• ই-পেপার

সিংগাইরে ১৭ মামলার আসামি কুদ্দুস ডাকাত গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ

কারাগারে অসুস্থ যুবলীগ নেতার হাসপাতালে মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
কারাগারে অসুস্থ যুবলীগ নেতার হাসপাতালে মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।  

নিহত আমিনুল ইসলাম লিটন (৪৭) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চরবেতকান্দি গ্রামের হাজী শামসুল আলমের ছেলে এবং একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

জেল সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাজতি আমিনুল ইসলাম লিটন ৫ জুলাই একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসাবে কারাগারে। তিনি আগে থেকেই হার্ড ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীণ অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

নরসিংদী

নবজাতকের পা মুচড়ে পালালেন চাচি, গ্রেপ্তার চাচা-দাদা

নরসিংদী প্রতিনিধি
নবজাতকের পা মুচড়ে পালালেন চাচি, গ্রেপ্তার চাচা-দাদা
ভুক্তভোগী শিশুর দাদা ও চাচা গ্রেপ্তার

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙের ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা দায়েরে শিশুটির পরিবারের আপত্তি থাকায় আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়া। তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে। এঘটনায় পুলিশ কাউছার আহমেদ ও আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশু রিজিকের বাবা জহিরুল ইসলাম ও চাচা কাউছার আহম্মেদ এক সঙ্গে থাকেন। শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোন কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি চলে আসছিল। 

গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।  শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান। বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ দাদা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চাপ দেন। পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। এরআগেই সাইফা বেগম ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

পরিবারের দাবি পা ভাঙেনি, তবে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় আজ বুধবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে শিশু আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।  

শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাইফা আক্তার জানান, এটি পারিবারিক বিষয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তাদের ছেলে রিজিক সুস্থ রয়েছে, তাই তাদের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তবে ভিডিওগুলো ফেসবুকে মনগড়া তথ্য দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। 

মামলার বাদী রিজা আক্তার বলেন, কিছু কিছু বিষয়টি পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তি হয় না। শিশু নির্যাতনের ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আমিসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয় বিদারক নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভুক্তভোগী বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এ ঘটনায় আজ বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ২০১৩ সালের শিশু আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। 

খুলনার হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিডে আগুন, আনসারের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিডে আগুন, আনসারের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে
ছবি: কালের কণ্ঠ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ১৩২/১৩৩ কেভি হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিডের একটি ট্রান্সফরমারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে পাওয়ার গ্রিডের একটি ট্রান্সফরমারে শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মিন্টু হোসেন ঘটনাটি দেখে গার্ড কমান্ডার (পিসি) মো. বাবুল আক্তারকে অবহিত করেন। পরে তার নেতৃত্বে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন।

প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আগুনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয় এবং ট্রান্সফরমারসংলগ্ন অন্যান্য স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পরিদর্শন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন ও উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বলদিয়া ইউনিয়নের সাধুরমোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট করছিলেন। এ খবর পেয়ে  ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার মালিক পালিয়ে গেলে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন ও উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করে প্রকাশ্য নিলাম ডাক প্রদান করা হয়। প্রকাশ্য নিলামে  ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা সর্বোচ্চ দাম দিয়ে মোকছেদুল মোমিন মেশিন ও বালু ক্রয় করেন। এছাড়া বালু দিয়ে জমি ভরাট করার অভিযোগে মোহাম্মদ আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।