• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ড্রেন নির্মাণের সময় দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত

বিআরটিএ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
বিআরটিএ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক ১
সংগৃহীত ছবি

রংপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আয়োজিত ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়েছেন ইকবাল হাসান রাকিব নামে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (২৮জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রশাসনের দাবি, এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান। আদালত প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে ইকবাল হাসান রাকিবকে এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৭ জুলাই)সকাল ১০টায় নগরীর মডেল মসজিদের নিচতলায় অবস্থিত বিআরটিএ পরীক্ষাকেন্দ্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান এক পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে অন্য একজনের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

আটক ব্যক্তি পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হাসান রাকিব। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সুযোগ বুঝে বিআরটিএর অফিস সহায়ক মাসুমা আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর রাকিব এবং যার হয়ে প্রক্সি দিচ্ছিলেন পীরগাছা উপজেলার দেউতি নাগদাহ এলাকার আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয় কর্তৃপক্ষ। পরে বিষয়টি জানতে পেরে রাকিব ও আব্দুল করিম রাতেই বিআরটিএ পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে অন্য কেউ বা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

রংপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল আলম সরকার বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কেউ অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যোগ্য চালক তৈরি এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে লাইসেন্স পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি বা প্রক্সি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
 

 

‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ প্রচারের আড়ালে হত্যা, ২০ বছর পর ছেলেসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ প্রচারের আড়ালে হত্যা, ২০ বছর পর ছেলেসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই দশক পর রায় দিয়েছেন আদালত। 

বহুল আলোচিত এ মামলায় নিহত মরিয়ম বেওয়ার সৎছেলেসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকল সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. তসরুজ্জামান দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহানুর রহমান শাহীন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইয়া গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে সুজাউল ইসলাম, মৃত কছিমুদ্দিন মোল্লার ছেলে ছালামত মোল্লা এবং আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন সরকার।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর মরিয়ম বেওয়া সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে সৎছেলে সুজাউল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি মাঠে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর এলাকায় প্রচার করা হয়, মরিয়ম বেওয়া পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ এবং ঘটনাপ্রবাহের অসংগতির কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরদিন পুলিশ পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২০০৫ সালের ৭ আগস্ট নিহতের বোন বাদী হয়ে কালাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহানুর রহমান শাহীন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার সার্বিক উপাদান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

আদালতের এ রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ তাদের আদালত চত্বর থেকেই কারাগারে নিয়ে যায়। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা আর নেই

শেরপুর প্রতিনিধি
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা আর নেই
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা

যুদ্ধকালীন কম্পানি কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা (৮২) মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার বারাকপাড়া মহল্লার বসবাস করতেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি শেরপুর জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর সভাপতি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

মরহুমের জানাজার নামাজ প্রথমে শেরপুর, এরপর তার নিজ গ্রামের বাড়ি মাদারেরচরে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।

তার মৃত্যুতে শেরপুর জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরম মুক্তিযুদ্ধ ৭১, সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা প্রতিষ্ঠসহ সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। দেশের প্রান্তিক একটি ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুনাম ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

টানা ১২ ঘণ্টা আজও যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

অনলাইন ডেস্ক
টানা ১২ ঘণ্টা আজও যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গত শনিবার (২৫ জুলাই) পেট্রোবাংলার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হবে। এ কারণে ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, চৌয়ারা, সুয়াগাজী ও আশপাশের এলাকায় এবং ২৯ জুলাই (বুধবার) কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, চাঁদিনা ও আশপাশের এলাকায় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ড্রেন নির্মাণের সময় দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত | কালের কণ্ঠ