• ই-পেপার

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শেরপুরের ‘ছানার পায়েস’

চীনা নাগরিক পরিচয়ে শ্বশুরবাড়িতে যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্যে

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
চীনা নাগরিক পরিচয়ে শ্বশুরবাড়িতে যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্যে
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর কালিয়াটারি গ্রামে নিজেকে চীনের নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আসা এক যুবককে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) সকালে বিদেশি জামাই কুড়িগ্রামে, এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল শনিবার (১৬ মে) ওই যুবক প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে এলে উৎসুক জনতার ভিড় ক‌রেন বা‌ড়ি‌তে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপুর এলাকার মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা খাতুন (২৫) ঢাকার একটি পোশাক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে কাজ করার সময় ওই যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আরো পড়ুন
বহিরাগতদের হামলা, রণক্ষেত্র ডুয়েট

বহিরাগতদের হামলা, রণক্ষেত্র ডুয়েট

 

বিয়ের পর শনিবার প্রথমবারের মতো স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন মোর্শেদা। এসময় ওই যুবক নিজেকে চীনের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিদেশি নাগরিক পরিচয় পাওয়ায় অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়। তবে ওই যুবকের কাছে থাকা পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা অন্যান্য পরিচয়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আরো পড়ুন
কিভাবে কার্যকর হবে পে স্কেল? মিলল নতুন তথ্য

কিভাবে কার্যকর হবে পে স্কেল? মিলল নতুন তথ্য

 

মোর্শেদা বেগম বেগম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরে চায়না যুবক আমাকে পছন্দ করে ঢাকায় বিয়ে করে। সে আমাকে চায়নায় নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছে। তাই আমি আমার গ্রামের বাড়িতে তাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফেরদৌস আলম বলেন, ‘চীনের নাগরিক এসেছে এমন খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি উৎসুক মানুষের ভিড়। পরে তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখেছি। তারা গত ২০ এপ্রিল বিয়ে করেছেন।’

ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানে চায়নার যুবক ফুলবাড়ীর মেয়েকে বিয়ে করে কাশিপুরে এসেছে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ খবর নি‌য়ে বিস্তা‌রিত জানা‌তে পারব।

আরো পড়ুন
অনার্স পড়ুয়াদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, আবেদন শুরু

অনার্স পড়ুয়াদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, আবেদন শুরু

 

বান্দরবানে ফের অগ্নিকাণ্ড, অর্ধশতাধিক দোকান-বসতঘর ভস্মীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানে ফের অগ্নিকাণ্ড, অর্ধশতাধিক দোকান-বসতঘর ভস্মীভূত
ছবি: কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে বাঘমারা বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজার এলাকায় হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ দোকান ও বসতঘরে দাহ্য সামগ্রী থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই দোকানে থাকা সমস্ত পণ্য হারিয়েছেন। কারো কাছে পুনরায় ব্যবসা শুরু করার মতো পুঁজিও নেই। চোখের সামনে বছরের পর বছর গড়ে তোলা ব্যবসা পুড়ে যেতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, খাবারের হোটেল, বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতঘরের আসবাবপত্রসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’

এর আগেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাঘমারা বাজার পুড়ে গিয়েছিল। কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারও একই বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক, ৪ জেলে উদ্ধার

মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক,  ৪ জেলে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে এক বিশেষ অভিযান, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুই দস্যুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের গহিনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চলমান এ অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দফায় পরিচালিত অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে জানানো হয়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ অভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া চালিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের জিম্মিতে থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন– বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোনার চেইন পরা মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না : জয়নুল আবেদীন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
সোনার চেইন পরা মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না : জয়নুল আবেদীন

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনার চেইন পরা কোনো স্বচ্ছল মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। সেদিকে যেন খেয়াল রাখা হয়।

গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ানর্ডের গরিব-দুঃস্থদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।

তিনি বলেন, আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতি, ঘুষ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং শূন্য বাংলাদেশ। সর্বোপরি আমরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।

এ সময় নোয়াখালীতে ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। সেনবাগ উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পেয়ে যান। মোবাইল ফোনে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার টি.এম মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে.এম মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগম প্রমুখ।

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শেরপুরের ‘ছানার পায়েস’ | কালের কণ্ঠ