• ই-পেপার

পরিবর্তনের সুযোগ আমরা হেলায় হারাতে চাই না : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

একটি নয়, বাড়িতে এল তিনটি মরদেহ

পাবনা প্রতিনিধি
একটি নয়, বাড়িতে এল তিনটি মরদেহ

নাতনির মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ফিরছিলেন নানি। কিন্তু বাসায় আসলেন নিজেও লাশ হয়ে। ফেরার পথে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় বাসের ধাক্কায় নানিসহ দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো চারজন।]

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ) সকাল ৮ টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন নানি বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজ মিয়া (২৬)।

বিস্তারিত আসছে...

বন্যার পানিতে তছনছ কক্সবাজার, ক্ষতি প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
বন্যার পানিতে তছনছ কক্সবাজার, ক্ষতি প্রায় ৯০০ কোটি টাকা
বন্যায় চকরিয়ার একটি বিধ্বস্ত সড়ক। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে টানা ৯ দিনের বর্ষণজনিত বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানি এখন অনেক এলাকায় নেমে গেছে। কিন্তু পানির সঙ্গে ভেসে গেছে হাজারো মানুষের বছরের সঞ্চয়, জীবিকার অবলম্বন, আর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। কোথাও পুকুর-ঘের খালি, কোথাও ডুবে গেছে ফসলের মাঠ, ভেঙে পড়েছে বেড়িবাঁধ, ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সড়ক। অনেক পরিবার এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি, আবার কেউ ফিরেও দেখছেন- বেঁচে আছে শুধু ভাঙা ঘর আর কাদামাটির স্তূপ।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারে সাতটি খাতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে জেলার অন্তত সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বন্যায় জেলার ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে আরো বলা হয়েছে, বন্যায় জেলার মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটির বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জেলার মৎস্য খাতে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, হাজারো পুকুর ও ঘের বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পোস্ট লার্ভা (পিএল)। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিদের অনেকেই এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শুধু মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানিয়েছেন, জেলায় প্রাথমিক হিসাবে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি জানান, এটা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে।

দুর্যোগের পরও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ২৯৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৬৩৫ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ২৩৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কাজ চলছে। তবে এখনো ৫৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫৩০ মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ৪ হাজার ৮৮৩ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৯৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের প্রয়োজন রয়েছে।

ছাতক

মহাসড়কের পাশের ডোবায় মিলল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মহাসড়কের পাশের ডোবায় মিলল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ
প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের খারাই এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে স্থানীয়রা মহাসড়কের পাশের একটি ডোবায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে জয়কলস হাইওয়ে থানা ও জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেন।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোতালেব হোসেন। একই সময়ে জাউয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিরস্ত্র) মো. মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ১৪ জুলাই দিবাগত রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি মো. মোতালেব হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

৩০ বছর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সংবর্ধনায় বিদায় নিলেন পিয়ারা বেগম

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
৩০ বছর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সংবর্ধনায় বিদায় নিলেন পিয়ারা বেগম
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগমকে অবসর উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে এলাকাবাসী।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে টানা ৩০ বছর শিক্ষকতা করে শিক্ষা বিস্তার, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্ব এবং কামরুজ্জামান ও আব্দুল হাই লায়েকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাবুল মিয়া, ছাতক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ জসিম উদ্দিন সুমেন, আবু জাহিদ বখত মানিক, মুনসুর আজাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম. আর. জাহিদ মিয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল কাসেম মো. আব্দুল হাদী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌস (মুনি)।

বক্তারা বলেন, পিয়ারা বেগম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তার হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার এ অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এলাকাবাসী এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কালারুকা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান মানিক, ছাত্রদলের নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ি প্রধান শিক্ষক পিয়ারা বেগমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবর্তনের সুযোগ আমরা হেলায় হারাতে চাই না : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য | কালের কণ্ঠ