• ই-পেপার

লক্ষ্মীপুর

আ. লীগ নেতা শেখ মুজিবের অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা

চৌদ্দগ্রামে শত বছরের রাস্তা বন্ধ, পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে শত বছরের রাস্তা বন্ধ, পুনরুদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের হাজী আনু মিয়ার বাড়ির প্রায় শত বছরের পুরোনো জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেনা। চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাসহ পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ৮/১০ টি পরিবারের লোকজনসহ গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসলেও ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন চিওড়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান ও তার ভাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার একটি অংশ বন্ধ করে দেন। ফলে তখন থেকে লোকজন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প কৃষি মাঠের আইল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তখনকার সময়ে স্থানীয় কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

আলহাজ্ব নূর মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘আমরা যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি আমরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারিনা। কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাচল করার সময় আমাদের স্কুলে পোষাক নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে আমাদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটছে, আমাদের বাড়ির শত বছরের চলাচলের এই পুরাতন রাস্তাটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

স্থানীয় রুহল আমিন, আব্দুল মান্নান, আবুল বাশার, মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চিওড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনীতি প্রভাব খাটিয়ে শত বছরের চলাচলের রাস্তা ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে জোর করে বন্ধ করে দেয়| রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন ও অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১০-১২টি পরিবারের লোকজন অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে কোন যানবাহন বাড়িতে আসার ব্যবস্থা নাই| ১ থেকে দেড়শ বছর ধরে আমাদের মুরুব্বিরা যে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল, সেই রাস্তাটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হল? কেন আমাদের উপরে এই অত্যাচার করা হলো আমরা এর বিচার চাই। আমরা আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করি মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও দ্রুত রাস্তাটি দখলমুক্ত করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া মোস্তাফিজ বলেন, ‘যে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি বলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা। এনায়েত উল্যাহ গংরা দির্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ির উঠান দিয়ে তারা চলাচল করতো, ধীরে ধীরে আমাদের পরিবার বড় হওয়ায় আমাদের প্রয়োজনে ঘর করার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শত বছরের কোন রাস্তার অস্তিত্ব নেই। বরং তারা আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর প্রতিনিয়ত নানান অত্যাচার করে আসছে।’

এ বিষয়ে চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘রাস্তার বিষয়টি আমি শুনেছি। কোন পক্ষ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। এটি সরকারি কোন রাস্তা না, বাড়ির চলাচলের রাস্তা ছিলো।’

টানা ৪ দিনের বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ৩

৭টি বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
টানা ৪ দিনের বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসে আহত ৩
বান্দরবান জেলা শহরের পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

টানা চার দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড় যেন আবারও তার ভয়ংকর রূপ দেখাল। একদিকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা পাহাড়ি ছড়া ও নদী, অন্যদিকে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ের ঢাল। সব মিলিয়ে আতঙ্কে কাটছে বান্দরবানের মানুষের দিন-রাত। বুধবার সকালে সেই আতঙ্ক বাস্তবে রূপ নেয়। বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালানসহ অন্তত ৭টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও আহত হয়েছেন ৩ জন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনেক পরিবার আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। সেই সতর্কতাই শেষ পর্যন্ত বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ধসে নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়াসহ কয়েকটি পরিবারের বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অঞ্জনা বড়ুয়াসহ তিনজন আহত হন। একটি পাকা ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরো ৭টি ঘরের বড় অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে।

00

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাহাড় থেকে মাটি খসে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা রাতেই ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজন ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। রাত প্রায় ২টার দিকে বিকট শব্দে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে তাদের বসতঘরের ওপর। সকালে ফিরে এসে তারা দেখেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান ভারী বৃষ্টিতে শুধু পৌর এলাকাই নয়, জেলার ৭টি উপজেলাজুড়েই ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ঢাল ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন করে ঝুঁকিতে পড়ছেন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষ। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেজর সায়েমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ চালান। তারা পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান আনসারী বলেন, ‘পাহাড়ধসে সাতটি বসতঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হলেও অনেকে এখনো ঘর ছাড়তে অনীহা দেখাচ্ছেন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

11

বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হিরা মনি জানান, পৌরসভার কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া ও সুয়ালক এলাকায় এ পর্যন্ত ৭টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ

৯ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা

দুর্ভোগে বাসিন্দারা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
৯ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা
ময়মনসিংহ নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনি এলাকায়। বুধবার দুপুরে তোলা। -কালের কণ্ঠ

টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার বড় অংশই পানিতে ডুবে যায়। 

এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে আজ বুধবার ভোর থেকেই অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরের সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, বাঁশবাড়ি কলোনি, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি। 

বাসিন্দারা জানান, অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তাদেরকে রাতভর পানি সেচে কাটাতে হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসে। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয়। তাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার  সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছর ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ। 

নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং উন্নয়ন কাজ চলমান থাকার  কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

হেলথ অফিসারের গলির বাসিন্দা হামিদা আক্তার বলেন, ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় বৃষ্টির পানি বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবছর একই দুর্ভোগের শিকার হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। চরপাড়া মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের আবুল বাশার। 

হামিদা আক্তার আরো বলেন, হাঁটুপানির কারণে কয়েক শ মিটার পথ পার হতে অ্যাম্বুলেন্সের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে থাকায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। 

বাঁশবাড়ি কলোনির ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলে, ‘আজ আমার পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। রাত থেকেই বাড়ির সবাই  মিলে ঘরের পানি সেচে ফেলছি। এখনো ঘরের ভেতর  হাঁটুপানি। সারা রাত কেউ ঘুমাতে পারেনি।’

স্থানীয় বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। ছোট সন্তানদের নিয়ে রাতভর নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত ড্রেন খনন ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা  বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার বলেন, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ স্থান থেকে দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যে জেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যে জেলায়
সংগৃহীত ছবি

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্যাস কমিশনিং কাজের জন্য বগুড়া শহর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পিজিসিএল জানায়, সাসেক-২ (SASEC-II) প্রকল্পের আওতায় বগুড়া অঞ্চলের বনানী মোড় থেকে তিনমাথা রেলগেট পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তর ও অপসারণের কাজ চলছে। এই উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবেই বগুড়া ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস) এবং পাইপলাইনের দুই প্রান্তে টাই-ইন ও গ্যাস কমিশনিংয়ের কাজ করা হবে।

যেহেতু টাই-ইনের মূল কাজটি সরাসরি বগুড়া ডিআরএসের সঙ্গে সংযুক্ত, তাই নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা পুরো বগুড়া গ্যাস নেটওয়ার্কের সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এর ফলে শহরের আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিল্পকারখানা ও ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ সব শ্রেণির গ্রাহক সাময়িকভাবে গ্যাস সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

বনানী মোড় ও তিনমাথা রেলগেট ছাড়াও শাকপালা বাসস্ট্যান্ড, মিলেনিয়াম স্কুল, জাহাঙ্গীরনাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, পল্লী বিদ্যুৎ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পিজিসিবি (PGCB), জিটিসিএল (GTCL) এবং অতিথি সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এই টাই-ইন কাজ পরিচালিত হবে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, নির্ধারিত কারিগরি কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। সাময়িক এই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হবে, তার জন্য পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম তারিকুল ইসলাম আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং কাজটি সফলভাবে শেষ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আ. লীগ নেতা শেখ মুজিবের অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা | কালের কণ্ঠ