হবিগঞ্জের মাধবপুরের রঘুনন্দন পাহাড় ও সোনাই নদী থেকে অবাধে চলছে সিলিকা বালুর লুটতরাজ। সরকারের কোনো ধরনের অনুমোতি না নিয়েই প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে রঘুনন্দন পাহাড়, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ছড়া, সোনাই নদীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ড্রেজার বসানো হয়েছে।
এসব অবৈধ মেশিন দিয়ে দৈনিক ২-৩ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। নদী ও পাহাড় ধ্বংস করে উত্তোলিত বালু ট্রাক ট্রাক্টর যোগে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা বালু চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে ওঠছে।
অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা, উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মচারী এই বালু চুরিতে সক্রিয়।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রঘুনন্দন পাহাড়ের শাহজীবাজার রাবার বাগান সংলগ্ন খেলার মাঠ, রাবার বাগানের সাতপাড়িয়া ছড়া, মনতাজ শাহ মাজারের পাশে তেঁতুলতলা ছড়া, জেদ্দা ছড়া, সুরমা চা বাগানের রসুলপুর ছড়া, তেলিয়াপাড়ার চা বাগানের সীমনা ছড়া, সোনাই নদীর বোরহানপুর, ভবানীপুর, দূর্লভপুর, আফজলপুর ও বহরা, চৌমুহনী রাবার ড্যাম এলাকার কাশিমপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর, আশ্রবপুর মৌজাসহ আশপাশের এলাকায় শতাধিক মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। মেশিন দ্বারা অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে সোনাই নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য মনতলা সাধারণ বালু মহালটি ইজারা নেন মাধবপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফিরোজ মিয়া। মেসার্স শারমীন এন্ট্রারপ্রাইজ নামে ফিরোজের প্রতিষ্টান ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ১১০০১০০০১৪১৫২০১ নং স্মরাকে ইজারা গ্রহণ করেন কিসমতপুর কিসমত ও মনোহরপুর এই দুটি মৌজার সাধারণ বালু ইজারা নিয়ে সোনাই নদীর বারার ড্যাম এলাকাসহ ৩০টি মৌজা থেকে সিলিকা বালু বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে।
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩০ বাংলা সনে উপজেলার রসুলপুর, মনতলা ও মনতলা চৌমুহনী বালু কোয়ারী (অংশ-০১)-৫৬৫ স্মারকের ইজারা দেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। ইজারাকৃত ওই তিন কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০২৫ সনের ১৩ এপ্রিল।
সিলিকা বালু কোয়ারীর মেয়াদ শেষ হলেও মনতলা ও চৌমুহনী মহালের সোনাই নদী ও রসুলপুর এলাকা থেকে হরদম চলছে ট্রাক, ট্রাক্টর যোগে বালু বিক্রি। আর এসব বালু পরিবহন হচ্ছে সাধারন বালু মহালের রশিদে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকায় পকেটভারী হচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটের। অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে আবেদন করা হলেও প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বালু মহাল ইজারাদার মাধবপুর পৌর বিএনপির সহসভাপতি ফিরোজ মিয়া মোবাইলফোনে সিলিকা বালু বিক্রি ও উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘সাধারণ মহাল থেকে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।’