• ই-পেপার

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

নিষ্প্রভ রোনালদো, পতুর্গালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
নিষ্প্রভ রোনালদো, পতুর্গালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর চমক
রোনালদোর চোখেমুখে হতাশার ছাপ। ছবি: সংগৃহীত

পতুর্গাল ১-১ ডিআর কঙ্গো
 

সকালে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন। রাতে সবার চোখ ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে; রোনালদো পর্তুগালের হয়ে কী করেন। কিন্তু রোনালদো সবাইকে হতাশ করলেন। 

রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই হতাশায় মাথা নাড়লেন রোনালদো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরই মাঠ ছাড়লেন। ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার ধারেকাছেও যে পারফর্ম করতে পারেননি, সেটা তিনি নিশ্চয় অনুধাবন করতে পেরেছেন। নিজে ভালো খেলতে না পারলেও দল জিতলে না হয় সান্ত্বনা খুঁজে পেতেন। হয়তো মুখে হাসি লেগে থাকত। 

কিন্তু সেসবের কিছুই হয়নি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই পর্তুগালের সোনালি প্রজন্মকে চমকে দিল ডিআর কঙ্গো। তারকায় ঠাসা পর্তুগিজদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল আফ্রিকার দেশটি। ফলে হতাশায় শুরু হলো রোনালদো-ফার্নান্দেজ-সিলভাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল ডিআর কঙ্গোর। সেই সময় দেশটির নাম ছিল জায়ার। সেবার তারা গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল। তিন ম্যাচে তারা ১৪টি গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে পারেনি একটিবারও।

জায়ার থেকে ডিআর কঙ্গো নাম ধারণকারী দেশটা আজ নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল। সেটাও পতুর্গালের মতো শিরোপার অন্যতম দাবিদার দলকে রুখে দিয়ে।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। তখন অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন, রবার্তো মার্তিনেজের দল বড় ব্যবধানে জিততে চলেছে। 

কিন্তু ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতা আনে ডিআর কঙ্গো। গোল করেন ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ইওয়ান উইসা। 

মেসিই সর্বকালের সেরা—মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিই সর্বকালের সেরা—মেনে নেওয়ার আহ্বান রোনালদোর
সংগৃহীত ছবি

সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? সহজ এই প্রশ্নে পৃথিবী কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ টেনে আনেন পেলে, ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিকে। কারো ভোট যায় লিওনেল মেসির বাক্সে। আরেক মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গও টানেন কেউ কেউ।

অধিকাংশ ব্রাজিল সমর্থক কিংবা দেশটির সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়ের চোখে, পেলে থাকেন সবার ওপরে। তবে চেনা পথে হাঁটেননি রোনালদো নাজারিও। ব্রাজিলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। এ সত্যটি সবার মেনে নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তা সর্বকালের সেরার প্রসঙ্গটি আবার এল কেন? আজ সকালে বিশ্বকাপের ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। তাঁর হ্যাটট্রিকে ভর করে আফ্রিকার দেশটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।

আজকের ম্যাচের গোল তিনটি নিয়ে বিশ্বকাপে মেসির গোল হয়ে গেল ১৬টি। যা যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসানোর পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন গার্ড মুলার-রোনালদোকে।

তবে এসব রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই মেসির। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেছেন, ‘ক্লোসা ও রোনালদোর (নাজারিও) মতো খেলোয়াড়দের পাশে থাকা অবশ্যই সম্মানের। এমন তালিকায় থাকলে ভালো লাগে। এমবাপ্পেও সেখানে আছে, ও আজ দুটো গোল করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

মেসি যোগ করেন, ‘তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্মানের, কিন্তু আসলে এর আলাদা কোনো মানে নেই। যে রোনালদোকে আমি খেলতে দেখেছি, আমার কাছে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা। অথচ তিনিএই তালিকার শীর্ষে নেই। তাই এগুলো শুধু সংখ্যার হিসাব মাত্র।’

নিজে বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়ার পরও রোনালদোর প্রতি সম্মান জানান মেসি। ব্রাজিলের সাবেক মহাতারকার থেকে ফিরতি প্রশংসা আসতেও সময় লাগেনি বেশি। তিনি তো মেসিকে সর্বকালের সেরার তকমাই দিয়ে দিলেন। 

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে রোনালদো বলেছেন, ‘আর লুকিয়ে না থেকে সত্যটা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে। সে-ই (মেসি) সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’ রোনালদো যোগ করেন, ‘ও প্রতি মৌসুমে, এমনকি বিশ্বকাপেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে। এটা একটা অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক রাত, যা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’

মেসির নিত্যনতুন রেকর্ড গড়া প্রসঙ্গে রোনালদো জানিয়েছেন, এসব আর তাঁকে অবাক করে না। রোনালদোর ভাষায়, ‘রেকর্ড তো গড়াই হয় ভাঙার জন্য। আর যে এসব রেকর্ড ভাঙছে, তা আর কোনো ফুটবল ভক্তকেই অবাক করে না। এছাড়া আর্জেন্টিনা তো বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন।’

দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
দেখে নিন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশ
অনুশীলনের মাঝে কোচের সঙ্গে হাসিমুখে রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

কিংবদন্তি ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে নিশ্চিতভাবেই পতুর্গালের বেশ কজন থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইউসেবিও, লুইস ফিগো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

কিন্তু বিশ্বকাপজয়ীদের তালিকা করলে থাকবেন না কেউই। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ীদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য তৃতীয় স্থান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেই দলে ছিলেন ইউসেবিও। ২০০৬ সালে ফিগো-রোনালদো জুটিও পর্তুগালকে শেষ চারে জায়গা এনে দিয়েছিল।

দুই পূর্বসূরি পারেননি নিজ দেশকে শিরোপা এনে দিতে। এবার কি পারবেন ‘সিআর সেভেন’। লিওনেল মেসি-গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বয়স ৪১ হওয়ায় অমরত্ব লাভের এটাই শেষ সুযোগ তার। সেই লক্ষ্য পূরণে এবার পাশে পাচ্ছেন নিজেদের ইতিহাসের সোনালি প্রজন্মকে।

আজ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই অভিযান শুরু করবেন রোনালদোরা। অভিযানে কারা নামছেন প্রথম ম্যাচের একাদশে তা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। 

রোনালদোকে নিয়েই আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন মার্তিনেজ। ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সঙ্গী হবেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতো। 

পর্তুগালের একাদশ-

দিয়োগো কস্তা (গোলরক্ষক), জোয়াও ক্যানসেলো, রেনেতো ভেইগা, তোমাস আরাউহো, নুনো মেন্দেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।

থাইল্যান্ডে নেশনস কাপে তৃতীয় বাংলাদেশের রয়েল অরেঞ্জ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
থাইল্যান্ডে নেশনস কাপে তৃতীয় বাংলাদেশের রয়েল অরেঞ্জ
থাইল্যান্ডে তৃতীয় হওয়ার পুরস্কার হাতে ফটোসেশন রয়েল অরেঞ্জের। সৌজন্য ছবি

থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থিমের ৭-এ-সাইড নেশনস কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে রয়েল অরেঞ্জ।

১০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের দলটি। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে রয়েল অরেঞ্জ। দ্বিতীয় ম্যাচে মায়ানমারের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হলেও দলটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।

পরবর্তী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙে বাংলাদেশের দলের।

তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আবারও শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তৃতীয় স্থান অর্জনের গৌরব নিয়ে।

ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফুটবলার আরমান হোসেন। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে রয়েল অরেঞ্জের এই অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।