি আমাদের প্রেরণা, সুস্থ পরিবেশ ও সুস্বাস্থ্য আমাদের অঙ্গীকার।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণ মামলায় পুলিশের চার্জশিট জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ধর্ষণ মামলায় পুলিশের চার্জশিট জমা
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের আদালতে চার্জশিট জমা দেন বাকলিয়া থানা পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, মামলা দায়েরের সাত কার্যদিবসের মধ্যে এবং ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলার নথি ডকেট শাখা থেকে ষষ্ঠ আমলি আদালতে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল রিপোর্ট, আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। সবার সহযোগিতার কারণে দ্রুত তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, চার্জশিটে গ্রেপ্তার মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে এবং এতে ১০ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরদিনই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আসামি মনির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়।

পরে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২২ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মনির হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার পাঘাচং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রেলওয়ে পুলিশ ও ট্রেনের যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্ত নগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর অনতিদূরে অবৈধ লেভেলক্রসিংটি অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। এ সময় মাইক্রোবাসটি রেললাইনে আটকে যায়। ট্রেন আসতে দেখে এর চালক ও যাত্রীরা নেমে যান। তবে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে খাদে গিয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনা খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি খাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, তীরজুড়ে ভাঙন আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, তীরজুড়ে ভাঙন আতঙ্ক
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। নদীতীরবর্তী এলাকায় বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২০ দিন আগে থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করে। ঈদুল আজহার পর থেকে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে যমুনার পূর্বপাড়ে চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, চরবিনানুই, কাঁঠালিয়া ও হিজুলিয়া এবং ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর ও ধীতপুর এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির মালিকরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের কৃষকরাও আবাদি জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করলেও মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজিপুর পয়েন্টে নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জুন, জুলাই ও আগস্ট বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক। ফলে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে। তবে বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।’

নদীভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া খাসকাউলিয়াসহ দুইটি স্থানের বাঁধে ভাঙন দেওয়ায় সেখানে ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কিছু স্থানে বাঁধ নেই, কিন্তু নদীতীর ভাঙছে। এসব এলাকা সমূহে বাজেট স্বল্পতার কারণে এখনই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’