• ই-পেপার

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ের প্রতিবাদে মেহেরপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

কর্মীর কবর জিয়ারতে এমপি জিন্নাহ কবির, আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
কর্মীর কবর জিয়ারতে এমপি জিন্নাহ কবির, আদর্শ অনুসরণের আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুর কাদেরের কবর জিয়ারত করেছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার তেওতা গ্রামে মরহুমের বাড়িতে গিয়ে তিনি কবর জিয়ারত, দোয়া ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, ‘কাদের চেয়ারম্যান আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। কখনো নেশা, জুয়া কিংবা কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমি আমার সব নেতা-কর্মীদের বলব, আপনারা মরহুমের জীবনাদর্শ অনুসরণ করুন। কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে দলীয় পরিচয়ে তাকে রক্ষা করা হবে না। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরে তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

মরহুম আব্দুর কাদেরের বড় ভাই ও তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি শিবালয় উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুর কাদের। চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘হৃদরোগ, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে কয়েকদিন আগে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন আব্দুর কাদের। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। কিন্তু জরুরি কাজে ঢাকায় থাকায় জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি এমপি জিন্নাহ কবির। তবে শনিবার তিনি কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে আসেন।’

কবর জিয়ারতের সময় মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরে পাশ্ববর্তী জাফরগঞ্জ এলাকায় শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নার কবরও জিয়ারত করেন এমপি জিন্নাহ কবির ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

মোবাইল কিনে না দেওয়ায় কিশোরীর আত্মহত্যা

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
মোবাইল কিনে না দেওয়ায় কিশোরীর আত্মহত্যা
সংগৃহীত ছবি

বাবার কাছে মোবাইল চেয়ে না পেয়ে রমজানা (১৪) নামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনদী গ্রামে। আহত অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে গলাচিপা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মইনুল।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রতনদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমিনুল ইসলামের মেয়ে রমজানা। রমজানা গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত কয়েকদিন ধরে বাবা-মায়ের কাছে নতুন মোবাইল ফোন কেনার আবদার করে। এসএসসি পরীক্ষার পর ফোন কিনে দেবে বললেও ক্ষুব্ধ হয় রমজানা। ঘরের অন্য সদস্যরা বারান্দায় বসে কথা বলছিল।

এসময় রমজানা তার শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর রমজানার মা পপি বেগম মেয়ে রমজানাকে ডাকলে কোনো সাড়া দেয় না। পরে মা পপি বেগমের ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রমজানাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট করে।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই মইনুল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। গলাচিপা থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে। 

দেশে অনুপ্রবেশকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
দেশে অনুপ্রবেশকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগ আমলে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামসকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী দহগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় দুটি কূটনৈতিকসহ তার ৭টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ভারত থেকে অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করেছিলেন।

সাব্বির বিন শামস আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রধান নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। এ ছাড়া লন্ডন হাইকমিশনে মিনিস্টার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি লালমনিরহাট শহরে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে।

রাত ৮টার দিকে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আপাতত দুদকের একটি মামলার তথ্য পেয়েছি। সাব্বির বিন শামসকে লালমনিরহাট নিয়ে আসা হচ্ছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো যাবে।

বেহেশতের কার্ড কিনলে ঠকে যেতেন নগদে : এমপি আবুল খায়ের

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বেহেশতের কার্ড কিনলে ঠকে যেতেন নগদে : এমপি আবুল খায়ের
সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেছেন, ‘কুশাখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিগত নির্বাচনে তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনারা বেহেশতের কার্ড কিনেননি। এখন আপনাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বেহেশতের কার্ড কিনলে কিন্তু ঠকে যেতেন নগদে।’

শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী এ্যানি চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে চাঁদপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২৫১ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

এ সময় আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে প্রথম বক্তব্যে বলেছিলেন আই হ্যাভ আ প্ল্যান। তার অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বাবা ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং মা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সন্তান আজকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখানে কোনো দুর্নীতি হবে না, স্বজনপ্রীতি হবে না। নির্বাচনে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি, আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশের হাল কেউ না কেউ তো ধরতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধরেছিলেন, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ধরেছিলেন। তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে ইতিমধ্যে আপনারা টের পেয়েছেন।’

এই সাংসদ আরো বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দেশে নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি ও নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে। বেগম খালেদা জিয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষার কর্মসূচি দিয়েছেন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছেন উপবৃত্তি সহকারে। উপমহাদেশের ইতিহাসে যেভাবে একজন নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, এটি বিরল।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাবউদ্দিন সাবু, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াপ্রু মারমা ও সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ প্রমুখ।