<p>মৌলভীবাজার জেলায় টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওর এবং মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ২১৬০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি না কমায় সময় যতই যাচ্ছে ততই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়ে কৃষি অধিদপ্তর।</p> <p>বৃষ্টিপাত না হলে কিছুটা খুশির ঝিলিক কৃষকদের মনে জাগে। টানা বৃষ্টিপাতে কৃষকদের মধ্যে আরো বেড়ে গেছে দুশ্চিন্তা। অনেকেই জমির পাশে গিয়ে দেখছেন তার ডুবন্ত ফসল ভেসে উঠছে কি না। এমন চিত্রই হাওর এলাকায় গেলে দেখা যায়।</p> <p>এছাড়া সদর উপজেলার কাছেই কাঞ্জার হাওর ও অন্যান্য ছোট হাওরে বোরো ধান ছয় দিন থেকে তলিয়ে আছে। এসব ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। যারা ধান কেটে স্তুপ দিয়ে রেখেছেন, সেগুলো সূর্যের আলো না থাকায় অংকুর চলে আসছে। চোখের সামনে বোরো ধানের ক্ষতি দেখে কৃষকরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।</p> <p>হাওর এলাকায় রয়েছে শ্রমিক সংকট। জমিতে পানি অতিরিক্ত থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা অতিরিক্ত পানিতে নেমে ধান কাটতে চান না।</p> <p>মনু প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদিঘি হাওরে বোরো ধান তলিয়ে পঁচে যাচ্ছে। প্রকল্পের পাম্প সচল না রাখার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হাকালুকি হাওরেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।</p> <p>হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষক খছরু মিয়া (৫৪) ও আমজাদ হোসেন (৫৫) আলী হোসেনসহ অনেকে বলেন, ‘সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কি দেব? আর ঋণই বা কিভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় চোখে ঘুম আসে না।’</p> <p>পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, প্রকল্পের ভেতর কাউয়াদীঘির হাওরে বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বাড়ছে। এক সঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। যদি বৃষ্টি কম হয়, তাহলে ৫-৬ দিনের মধ্যে পানি কমা সম্ভব হবে। এখন যতটুকু নিষ্কাশন হচ্ছে তার চেয়ে বেশি পানি আবার চলে আসতে বৃষ্টির কারণে।</p> <p>তিনি আরো বলেন, ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ৮টি পাম্প চালাতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তবে আড়াই মেঘাওয়াট লোড পাচ্ছি। এ কারণে ৮টি পাম্পের মধ্যে ৬টি চালাতে হয়।</p> <p>মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলার ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এ পর্যন্ত ২১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি না কমলে ক্ষতি দিন দিন বাড়বে। ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে এবার আবাদ করা হয়েছে।</p> <p>শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৩৩.৬ মিলিমিটার। গত এপ্রিল মাসে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৮৩ মিলিমিটার। তার মধ্যে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩১৫ মিলিমিটার।</p>