ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিভাগের সহকারী সম্পাদক জিসান আহমেদ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজ। সারা রাত উৎকণ্ঠায় কাটানোর পর আজ সকালে কোনো সুসংবাদ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ফজরের পরপরই থানায় যায়। কিন্তু জিডি নিতেই সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সময় কাটিয়ে দেয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় এক রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জিসানকে গুম করার পর অপরাধী চক্র পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে। এমনকি ফোনে জিসানের কণ্ঠও শোনানো হয়েছে; সেখানে জিসান বলে, তাকে সারারাত পেটানো হয়েছে, এখন মেরে ফেলতে চায়। পুলিশ মুক্তিপণ দাবি করা সেই ফোন নাম্বারটি এখনো সচল পেয়েছে, অথচ প্রযুক্তিগত সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অপরাধীকে গ্রেপ্তার বা জিসানকে উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না! পুলিশ চাইলেই কিন্তু এই চক্রকে ট্র্যাক করে আইনের আওতায় আনতে পারে।
তারা জানায়, আমরা আশা করেছিলাম ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ পুলিশ উল্টো দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো পক্ষ মুক্তিপণ দাবি করে তাঁকে অপহরণ করেছে। প্রশাসনের কাছে যদি এই তথ্য থাকেই, তবে এখনো কেন তাঁকে উদ্ধার করা হচ্ছে না?
স্থানীয় জনশক্তিদের ভাষ্যমতে, জিসান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিতর্কিত ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা , সেই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে জিসানকে তুলে নিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা উত্তর শাখা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার প্রতিবাদে এবং জিসানের সন্ধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে নিখোঁজ হন জিসান আহমেদ।






