• ই-পেপার

পানি কমছে, ভাসছে ক্ষত, পাহাড়ধসের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন : বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপ করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দুটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের নানা পরিবেশনা উপভোগ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘নতুন শুল্ক আরোপে বাণিজ্য পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। আগে যে শুল্ক নীতি ছিল তাদের আইন অনুসারে সময় অতিক্রম করায় নতুন করে একই মাত্রার শুল্ক থাকবে, তবে তা ভিন্ন নামে।’

তীব্র খাদ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ইউরিয়াসহ সব সারের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয় দুটির পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিলেট জেলা ও মাহনগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোথাও গর্ত, কোথাও ফাটল, আলগা পিচ-খোয়া

১৫ দিনেই উঠে গেল ৮৭ লাখ টাকার কার্পেটিং

রংপুর অফিস
১৫ দিনেই উঠে গেল ৮৭ লাখ টাকার কার্পেটিং
৮৭ লাখ টাকার কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে উঠে যাচ্ছে কর্পেটিং। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি অর্থে সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে কার্পেটিং। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল, আবার কোথাও সামান্য হাত দিলেই উঠে আসছে পিচ ও খোয়া। প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকার। অভিযোগ উঠেছে—কাজে মারাত্মক নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করাতেই ১৫ দিনও টিকেনি নবনির্মিত এই সড়ক।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সওজ-এর পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (পিএমপি) আওতায় কিশামত শেরপুর এলাকায় ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার সড়কের কার্পেটিং কাজ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে ‘হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড করপোরেশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের একাধিক অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিটুমিন ও পাথরের বাঁধন আলগা হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের এজিংয়ের (প্রান্তিক অংশ) ইট মূল কার্পেটিংয়ের চেয়ে উঁচু করে বসানো হয়েছে। এতে কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি সড়কের মাঝখানে জমে গিয়ে কার্পেটিং আরও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা খরচ করে রাস্তা বানাল, অথচ ১৫ দিনও টিকল না! হাত দিয়ে একটু ঘষা দিলেই পিচ উঠে আসছে। এমন হরিলুটের কাজের সঙ্গে জড়িতদের কড়া শাস্তি হওয়া দরকার।’

আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘রাস্তার দুই ধারের ইট এত উঁচু যে পানি নামার কোনো পথ নেই। সাধারণ মানুষ যা খালি চোখে বুঝতে পারছে, সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা তদারককারীরা তা কিভাবে পাস করলেন?’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের মান নিশ্চিত করতে আমি একাধিকবার ঠিকাদারকে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমার কোনো পরামর্শই কানে তোলেননি।’

তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশনের প্রতিনিধি রেদোয়ান ইকবাল। তিনি বলেন, ‘কাজ চলাকালে অতিবৃষ্টির কারণে এই সমস্যা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। যেসব জায়গায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলো আমরা নিজ খরচে আবার ঠিক করে দিচ্ছি।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এজিংয়ের ইট উঁচু থাকার কারণে পানি জমে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদারকিতে কোনো গাফিলতি কিংবা কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাতক্ষীরা সীমান্তে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল জব্দ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সীমান্তে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল জব্দ
সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরা সীমান্তে পৃথক অভিযানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ওষুধ ও মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৫ জুলাই) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির আওতাধীন কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা, তলুইগাছা এবং সদর উপজেলার কালিয়ানী, ভোমরা, ঘোনা, কুশখালী বিওপি ও ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহলদল চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, কলারোয়ার কেড়াগাছি ও ভাদিয়ালী এলাকা থেকে ১১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চৌরঙ্গী মোড় থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ, ছয়ঘড়িয়া এলাকা থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ভোমরার নবাতকাঠি এলাকা থেকে ৯ বোতল ভারতীয় উইনকোরেক্স সিরাপ (মূল্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা), দাঁতভাঙ্গা এলাকা থেকে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা এবং বাঘমারা এলাকা থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হরিণা স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।

বিজিবি জানায়, চোরাকারবারিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচার করছিল। জব্দ করা মালামালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় পণ্যের অবৈধ চোরাচালানের কারণে একদিকে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, অস্ত্র ঠেকিয়ে ৭ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, অস্ত্র ঠেকিয়ে ৭ ভরি স্বর্ণ ও টাকা লুট

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে মারধর চালিয়ে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। 

আজ শনিবার ভোররাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। 

ভুক্তভোগী প্রবাসী আলী আব্বাস জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা প্রথমেই মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। কয়েকজন তাকে পাহারায় রেখে অন্যরা ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি শুরু করে।

ভুক্তভোগী আরো বলেন, ‘ডাকাতরা সবাই অস্ত্রধারী ছিল। তারা আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে। স্ত্রীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন খুলে নেয়। পরে আলমারি ভেঙে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ছেলের কক্ষেও ঢুকে তাকে অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং তার কাছ থেকেও স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।’

এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতদল দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোবাসে ওঠে। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ডাকাতরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী বখতিয়ার উদ্দিন বকুল বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হককে অবহিত করি। একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত ডাকাতচক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

পানি কমছে, ভাসছে ক্ষত, পাহাড়ধসের শঙ্কা | কালের কণ্ঠ