ঋণের বোঝা কখনো কখনো মানুষের জীবনের চেয়েও ভারী হয়ে উঠে। দিনের পর দিন সেই চাপ বয়ে বেড়াতে বেড়াতে একসময় নিভে যায় বেঁচে থাকার শেষ আলোও। মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঋণের টাকা জোগাড় করতে না পেরে হতাশায় রেজাউল করিম লাভলু (৪৫) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে উপজেলার অন্বয়পুর তার নিজ বসতবাড়ির আম গাছের ডালের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওই ইউপি সদস্য শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য। মরহুম শাজাহানের ছেলে রেজাউল করিম লাভলু।
নিহত রেজাউলের ছেলে মো. রাকিব হোসেন ও তার মা কালের কণ্ঠকে বলেন, আরিচা ঘাটের শিবালয় মৎস্য আড়ত ব্যবসায়িক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের সময় ৫ লাখ টাকা দেনায় পড়েন লাভলু। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সভাপতি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি তিন লাখ টাকা জোগাড় করতে না পেরে হতাশায় আজ শুক্রবার বসতবাড়ির আম গাছের ডালে রশি দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
শিবালয় মৎস্য আড়ত ব্যবসায়িক সমবায় সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান খান হিরু বলেন, লাভলু সমিতির দায়িত্ব পালন করার সময়ে ৫ লাখ টাকা তার কাছে পাওনা হয় সমিতি। পরে সব সদস্যের সিদ্ধান্তে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। দুই লাখ টাকা একবার পরিশোধ করেছিল। বাকি তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ জন্য তাকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ঋণের কারণে আত্মহত্যা করে এমন শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।





