শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপির সাবেক এক নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী নারগিস বেগমের ছেলে গোলাম রাব্বি ভেদরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। এর আগে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে সম্প্রতি দুই লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার হারিয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য ছয়গাঁও এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী নারগিস বেগমকে দায়ী করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ জুলাই আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা নারগিসকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তার দুই হাত চেপে ধরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় নারগিস বেগম বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। এক পর্যায়ে মারধরের ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।
নারগিসকে মারধর করার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি এক নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেও তাকে আবার দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারগিস বেগম বলেন, ‘আমি চুরি করিনি। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মামলার বাদী গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমাদের পরিবারে আর্থিক কোনো সংকট নেই। আমার মা সম্পূর্ণ নির্দোষ। অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি আনোয়ার হোসেন মোল্লাকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আনোয়ার হোসেন মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার কালের কণ্ঠকে বলেন, ভুক্তভোগীর ছেলের করা মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






