নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়া (৪০) নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনও বুলবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নাজিম উদ্দিনের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুন ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মোস্তাফা মিয়া। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ওইদিন ভোরে আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের সমর্থকরা এলাকায় প্রবেশ করে হামলা চালায়। পরে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে সংঘর্ষের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। পরদিন মেঘনা নদী থেকে কাউছার মিয়ার এবং তার পরদিন আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মোস্তাফার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা চারজনে পৌঁছেছে। এছাড়া রাজু মিয়া নামে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনিক হত্যার ঘটনায় তার মা ৩০ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত চারটি মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গুলিবিদ্ধ মোস্তাফা মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা চারজন। একটি হত্যা মামলা হয়েছে, অন্য তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
ঘটনার পর থেকে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।






