কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের চৈনপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা একটি গ্রামীণ সড়ক বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার বিরুদ্ধে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ গ্রামের অন্তত ৬০ পরিবার।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম আনিসুর রহমান। তিনি বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে দলীয় পদবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। সড়কটি থেকে স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৬০টি পরিবারের তিন শতাধিক সদস্যসহ গ্রামের বাসিন্দারা চলাফেরা করেন। এলাকার শিক্ষার্থীরাও এ সড়ক ব্যবহার করে। এ ছাড়া গ্রামের কৃষকরা মাঠের যাবতীয় ফসল বাড়িতে আনা-নেওয়া করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান জোর করে দীর্ঘদিনের চলাচলের সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কেউ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমের অভিযোগ, জোর করে সড়কে ঘর তুলেছেন আনিসুর রহমান। তারা বাধা দিলেও তাতে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলে। কিন্তু চলে যাওয়ার পর পর তারা ফের কাজ শুরু করেন। এখন পুরো সড়ক বন্ধ করে দিয়েছেন অভিযুক্তরা। ফলে গ্রামের শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন লিটন ও ভুক্তভোগী শাহ জালাল কালের কণ্ঠকে বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও কৃষকরা ফসল নিতে মাঠে যেতে পারছে না। গ্রামের সড়ক জোর করে বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা আদালতে মামলা করি। পরে আনিসুর ও তার ভাই মাসুদ সরকার আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। সড়কটি গত ১৬ বছর ধরে গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘এখানে কোনো রাস্তাই নেই। এটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। তারা (গ্রামের বাসিন্দারা) অবৈধভাবে চলাচল করতে না পেরে আমার নামে আদালতে মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।




