• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু

বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুড়িগ্রামে কৃষক সমাবেশে যোগ দেবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস মার্কেটে এনসিপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলার টগরাইহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেল তিনটায় এ কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাহিদ ইসলাম। প্রধান বক্তা থাকবেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতিকে স্মরণ করে এ কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম এবং সদস্য শাহজাহান আলী সুমন।

হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা নাঈম ফের গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা নাঈম ফের গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ নিয়ে তাকে ১১ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি। 

এদিন আসামি নাঈমের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন৷ একই সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমণ্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করা হয়। 

নাইমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, নাইমকে এ নিয়ে মোট ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই ব্যক্তিকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে জামিনের সাংবিধানিক অধিকারকে কার্যত অর্থহীন করে তোলা হচ্ছে। একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেই আরেকটি মামলায় পুনরায় শ্যোন অ্যারেস্টে বিচার নয়, অনির্দিষ্টকাল কারাগারে আটকে রাখার একটি অপকৌশল। 

তিনি বলেন, আইনের শাসনের নামে এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের চেতনা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আজ প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে বন্দি আসামি আনোয়ার হোসেন নাইম। অতি অমানবিক ও নিষ্ঠুরতম আচরণ বলে মনে করি। আইন ও শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। আজকে পরিবারের সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত  হয়ে পড়েছে। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ধানমণ্ডি মডেল থানাধীন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন যুবক মো. সজিব ইসলাম। সে সময় আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণ করলে গুলিবিদ্ধ হন সজীব। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়।

সখীপুর

প্রাথমিকের বৃত্তিতে যমজ তিন ভাই-বোনের চমক

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রাথমিকের বৃত্তিতে যমজ তিন ভাই-বোনের চমক
ছবি : কালের কণ্ঠ

এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরে চমক দিখিয়েছে যমজ তিন ভাই-বোন। উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলো ফাতেমা আক্তার শেমী (১২), আনাস আল মামুন (১২) ও আরাফাত আল মামুন (১২)। তারা উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রামের প্রবাসী মো. শামীম এবং ঘাটেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আর্জিনা আক্তারের সন্তান।

তিন ভাই-বোন বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। বর্তমানে তারা সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভঃ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

শিক্ষার্থীদের মা আর্জিনা আক্তার বলেন, ‘তিন সন্তানই পড়াশোনায় মনোযোগী। তাদের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং পরিবারের উৎসাহ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের বাবা বিদেশে থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন এবং সন্তানদের উৎসাহ দিতেন। আমি চাই, তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করুক। সবার কাছে তাদের জন্য দোয়া চাই।’

বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবার চারজন ট্যালেন্টপুল এবং চারজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে যমজ তিন ভাই-বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তারা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, উপজেলার বৃত্তির ফলাফলে বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা বিদ্যালয়ের জন্যও বড় অর্জন। একসঙ্গে তিন যমজ ভাই-বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের এই বিরল সাফল্য এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, ‘তিন সহোদরের এমন কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’ ভবিষ্যতে তারা এমন সাফল্য ধরে রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালাইয়ের তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্প

কাগজে ১২৫ শ্রমিক, তালিকায় সভাপতির ভাই-ভাতিজা

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
কাগজে ১২৫ শ্রমিক, তালিকায় সভাপতির ভাই-ভাতিজা
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। প্রথমে শ্রমনির্ভর প্রকল্পে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে অধিকাংশ কাজ করানো এবং প্রকৃত শ্রমিকের পরিবর্তে কাগজে অতিরিক্ত শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এবার সেই প্রকল্পের শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে নতুন অনিয়ম। তালিকায় প্রকল্প সভাপতির আপন ছোট ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই, মামাসহ একাধিক নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি স্থানীয়দের দাবি, অন্য এলাকার কয়েকজনের নামও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য ১২৫ জন শ্রমিকের তালিকা জমা দেন প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। খালের অধিকাংশ অংশই ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল দিয়ে কাজ করতে দেখা গেলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প চলাকালে কোনো দিনই ৬০ থেকে ৬৫ জনের বেশি শ্রমিক মাঠে কাজ করেননি। অথচ সরকারি নথিতে প্রতিদিন ১২৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩ নম্বর তুহিন মাহমুদ, ৮ নম্বর আবুল হোসেন, ১৮ নম্বর সাজ্জাদুল ইসলাম, ২১ নম্বর আনোয়ার হোসেন, ৪৩ নম্বর রমজান আলী প্রামাণিক, ৪৫ নম্বর রেজাউল হক, ৫৭ নম্বর এনামুল হক সরকার, ৬১ নম্বর রুবেল হোসেন, ৬৬ নম্বর মফিদুল ইসলাম, ৬৭ নম্বর মামুনুর রশিদ প্রামাণিক, ৭৮ নম্বর তারেকুল ইসলাম, ৮২ নম্বর তৌফিকুল ইসলাম, ৯৬ নম্বর এনামুল হক প্রামাণিক, ৯৭ নম্বর মাহমুদুল হাসান এবং ১১৬ নম্বর আবু জাহের ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি পেশাদার দিনমজুর নন। তার পরও তাঁদের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, তালিকার ৩৯ ও ৫৫ নম্বরে থাকা আলমগীর এবং হোসেন আমিনুল ইসলাম প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেনের আপন ছোট ভাই। ২৪ নম্বর জিয়াউর রহমান ও ৩৪ নম্বর সুজাউল ইসলাম তাঁর চাচাতো ভাই, ৬৮ নম্বর সানাউল হক মণ্ডল তাঁর মামা এবং ৯৫ নম্বর এসআই পাশা তাঁর আপন ভাতিজা। একই তালিকার ৪২ নম্বরে থাকা এম এ ফারুক হোসেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শ্যালক বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শুধু আত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা, শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাঁদের দাবি, শ্রমিক তালিকার ৬১ নম্বর রুবেল হোসেনের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ৬০ নম্বর হাফেজ আকন্দের চেকে আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই হিসাবের সঙ্গে আবার প্রকল্প সভাপতির মেয়ে আমিনা খাতুন তিশার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি অর্থ উত্তোলনে অনিয়মের সন্দেহ আরো জোরালো করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ‘তাঁদের কখনোই ওই প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম রাখার কথা বলে আগে থেকেই তাঁদের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কারো হাতে ৫০০ টাকা, কারও হাতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কোনো টাকাই পাননি। অথচ তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে দুই কিস্তিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তালোড়া-বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা সুমির জালাল বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। আমজাদ হোসেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। মাঠে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। বাকি অধিকাংশই প্রকল্প সভাপতির আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত লোকজন। পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এখন প্রকল্পের কাজ করবো না তো কি চুরি করে খাব? শ্রমিকের তালিকায় আমার ভাই, ভাতিজা ও স্বজনদের নাম আছে তো কী হয়েছে? কী লেখার আছে লিখেন তো?

১২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছেন—এমন দাবির পক্ষে ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতির কয়েকজন নিকট আত্মীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়ের নাম থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত ৫২ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘শ্রমিকের তালিকায় অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় বিলের একটি অংশ পরিশোধ না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’