• ই-পেপার

কুড়িগ্রামে গাছ থেকে পড়ে ব্যক্তির মৃত্যু

খুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে পৃথক বাজার

খুলনা অফিস
খুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য হচ্ছে পৃথক বাজার
ছবি: কালের কণ্ঠ

খুলনায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য পৃথক বাজার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে অর্থনীতির উন্নতি হবে না। তাই কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারীদের জন্য স্থায়ী জায়গা খুঁজছে কেসিসি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুতই এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় অন-জব ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাগ্রত যুব সংঘ-জেজেএস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানটি জেজেএস’র লস অ্যান্ড ড্যামেজ স্পেশাল ইনিসিয়েটিভ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন
কাতান শাড়ি: বাঙালি নারীর আভিজাত্যের চিরন্তন গল্প

কাতান শাড়ি: বাঙালি নারীর আভিজাত্যের চিরন্তন গল্প

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে যারা ঘরবাড়ি হারিয়ে খুলনা শহরে আশ্রয় নেন, তাদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে যেসব পরিবারে কর্মক্ষম নারী রয়েছেন, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে এদের মধ্যে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক ক্ষতি আছে, যা অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। যাকে নন ইকোনমিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের হাতে ২৭ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

মাদারীপুরে ৩ পিকআপসহ চোরচক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজৈর(মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরে ৩ পিকআপসহ চোরচক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দর সংলগ্ন নয়াকান্দি থেকে চুরি হওয়া একটি পিকআপ শিবচর উপজেলার পাচ্চর ব্রিজের নিকট একটি গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করেছে রাজৈর থানার পুলিশ। এ সময় ওই গ্যারেজ থেকে আরো দুটি চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হয় এবং গাড়ি চুরির সাথে জড়িত গ্যারেজ মালিক ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক অন্তর বিশ্বাস নামক আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজৈর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য দেন রাজৈর শিবচর সার্কেল এএসপি মো.সালাউদ্দিন কাদের।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার হামিদ মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লা এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি গ্রামের মধু বিশ্বাসের ছেলে অন্তর বিশ্বাস। তাদের দুজনকে জেলাহাজতে পাঠানো হয়েছে ।

রাজৈর শিবচর সার্কেল এএসপি মো. সালাউদ্দিন কাদের জানান, গত ৮ মে সন্ধ্যায় টেকেরহাট গোপালগঞ্জ সড়কের রাজৈর উপজেলাধীন নয়াকান্দি এলাকার রাস্তা থেকে রিপন শেখের একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো ড ১২-৬৭০৬) চোর চক্র নিয়ে যায়। গাড়ির মালিক রিপন শেখের বাড়ি নয়াকান্দি এলাকায়।

তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার (১৭-৫-২৬) রাতে চোরাই পিকআপসহ আরো দুটি গাড়ি ফারুক মোল্লার গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। 

এ সময় রিমান্ডে নেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে গাড়ি চোরচক্রের আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।

গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ৪ গ্রাম, আহত অন্তত ১০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ৪ গ্রাম, আহত অন্তত ১০
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে আকস্মিক কালবৈশাখীতে চারটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সোমবার (১৮ মে) ভোরে মাত্র পাঁচ মিনিটের প্রলয়ংকরী এ ঝড়ে দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে কালবৈশাখী ও টর্নেডো ধেয়ে আসে। অল্প সময়ের এই ঝড়ে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমোহন ও চর কাউয়াবাঁধা গ্রাম, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের বুলবুলির চর এবং সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের খারজানি চরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঝড়ের তীব্রতায় শত শত কাঁচা ও টিনের ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম শফি ও হেদায়তুল্লাহ বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ে গ্রামের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়।’

গৃহবধূ জান্নাতুল বলেন, ‘ঝড়ে ঘরের চাল উড়িয়ে বহু দূরে নিয়ে ফেলেছে। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। ঘরের আসবাবপত্র ও খাবার সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরো অনেক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

কামারজানি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আসাদুজ্জামান জানান, ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

