• ই-পেপার

চাঁদপুরে জাটকা ধরায় ১৬ জেলে আটক, ৯ জনের কারাদণ্ড

সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার
সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
সংগৃহীত ছবি

ডিমের উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলার পোল্ট্রি খামারিরা। তাদের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

রবিবার (২১ জুন) জেলার খামার মালিকরা জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে শনিবার সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় অনুষ্ঠিত খামারিদের এক বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিদের কাছ থেকে ডিম কেনা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৭০ পয়সা দরে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও উঠে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ লোকসান বহন করতে না পেরে তারা ডিম বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খামারিদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খামারি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ডিম উৎপাদন করছেন খামারিরা, অথচ মূল্য নির্ধারণ করছেন কিছু ব্যবসায়ী। তারা কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকসহ খামার পরিচালনার সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের দাম বাড়েনি। ফলে অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ করে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে খামারিদের ডিম বিক্রি বন্ধের কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শহরের এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, ‘খামার থেকে আগের মতো ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

ক্রেতাদের ভাষ্য, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য। বাজারে সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে। তাই দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ‘ডিমের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাপারী ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। বর্তমানে বাজারে ডিমের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দামও কম রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝুলছে ৫ যুবকের ভাগ্য

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝুলছে ৫ যুবকের ভাগ্য
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার পাঁচ বাংলাদেশি যুবক টানা আট দিন ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ চললেও এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা, খাদ্য সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) এলাকার রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় নয় বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।

সূত্র জানায়, ওই ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী কন্যা ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু ফাহিমাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। মানবিক বিবেচনায় পরে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন পাঁচ বাংলাদেশি যুবক। গয়টাপাড়া সীমান্তে রয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সজিব হোসেন (২৫) ও হিমেল মিয়া (১৮)। অন্যদিকে শৌলমারী ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থান করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুন জহিরুল, পারভেজ ও নাঈম সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে এক দালালের সহায়তায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণের সময় তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিনজিরা নদীর ব্রিজের নিচ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬/৭-এস সংলগ্ন নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদুল হক ও আলম মিয়া জানান, টানা আট দিন ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঁচ যুবক খোলা মাঠে অবস্থান করছেন। স্থানীয়রা মানবিক কারণে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। রাতের বেলায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সীমান্তের খোলা মাঠেই তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ যুবক এখনো সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে হাজারো পরিবার
রবিবার দুপুরে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভাঙন এলাকার চিত্র।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৫০ মিটারের বেশি অংশ ধসে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির উত্তর-পশ্চিম পাশে নির্মিত প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ সেতু রক্ষা বাঁধের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। পানির তীব্র স্রোতে বাঁধের নিচের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। এতে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।      

এদিকে উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাত থেকে রবিবারদুপুর পর্যন্ত রংপুরে ১৭ দশমিক ০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। তবে স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার পানির তোড়ে সেই পাইলিং ভেঙে গেছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বছর ভাঙনের সময় আমরা ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি না করে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এখন সেই পাইলিংও টেকেনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।’

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে সেতু রক্ষা বাঁধে ধসের কারণে অন্তত তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে দুপুর নাগাদ পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে।

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন,‘সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়ছে। দুপুর ১২টায় পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। মহিপুরের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন,‘পানির প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। আমন মৌসুমের জন্য তৈরি করা বীজতলা ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।’

চর ইচলি এলাকার কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদামখেত পানিতে ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ‘উত্তরের কয়েকটি জেলার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শুধু সেতু নয়, পুরো আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় এবং উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে।ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অন্যান্য নদীর পরিস্থিতিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

বাবা দিবসে এক হতভাগ্য বাবা

‘ছেলে-মেয়ে যেন আমার লাশ না ছোঁয়’

অনলাইন ডেস্ক
‘ছেলে-মেয়ে যেন আমার লাশ না ছোঁয়’

‘আমার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন কাউকেই যেন আমার লাশ ছুঁইতে না দেয়। আমার আত্মায় কষ্ট পাইবে। আমি মন থেকে, দিল থেকে তাদের অভিশাপ দিই—আমার মতো একদিন যেন তারাও এই জায়গায় (বৃদ্ধাশ্রমে) আসে।’ বাবা দিবসে কেঁদে কেঁদে এই কথাগুলো বলছিলেন একজন বৃদ্ধ বাবা। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমে টাকা উপার্জন করে যে সন্তানদের নিজের হাতে বড় করেছেন, অভাব বুঝতে দেননি কোনো দিন—সেই সন্তানরাই এখন তাকে ফেলে গেছে বৃদ্ধাশ্রমে। ফেলে যাওয়ার পর এক দিনও কেউ এসে নেয়নি খোঁজখবর।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

