• ই-পেপার

গাজীপুরের কালিগঞ্জ

রমজান উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৪ দোকানিকে জরিমানা

ড্রামট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ড্রামট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে বেপরোয়া গতির ড্রামট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চৌধুরী রুবেল (৩০) নামে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের মজুচৌধুরীরহাট সড়কের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে দুর্ঘটনায় রুবেল আহত হয়।

নিহত রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাঞ্চানগর এলাকার ফারুক হোসেন চৌধুরীর বড় ছেলে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রুবেল সিএনজির যাত্রী ছিলেন। শহরের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে একটি দ্রুতগতির ড্রামট্রাক সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে তার হাত-পা ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহতের ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফ হোসেন চৌধুরীর বরাত দিয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন মুন্না বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা রুবেল ড্রামট্রাক চাপায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রুবেলের মৃত্যুতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শোক জানাচ্ছি। এই নিয়ন্ত্রণহীন ঘাতক বিধ্বংসী ড্রামট্রাক আর কত তাজা প্রাণ কেড়ে নেবে। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজের মোবাইলফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছিলেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরালের পর বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছিলেন ভূমি কর্মকর্তা, ভিডিও ভাইরালের পর বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অফিসে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা গুনে গুনে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভাইরালের কয়েক ঘণ্টা পর ওই ভূমি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

রবিবার রাতেই অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসকের এক জরুরি আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে ওইদিন বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। 

অভিযুক্ত ইমরান শেখ সাতৈর (খ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ তার নিজ কক্ষে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে গুনে গুনে টাকা নিচ্ছেন। এ সময় তিনি টাকা দেয়া ব্যক্তির নাম ও পরিচয়ও নোট করে রাখেন। তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তির পরিচয় অস্পষ্ট থাকায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টাকা নেয়ার সময় ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, 'আজকে রাতে আবেদন হয়ে যাবে, সামনে রবিবার জমা হয়ে যাবে। স্যার যত তাড়াতাড়ি শুনানি দিবে, ইনশাআল্লাহ দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।'

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ইঙ্গিত করে আক্ষেপের সুরে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘উনিও চল্লিশতম বিসিএস, আমিও চল্লিশতম বিসিএস। উনার কপাল ভালো উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন ক্যাডার হয়েছি।’
 
ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমরান শেখ দাবি করেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, এটি ধারের টাকা। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, আবার ফেরত দিয়ে যায়। এটি সেই ধারের টাকা ফেরত নেয়ার সময়কার ভিডিও।' তবে তিনি টাকা ফেরত দেয়া ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, এর আগেও সরেজমিনে অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে শোকজ করা হয়েছিল। টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিব্বির আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 
পরে রাতেই ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির দায়ে একই বিধিমালার ১২(১) ধারা মোতাবেক ২৬ জুলাই থেকে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কেবল খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
 

‘আজ কেন মন উদাসী’ গানে শিক্ষিকার রিলস, তদন্তে কমিটি

অনলাইন ডেস্ক
‘আজ কেন মন উদাসী’ গানে শিক্ষিকার রিলস, তদন্তে কমিটি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত রিলস ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ওই ভিডিও সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না সেটি যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। তিনি ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৩ জুলাই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিলস ভিডিও প্রকাশ করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে...’ গানের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করছেন তিনি। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রূপগঞ্জবাসীর জমি আর তাদের হাতে নেই : এমপি দিপু

অনলাইন ডেস্ক
রূপগঞ্জবাসীর জমি আর তাদের হাতে নেই : এমপি দিপু

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া বলেছেন, পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য বিপুলপরিমাণ জমি অধিগ্রহণের ফলে রূপগঞ্জবাসী আজ নিজেদের জমির মালিকানা হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পূর্বাচল নয়, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, কায়েতপাড়া ও দাউদপুর ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দিপু ভূইয়া বলেন, ‘১৯৯৫ সালে যখন পূর্বাচল প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তখন যদি স্থানীয়রা ঢাকা থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত বড় সড়ক নির্মাণের দাবি তুলতেন, তাহলে রূপগঞ্জবাসীর এত বিপুলপরিমাণ জমি হারাতে হতো না।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পের জন্য অনেকের শত শত বিঘা, আবার কারো আরো বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তখন জমির মালিকদের একটি করে প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজও অনেকেই সেই প্লট পাননি।’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘সেই সময়ের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত এখন রূপগঞ্জবাসীকে দিতে হচ্ছে। আজ রূপগঞ্জবাসীর নিজের জমিই আর রূপগঞ্জবাসীর হাতে নেই। বিভিন্ন মানুষ সেই জমির মালিক হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তখন যদি ১০০ বা ৩০০ মিটার প্রশস্ত সড়কের জন্য জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে এত বিপুলপরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে রূপগঞ্জবাসীর বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’

পূর্বাচলকে ঢাকার অধীনে নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘তারা জানে, এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন আমি করব। এখন রূপগঞ্জ ইউনিয়ন, দাউদপুর ইউনিয়ন এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়নকেও ঢাকার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। আমি বেঁচে থাকতে রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কল্যাণে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও আমি প্রস্তুত। আমাকে যত হুমকিই দেওয়া হোক না কেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রূপগঞ্জবাসী।’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে দিপু ভূইয়া বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, কারো অধিকার নষ্ট করিনি। তাই আমি নির্ভয়ে চলাফেরা করি। আমি জানি, রূপগঞ্জবাসী সবসময় আমার সঙ্গে আছে।’