কোরবানি আসছে, ঝনঝনানিতে মুখর কামারশালা

প্রবীর সাহা, পাবনা
কোরবানি আসছে, ঝনঝনানিতে মুখর কামারশালা
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর গ্রামের একটি কামারশালায়। রবিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

কোরবানির ঈদ এলেই প্রাণ ফিরে পায় কামারশালা। কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ে। লোহার গরম পাতের ওপর একের পর এক ঢপাঢপ হাতুড়িপেটা। তারপর ঝুড়িতে পড়তে থাকে সদ্য প্রস্তুত করা দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি। তার ঝনঝনানিতে ঘরগুলো মুখর হয়ে ওঠে। 

এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। পাবনার আটঘরিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামীণ জনপদে এখন কামারদের কর্মচাঞ্চল্য। গুরুত্ব বেড়েছে বহুকালের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্পের। 

সরেজমিনে আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজার, আটঘরিয়া বাজার, খিদিরপুর বাজার, গোড়লী বাজার, একদন্ত বাজার, লক্ষ্মীপুর বাজার ও চৌবাড়ীয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কামারপল্লী ও বাজারে ব্যস্ততা দেখা গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঝনঝন শব্দের ভেতর সময় পার করছেন কামাররা। আগুনের ভাটিতে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করছেন কোরবানির মাংস কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

ঈদকে সামনে রেখে পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি, কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পুরনো সরঞ্জামে ধার দেওয়ার কাজও চলছে। 

পাবনার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ নতুন দা-ছুরি কিনছেন, আবার কেউ পুরনো সরঞ্জাম মেরামত ও ধার দিতে আসছেন। শুধু কোরবানির সরঞ্জামই নয়, চলতি মৌসুমে ধান কাটার কাঁচি, পাটের নিড়ানি, কোদাল, কাস্তে, লাঙলের বিভিন্ন অংশসহ কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। 

একদিকে ঈদুল আজহা ঘিরে কোরবানির সরঞ্জাম তৈরির চাপ, অন্যদিকে ধান-পাট মৌসুমে কৃষি সরঞ্জামের চাহিদা- সব মিলিয়ে কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। কেউ কেউ নিজেদের তৈরি দা, ছুরি, কাস্তে, নিড়ানি ও কৃষি যন্ত্রপাতি স্থানীয় হাটে ঘুরে বিক্রি করছেন। এতে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে যাওয়ায় বাজারে কামারশিল্পের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজার এলাকার কামার দুলাল বলেন, ‘ঈদুল আজহা সামনে থাকায় কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও অর্ডার শেষ করতে পারছি না।’ একই এলাকার কামার বিল্লাল বলেন, ‘কোরবানির সরঞ্জামের পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতির কাজও বেশি আসছে। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও আমরা চেষ্টা করছি মান ঠিক রেখে কাজ করতে।’

দেবোত্তরের কামার লাল চাঁদের ভাষ্য, ‘এই সময়টায় আমাদের আসল মৌসুম। ঈদ ও কৃষি কাজ মিলিয়ে কাজের চাপ অনেক বেশি, তাই বিশ্রামের সুযোগ কম।’ আটঘরিয়ার খিদিরপুর বাজারের কামার অর্পণ কর্মকার বলেন, ‘ঈদ সামনে থাকায় দা, ছুরি, চাপাতি তৈরি ও ধার দেওয়ার কাজ অনেক বেড়েছে। ক্রেতাদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’ 

চৌবাড়ীয়া বাজারের কামার বৈদ্যনাথ কর্মকার বলেন, ‘ধানকাটা ও পাটের মৌসুম হওয়ায় কৃষি সরঞ্জামের চাহিদাও বেড়েছে। একসঙ্গে  দুই ধরনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।’ একই বাজারের কামার আনন্দ কর্মকার বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার শেষ করা যাচ্ছে না। ঈদের সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ 

পলাশ কর্মকারের ভাষ্য, ‘আগে শুধু ঈদের সময় কাজ বেশি হতো।  এখন কৃষি মৌসুম থাকায় সারা বছরই চাপ থাকে, তবে ঈদে সেটা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’