চার দেয়ালে ঘেরা বৃদ্ধাশ্রমে বসে তিনি বলছিলেন, ‘এদের (সন্তানদের) সোনার চামিচে করে দুধ খাওয়াইছি। আমার ভাবিরা কইত, এত বেশি ভালোবাইসো না, তোমারে এরা জীবনে বহুত কষ্ট দেবব। আজ তাদের সেই কথাটা আমি অক্ষরে অক্ষরে পাইছি।’

‘আচ্ছা, বুঝলাম ছেলেরা এমন হইতে পারে না। এইটা মানি নিলাম। কিন্তু মেয়েরা কেমনে এমন হয়? মেয়েরা কেমনে বাপকে এত অস্বীকার করে? আমার জীবনে এমন এই প্রথম দেখলাম।’

তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের কাছে এবং আইনের কাছে আমি একটা ডায়েরি দিয়ে যাব। এই ডায়েরিটা আপনারা থানায় পৌঁছাইয়া দেবেন। এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সঙ্গে কী করছে। আমার শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে, আপনারা এই জিনিসটা মানুষকে দেখাইবেন। আমার ছবিটা দেখাইবেন। ছেলে-মেয়ে যেন দেখতে পায় যে তার বাপ কী অবস্থায় আছে।’

‘এই টাকা-পয়সাটাই হলো আমার জীবনের কাল। ওনাদের ঘাড়ের ওপর (বৃদ্ধাশ্রমে) আমারে উঠাই দিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত দেখতে আসে নাই। খোঁজটাও নেয় না—দেখা তো দূরের কথা। এইটা কী ধরনের ছেলে? এরা অশিক্ষিত হইলেও এককথা। আমার মেয়েও কি অশিক্ষিত—যে মেয়েরে আমি পুতুলের মতো রাখছি? আমি কি তাদের কাছে টাকা-পয়সা চাইছি? কিচ্ছু চাইনি, একটু ভালোবাসা চাইছি। যাইহোক, এইটা আমার ভাগ্যে আছে।’

নিজে একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা ছিলেন। সেই বর্ণনা দিয়ে বৃদ্ধ বাবা বলেন, ‘আমার জীবনে আমি বহুত বিদেশ করছি, বহুত টাকা কামাইছি, বহুত টাকা খরচও করছি। দুই দেশে ছিলাম। আমি ১৯৯৫ থেকে সৌদি আরবে ছিলাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত। যখন বস্তা ভরি ভরি টাকা দিছিলাম, তখন সব ঠিক আছিল। ছেলে ঠিক আছিল, মেয়ে ঠিক আছিল—সব ঠিক আছিল।’

‘আমার একটা এফডি (ফিক্সড ডিপোজিট) আছিল। আমার ছোট ছেলেটা আমেরিকান  এম্বাসিতে চাকরি করে। এ ছিল চোখের মণি। আমি সাদা দিলে আমার ছেলে আমার টাকা পাইবে না কে পাইবে, এরে করে দিছি। টাকাগুলা উঠাই নিয়ে যে গেছে, আজ পর্যন্ত সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করে না, কোনো যোগাযোগ নাই। আমার মেয়ের কাছে আমার টাকা ছিল ২০ লাখ টাকা। এই টাকাটা আমাকে আর দেয় নাই। আজ পর্যন্ত ফেরত দেয় নাই।’

‘এখন আমি আপনাদের কাছে এবং আইনের কাছে একটা ডায়েরি দিয়ে যাব। এ ডায়েরিটা আপনারা থানায় পৌঁছায় দেবেন। আপনাদের দায়িত্ব এটা। এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সাথে কী করছে।’

‘যেই কয় দিন বাঁচি থাকি, এই আমি এইখানে (বৃদ্ধাশ্রমে) থাকমু। আমার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন কাউকেই যেন আমার লাশ ছুঁইতে না দেয়। ছোঁয়ার কারো কোনো অধিকার নেই। একমাত্র এইখানের মানুষেরই আছে—আমার লাশ ছোঁয়ার অধিকার।’

‘আমার সন্তানদের আমি এইটাই বলব যে আমার সাথে তোমরা যারা যা করছো, এইটার ফল তোমরা পাইবা। আমি দিল থেকে বলি রাখছি—এইটার ফল আল্লাহ তাআলা তোমাগোরে দেবেন—একদিন না একদিন দেবেন। এইটার ফল তোমরা ভোগ করতে পারবা। আমারে তো উনারা (বৃদ্ধাশ্রম) জায়গা দিছে, চাইট্টা খাবার দিছে, খাকার জায়গা দিছে—এদের (সন্তানদের) আল্লাহ যেন এটাও না দেয়। বিশেষ করে আমার মেয়েকে যেন না দেয়।’

চাঁদপুরে জাটকা ধরায় ১৬ জেলে আটক, ৯ জনের কারাদণ্ড | কালের কণ্ঠ