• ই-পেপার

বিলের পাড়ে পড়ে ছিল অটোরিকশাচালকের মরদেহ

খুলনায় দুলাভাই-শ্যালক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

খুলনা অফিস
খুলনায় দুলাভাই-শ্যালক হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি

খুলনায় দুলাভাই-শ্যালক হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা দেন। 

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, সিদ্দিক, ওয়াসিম ওরফে দাদা ওয়াসিম ও জব্বার। এদের মধ্যে গাড়ি ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর গ্রামের শেখ মহিউদ্দিনের ছেলে মো. হায়দার ওরফে কানা হায়দার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি মাটিয়াপুল এলাকার ফারুকের মেয়ে মর্জিনা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি সেখানে বসবাস করতেন। তার সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামি রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে কানা সিদ্দিক, সিদ্দিক, নাসির, মুক্তা ও বেটে রফিকের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। 

২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টার দিকে আসামিরা রামদা, ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দারের ঘরে প্রবেশ করে তার বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। সে সময় তার আর্তচিৎকারে শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার সময় হায়দারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে হায়দার ও তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু মারা যান। 

এ ঘটনায় নিহত হায়দারের ভাই তৈয়ব আলী হয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১০ সালের ১৩ আগস্ট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। 


 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশের (নাসিব) জেলা শাখার আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান সেলিম রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগের সদস্যসচিব আরিফুজ্জামান সোহেল।

বক্তারা দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের বিকাশে মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ আরো জোরদারের আহ্বান জানান।

মেলায় পোশাক, প্রসাধনী, খেলনা, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ৫৪টি স্টল অংশ নিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সোনাসহ পাচারকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সোনাসহ পাচারকারী আটক
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ৮টি সোনার বারসহ মো. মিজানুর রহমান (৬১) নামের এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। আজ (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের কাছে গোপন তথ্য আসে যে দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনার একটি চালান ভারতে পাচারের চেষ্টা হতে পারে। তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিপুর বিওপিকে সতর্ক করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ টহলদল মোতায়েন করা হয়।

বিজিবি আরো জানায়, আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়কে এলে বিজিবি টহলদল সন্দেহজনকভাবে তাকে থামায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কোমরে লুঙ্গির ভাঁজে টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি প্যাকেট থেকে ৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা। এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং তার ব্যবহৃত  ডিওয়াই-৫০ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

আটক মো. মিজানুর রহমান চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত সোলেমান মোল্লার ছেলে। তাকে দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জব্দকৃত সোনা সরকারি বিধি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০১৫ সালের একটি হত্যা মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. ইউনুস আকনের ছেলে মো. কামরুল আকন এবং চরকখালী গ্রামের মো. টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার। খালাস পাওয়া আসামি হলেন একই উপজেলার মো. ইউসুফ আকন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে পূর্বশত্রুতার জেরে মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার বেতমোর বাজারে মো. হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ওই দিনই মঠবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার ও ইউসুফ আকনের নাম উল্লেখ করে আরো দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার সাক্ষ্য–প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত কামরুল আকন ও সোহাগ হাওলাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইউসুফ আকনকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আকন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।