• ই-পেপার

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ের প্রতিবাদে মেহেরপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহে দলিল লেখক জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৩০ হাজার টাকা করে এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এহসানুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ফরিদ খলিফা ও মাসুদ মিয়া। মাসুদ মিয়া পলাতক রয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আব্দুল মতিন, আব্দুস সামাদ, মোশারফ হোসেন মোসা, মোফাজ্জল হোসেন মোসা, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, নাজমুল মিয়া,  মোখলেছুর রহমান, শাহজাহান আকন্দ, আতিকুল ইসলাম ও সিদ্দিক মিয়া।
যাব্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সিদ্দিক মিয়া পালাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নারাঙ্গী গ্রামের দলিল লেখক জাকারিয়াকে লাঠিসোঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে আসামিরা। এ ঘটনায় ভালুকা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

১৬ জুলাইকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বিজিবি মোতায়েন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ জুলাইকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বিজিবি মোতায়েন
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিগত বছরের ১৬ জুলাইয়ের সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিন সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও নজরদারি চালাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘বিগত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এবছর কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আশা করছি, কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।’

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এতে সভাস্থল থেকে শহরের বাজার এলাকা হয়ে পাচুড়িয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

নিহতরা হলেন- জেলা শহরের উদয়ন রোড এলাকার সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা, থানাপাড়া এলাকার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী, সদর উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার, বেদগ্রামের রমজান মুন্সী এবং সোহেল রানা।

সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। অপরদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের বাগেরহাটের প্রবেশদ্বার মোল্লারহাট সেতু পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউও ঘোষণা করা হয়।

ভারি বর্ষণে ধসে গেছে সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভারি বর্ষণে ধসে গেছে সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী হাটসংলগ্ন পিয়াজখালী-চন্দ্রপাড়া সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

জানা গেছে, পিয়াজখালী বাজার থেকে চন্দ্রপাড়া হয়ে ফরিদপুর-তাড়াইল সড়কের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া পিয়াজখালী এলাকার শয়তানখালী ঘাট থেকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি বড় অংশ ধসে গেছে। অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় সেটিও ধসে পড়তে পারে। এতে পুরো সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কসংলগ্ন কয়েকটি পাকা দোকানঘরও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।’

অটোরিকশাচালক সালাম শেখ বলেন, ‘বলাশিয়া ঘাট থেকে বিভিন্ন মালামাল এই সড়ক দিয়ে পিয়াজখালী হাটে আনা-নেওয়া করা হয়। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’

সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সড়ক ধসের বিষয়টি আমরা জেনেছি। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই সমস্যা আর না হয়। খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।’

মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে যুবককে পিটুনি

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে যুবককে পিটুনি
ছবি: কালের কণ্ঠ

যশোরের অভয়নগরে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে তৌহিদ সরদার (৩২) নামে এক যুবককে পিুটনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের সুন্দলী কাঁচাবাজর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত তৌহিদ সরদার যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বসুন্দিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী সরদারের ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ১১টার দিকে সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল চুরি করতে গেলে তৌহিদ সরদার নামের এক যুবককে স্থানীয়রা ধরে ফেলেন। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ বলেন, ‘পিটুনির শিকার যুবকের শারীরিক অবস্থা ভালো না। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে পিটুনির শিকার যুবককে সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ের প্রতিবাদে মেহেরপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ | কালের কণ্ঠ