নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন, অর্থ আদায় এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে পূর্বধলা উপজেলার সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে দিবাগত রাত ১২টার পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ভুক্তভোগী মো. শরীফ হোসেন (২০) নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
শরীফ হোসেন জানান, ইজি বাইকে করে পূর্বধলা সদরের দিকে যাওয়ার সময় ত্রিমোহনী সেতু অতিক্রম করে শালদিঘা এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার পথরোধ করেন। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাদক কারবারির অভিযোগ তুলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করা হয়। কিছুক্ষণ পর আরো একজন সেখানে যোগ দেন।
তার অভিযোগ, তিনজন মিলে তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তাকে বলতে বাধ্য করা হয় আমি জুলাইয়ে ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভুল করেছি, শেখ হাসিনাই ভালো ছিল, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শরীফ বলেন, ঘটনার সময় চারপাশ অন্ধকার থাকায় কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। কারো বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো সন্দেহও নেই। আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। ঘটনার পর থেকে চরম মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিবস্ত্র অবস্থায় শরীফকে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সময় তাকে কান্নারত অবস্থায়ও দেখা যায়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পূর্বধলা থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।




