রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চার বছর বয়সী শিশু হুমায়রা জান্নাতকে অপহরণের পর হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
রবিবার (১৭ মে) দুপুর থেকে উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে হাজারো নারী-পুরুষ অংশ নেন। অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধেও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা নিহত শিশুর মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যান। এতে সড়কে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন ও পথচারী আটকা পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাজুখলসী গ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে হুমায়রা জান্নাত নিখোঁজ হয়। পরে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।
শনিবার সকালে শিশুটির সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিবার। একই দিন সকালে শিশুটির বাবার মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে শনিবার দুপুরে প্রতিবেশী রাজিবের বাড়ির পাশের একটি খেজুর গাছের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমার মেয়েকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি খেজুর গাছের নিচে রেখে যায়। এ বিষয়ে থানা পুলিশকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি আমার মেয়ের লাশের পোস্টমর্টেমও করতে দেওয়া হয়নি। যতক্ষণ না আমার মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হবে, ততক্ষণ এ বিক্ষোভ চলমান থাকবে।’
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’




