• ই-পেপার

সোনার চেইন পরা মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবে না : জয়নুল আবেদীন

চীনা নাগরিক পরিচয়ে শ্বশুরবাড়িতে যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
চীনা নাগরিক পরিচয়ে শ্বশুরবাড়িতে যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর কালিয়াটারি গ্রামে নিজেকে চীনের নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আসা এক যুবককে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) সকালে বিদেশি জামাই কুড়িগ্রামে, এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল শনিবার (১৬ মে) ওই যুবক প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে এলে উৎসুক জনতা ভিড় ক‌রেন বা‌ড়ি‌তে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপুর এলাকার মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা খাতুন (২৫) ঢাকার একটি পোশাক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে কাজ করার সময় ওই যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আরো পড়ুন
বহিরাগতদের হামলা, রণক্ষেত্র ডুয়েট

বহিরাগতদের হামলা, রণক্ষেত্র ডুয়েট

 

বিয়ের পর শনিবার প্রথমবারের মতো স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন মোর্শেদা। এসময় ওই যুবক নিজেকে চীনের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিদেশি নাগরিক পরিচয় পাওয়ায় অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়। তবে ওই যুবকের কাছে থাকা পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা অন্যান্য পরিচয়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

আরো পড়ুন
কিভাবে কার্যকর হবে পে স্কেল? মিলল নতুন তথ্য

কিভাবে কার্যকর হবে পে স্কেল? মিলল নতুন তথ্য

 

মোর্শেদা বেগম বেগম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরে চায়না যুবক আমাকে পছন্দ করে ঢাকায় বিয়ে করে। সে আমাকে চায়নায় নিয়ে যাবে বলে কথা দিয়েছে। তাই আমি আমার গ্রামের বাড়িতে তাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফেরদৌস আলম বলেন, ‘চীনের নাগরিক এসেছে এমন খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি উৎসুক মানুষের ভিড়। পরে তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখেছি। তারা গত ২০ এপ্রিল বিয়ে করেছেন।’

ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানে চায়নার যুবক ফুলবাড়ীর মেয়েকে বিয়ে করে কাশিপুরে এসেছে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ খবর নি‌য়ে বিস্তা‌রিত জানা‌তে পারব।

আরো পড়ুন
অনার্স পড়ুয়াদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, আবেদন শুরু

অনার্স পড়ুয়াদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, আবেদন শুরু

 

বান্দরবানে ফের অগ্নিকাণ্ড, অর্ধশতাধিক দোকান-বসতঘর ভস্মীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানে ফের অগ্নিকাণ্ড, অর্ধশতাধিক দোকান-বসতঘর ভস্মীভূত
ছবি: কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে বাঘমারা বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাজার এলাকায় হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ দোকান ও বসতঘরে দাহ্য সামগ্রী থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই দোকানে থাকা সমস্ত পণ্য হারিয়েছেন। কারো কাছে পুনরায় ব্যবসা শুরু করার মতো পুঁজিও নেই। চোখের সামনে বছরের পর বছর গড়ে তোলা ব্যবসা পুড়ে যেতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, খাবারের হোটেল, বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতঘরের আসবাবপত্রসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’

এর আগেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাঘমারা বাজার পুড়ে গিয়েছিল। কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারও একই বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক, ৪ জেলে উদ্ধার

মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর ২ সদস্য আটক,  ৪ জেলে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে এক বিশেষ অভিযান, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুই দস্যুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের গহিনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চলমান এ অভিযানের ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে ষষ্ঠ দফায় পরিচালিত অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে জানানো হয়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি বিশেষ অভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া চালিয়ে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের জিম্মিতে থাকা চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন– বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বাসিন্দা মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, রাজন শরীফ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ মামলা এমপি আশরাফের

আমানত উল্যাহ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ মামলা এমপি আশরাফের
সংগৃহীত ছবি

নিজ দলের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে ৪ টি মামলা দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপকর্মে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন এমপি নিজান। ফলে বিতর্কিত অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং তৃণমূলে স্বস্তি ফিরে আসে।

সম্প্রতি দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা ৪ মামলায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে অতীতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে এ আসনে।

বিএনপির ৪ জন নেতা জানান, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রামগতিতে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। ওই দুইটি মামলার প্রেক্ষিতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই অভিযোগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মেম্বার বাদী হয়ে ৩ নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আসামি করে কমলনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০ এপ্রিল কমলনগরের চরলরেন্স ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ বাদী হয়ে যুবদল নেতা মিলনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধ কমলনগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি করা হয় বেশ কিছু নেতাকর্মীকে। ওই মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান পুলিশ।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই ৪ মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। এর পর থেকে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডারবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনা অনেকটা কমে যায়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে সারা দেশে নিজানের রয়েছে বেশ পরিচিতি। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার এমপি হন আশরাফ উদ্দিন নিজান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনি তৃতীয়বারের মত এমপি হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ পদে রয়েছে।

এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যেও আশরাফ উদ্দিন নিজানের এমন সিদ্ধান্তে ইতিবাচক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক দলে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়। সে কাজটি করেছেন এমপি নিজান। এতে বিএনপির ভেতরে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। আর এ কারণেই স্থানীয় রাজনীতিতে এমপির প্রশংসাও দিন দিন বাড়ছে। আগের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপকর্মের ঘটনা তেমন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপও কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রামগতি উপজেলার কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানান, কিছু অসাধু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এমপি নিজানের কঠোর অবস্থানকে স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। সাধারণত জনপ্রতিনিধিরা বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও নিজ দলের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখান। কিন্তু আশরাফ উদ্দিন নিজান সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে দলীয় শৃঙ্খলা, সুস্থ রাজনীতি ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এতে রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। এমপি নিজানের এমন কঠোরতায় রামগতি-কমলনগরের বিরোধী মতের নেতাকর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।

তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, ‘দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ায় এখন সবাই সতর্ক। কেউ আর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছে না।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আশরাফ উদ্দিন নিজানের এ পদক্ষেপ নিয়ে চলছে আলোচনা। অনেকে এটিকে রাজনীতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিজের দলের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু এমপি নিজান সে সাহসিকতা দেখিয়েছেন। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন জানান, দলকে জনবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এমপি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পদ-পদবি বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও পদ পদবি বিবেচনা না করে আইন প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন। 

রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডাক্তার জামাল উদ্দিন বলেন, এমপির এমন কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার ঠিকানা তিনি। দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে এলাকার উন্নয়নে বেশী ব্যস্ত। সবসময় মানুষের কথা ভাবছেন। কোন অন্যাকে প্রশ্রয় না দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তার নির্দেশনায় কাজ করছি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি এ ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত মনিটরিং ও সাংগঠনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা বাড়বে। এ উদ্যোগ যেন ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে। তাহলে রাজনীতিতে জবাবদিহিতা বাড়বে, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের কমলনগর উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জুয়েল বলেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে কেউ ফ্যাসিস্ট হবেনা। মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করলে সেক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়ন হবে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দলীয়করণ আর থাকবেনা। এমপি নিজান সে ধারার রাজনীতি চালু করতে চায়। নিঃসন্দেহে এটি ভাল লক্ষ্মণ।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসন কঠোর হবে। নিজ দলের কেউ অপরাধ করলে তাকে আরো বেশি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। চাঁদাবাজি ও মানুষের সঙ্গে আচরণ খারাপ করে কেউ ছাড় পাবেনা। এসব বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড 'জিরো টলারেন্স'। অপরাধী যেই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।