• ই-পেপার

মৌলভীবাজারে ২০ ইউনিয়ন প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

দিল্লির হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি চৌদ্দগ্রামের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দিল্লির হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি চৌদ্দগ্রামের
নূরুল আমিন সোহাগ। সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে হাউজ রানি এলাকার পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাংলাদেশি যুবকের নাম নূরুল আমিন সোহাগ (৪০)। তিনি উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।

নিহতের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে নিশ্চিত করেছে তার আত্মীয় হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।

তিনি জানান, সোহাগ নিজের ছোট বোন ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসার জন্য যান। বুধবার সকালে ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরে একটি আবাসিক হোটেলে সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডে সোহাগ নিহত হয়। এসময় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতিও মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতাল আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

নদীতে গোসলে নেমে এক বোনের মৃত্যু, আরেকজন নিখোঁজ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
নদীতে গোসলে নেমে এক বোনের মৃত্যু, আরেকজন নিখোঁজ

চাঁদপুর সদর উপজেলায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুই বোন নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের মরদেহ সন্ধ্যায় উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে মনোহরখাদী গ্রামে ধনাগোদা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বোনের নাম স্বপ্না সরকার (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের শম্ভু সরকারের স্ত্রী। তার বাক্‌প্রতিবন্ধী বোন রনা রানী (৩২) নিখোঁজ রয়েছেন।

ওই গ্রামের গৌর সরকার জানান, তারা দুই বোন ধনাগোদা নদীতে গোসল করতে যান। এসময় স্রোতের মুখে পড়ে ছোট বোন রনা রানী। এসময় তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এগিয়ে যান তার বড় বোন স্বপ্না। এক পর্যায়ে দুজনই নদীর স্রোতে ভেসে যান। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে স্বপ্না রানীর মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিখোঁজ রনা রানীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতের স্বজনরা স্বপ্না নারী জীবিত আছে ভেবে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, নিখোঁজ নারীকে খুঁজতে শুক্রবার সকালে ধনাগোদা নদীতে ডুবুরি দল নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

কলেজ ছাত্রদল সভাপতির আঘাতে ২ কনস্টেবল আহত

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
কলেজ ছাত্রদল সভাপতির আঘাতে ২ কনস্টেবল আহত
মিঠু মিয়া। সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনা মদনে মিঠু মিয়া নামের এক ছাত্রদল নেতার আঘাতে মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান নামের পুলিশের ২ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মিঠুকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান মদন থানায় কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত মিঠু মিয়া মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও মদন পৌরসদরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মদন সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন খবর পেয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসময় যাত্রীরা নানা হয়রানি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। তখন ওই স্থানে আসেন ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়া। পরে পুলিশ তাকে একটু দূরে সরতে বললে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় মিঠুর আঘাতে পুলিশের ২ কনস্টেবল আহত হয়। 

আহত কনস্টেবলদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল জানান, শুনেছি, একটি ঝামেলার কারণে মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি মিঠুকে আটক করেছে পুলিশ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের সঙ্গে বাস কাউন্টারে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় মিঠু নামের এক যুবক আঘাত করে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মিঠুকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, কলেজ মোড় এলাকায় যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি উপস্থিত থেকে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। এসময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

ভৈরব রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দখল নিয়ে সংঘর্ষ, ৮ পুলিশসহ আহত ৩০

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
ভৈরব রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দখল নিয়ে সংঘর্ষ, ৮ পুলিশসহ আহত ৩০
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ প্রায় ৫ ঘণ্টা যাবৎ চলছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-কিশোরগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। সংঘর্ষের জেরে বিভিন্ন স্টেশন ও আউটারে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে আছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ থামাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেলপুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ১৪-১৫ দিন আগে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের বালক ও যুবকদের মাঝে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফুটবল খেলায় ২ গ্রামবাসীর ছেলেদের মাঝে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা হামলা করে আহত করে। আহত করার খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রেলপুলিশ, পরে ভৈরব থানা পুলিশ, ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প, ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সর্বশেষ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২ দলের সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমপক্ষে ৬-৭ বার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ও কিশোরগঞ্জের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কমপক্ষে ৫টি ট্রেন আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর গোধূলি, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার- এ ৫টি ট্রেন রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়। 

এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় ভৈরব রেলস্টেশনে শত শত যাত্রীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, আমরা চেষ্টা করছি সংঘর্ষ থামাতে।

ভৈরবের ইউএনও এ কে এম মামুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে জানান, আমরা ধৈর্য ধারণ করে যাত্রী ও যানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আগাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ও সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছি।

মৌলভীবাজারে ২০ ইউনিয়ন প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ | কালের কণ্ঠ