• ই-পেপার

মাদক মামলায় ৬ বছরের সাজা নিয়ে পলাতক আসামি রোমানা গ্রেপ্তার

দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত রামিসা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত রামিসা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের জানাজা শেষে মরদেহ দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) এশার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদি গ্রামের মোল্লা বাড়ির বায়তুল আমান জামে মসজিদের আঙিনায় শিশু রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় রামিসার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয় শিশু রামিসা। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে ফুসলিয়ে তাদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই মুহূর্তেই রামিসার মা তার খোঁজে সোহেল রানার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ার ভয়ে ঘাতক সোহেল রানা বাথরুমের ভেতরেই রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারাল ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এমনকি শিশুটির দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে মরদেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই রুমে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় প্রধান আসামি সোহেল। হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পল্লবী থানার একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।

পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই জঘন্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন
লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ডাকাতের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নিহত বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩) হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  একই সঙ্গে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পরপরই কক্সবাজারের আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। 

পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তুলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় সাধারণ মানুষ, নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। নিহত সেনা কর্মকর্তা লে. তানজিম টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। রামু সেনানিবাস এই তরুণ সেনা কর্মকর্তার স্মরণে রামু ক্যান্টনমেন্ট পরিচালিত স্কুল এন্ড কলেজের নাম দিয়েছে লে. তানজিম স্কুল এন্ড কলেজ। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডাকাত প্রবণ এলাকা পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহসী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩)। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মামলা সূত্রে আরো জানা গেছে, ঘটনার রাতে ডুলাহাজারা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়ি ডাকাতি করার সময় রামু সেনানিবাসের মেজর উজ্জলের নেতৃত্বে ৩২ জন সেনার একটি চৌকস দলসহ যৌথবাহিনী ডাকাত দলকে ধরার জন্য ওঁৎ পেতে ছিলেন। ডাকাতদল সেনা উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় মোরশেদ নামের এক ডাকাতকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরেন লে. তানজিম। 

অনেক ধস্তাধস্তির পর ডাকাত মোরশেদ ছাড়া না পেয়ে অপর সঙ্গীয় ডাকাত আমিন, নাসির ও হেলালকে ডাক দেয়। তখন তারা তিন ডাকাত এসে লে. তানজিমকে তার ঘাড়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেয় মোরশেদকে। তানজিমের গায়ে জ্যাকেট পরিহিত থাকায় ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় ঘাড় ও গলা। আহত তরুণ সেনা কর্মকর্তা লে. তানজিমকে রামু সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন চকরিয়া থানায়। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা করেন। পরে তদন্তভার পান চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবিলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে জানান- ‘মামলায় ১৮ আসামির মধ্যে ১৩ জনের শাস্তি হয়েছে এবং অপর ৫ জন খালাস পেয়েছেন। ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।’

তিনি জানান, মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জন আসমি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার কথা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেছেন। মামলায় স্বাক্ষী ছিলেন ৫২ জন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি হচ্ছেন- মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন, মোরশেদ আলম (পলাতক) ও নাসির উদ্দিন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- জালাল উদ্দিন, মো. আরিফ উল্লাহ, মো. আনোয়ার হাকিম, মো. ইসমাইল হোসেন প্রকাশ হোসেন, এনামুল হক এনাম ওরফে তোতলা এনাম, মোহাম্মদ কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল, মোহাম্মদ এনাম, আবদুল করিম প্রকাশ মো. করিম ও জিয়াবুল করিম। 

খালাস প্রাপ্তরা হলেন- মোহাম্মদ ছাদেক, আনোয়ার ইসলাম, শাহ আলম, আবু হানিফ ও মিজবাহ উদ্দিন। দণ্ডিতরা সবাই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা এলাকার বাসিন্দা।

তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে এজাহারভুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার শুরু থেকেই ঘটনার বিষয়টি আলোচিত ছিল। নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

৩০ মণ ওজনের ‘আদর’ এখন সবার নজরে, দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৩০ মণ ওজনের ‘আদর’ এখন সবার নজরে, দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কোরবানির ঈদের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে, এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ব্রাহামা জাতের বিশাল আকৃতির গরু ‘আদর’। প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ব্যতিক্রমী আকৃতি, দীর্ঘদিনের পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসম্মত লালন-পালনের কারণে ইতোমধ্যে স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে গরুটি নিয়ে।

পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মেসার্স এ কে এগ্রো খামারে বেড়ে ওঠা ‘আদর’কে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিনের পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গরুটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির বাজারের জন্য।

খামারটির পরিচালক আবদুল কাদের বলেন, ‘আদর’ আমাদের খামারের সবচেয়ে প্রিয় গরু। ছোটবেলা থেকেই তাকে সন্তানের মতো যত্নে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার, ঘাস, ভুসি, খৈল ও শস্যজাত খাদ্য দিয়ে তাকে লালন-পালন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ৩০ মণ। বাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে দেখছেন। অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা এর মূল্য ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ১০ লাখের নিচে এ গরু বিক্রি করব না। প্রয়োজনে আগামী বছরের জন্য প্রস্তুত করে রাখব।

খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘আদর’-এর দৈনিক খাবারের পেছনেই ব্যয় হয় হাজার টাকা। গরুটির বিশাল দেহাকৃতি ও শান্ত স্বভাব দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। অনেকেই গরুটির সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, এত বড় গরু এই এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ শুধু গরুটি দেখতে আসছে। এটি এখন একপ্রকার আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

দর্শনার্থী আবু তৈয়ব বলেন, গরুটির গঠন ও পরিচর্যা দেখে বোঝা যায় অনেক শ্রম দেওয়া হয়েছে। বাজারে এমন গরুর চাহিদাও থাকে বেশি।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশীয় খামারিদের উৎসাহিত করতেই তারা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দেশীয় খামারের গরুর প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং এবারও কোরবানির বাজারে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে জানান তারা।

গোপালগঞ্জে চোর সন্দেহে রিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে চোর সন্দেহে রিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশাচুরির অভিযোগে আলামীন শেখ (৩০) নামে এক রিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২০ মে) রাতে গোপালগঞ্জ শহরের মধ্য মিয়াপাড়ার শরীফ লিটন সড়কের ডা. এম ডি রবিউল ইসলাম তুহিনের বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুরের রুমের বাথরুম থেকে ওই রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি তদন্ত নয়ন চন্দ্র দেবনাথ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুরের গ্যারেজের ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতো আল আমিন শেখ। দুই দিন আগে ওই গ্যারেজ থেকে একটি রিকশা চুরি হলে আল আমিন চুরি করেছে বলে সন্দেহ করা হয়।

বুধবার (২০ মে) আল আমিনকে ওই বাসায় আটকে রেখে মারধর করা হয়। এসময় আল আমিনের মাকে গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হলে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ পান। পরে তিনি ডাকাডাকি করলে অভিযুক্ত কামরুলের ছেলে দরজা খুলে দিলে ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের মধ্যে ছেলেকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুর পলাতক রয়েছে। নিহত রিকশাচালক আল আমিন শেখ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় গ্রামের মৃত ফায়েক শেখের ছেলে।