মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবের সমাপনী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টায় কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুর্গাবাড়ী ও ইসকন মন্দির থেকে পৃথকভাবে দুটি উল্টো রথযাত্রা বের করা হয়। নারী, পুরুষ ও শিশু ভক্তদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা দুটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিজ নিজ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে বিকেল ৫টায় কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুর্গাবাড়ী প্রাঙ্গণে রথযাত্রার তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুমন দের সঞ্চালনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হোসেন, কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় দুর্গাবাড়ি পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রদীপ দত্ত রেন্টু এবং রথযাত্রা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রমেশ পাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় দুর্গাবাড়ি পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন দত্ত, রথযাত্রা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভূষণ রায়, লোকনাথ সেবা সংঘের সভাপতি অর্জুন দেব, সাধারণ সম্পাদক অলক দেবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শোভাযাত্রায় ভক্তরা হরিনাম সংকীর্তন, ঢাক-করতাল ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে ভক্তিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। রঙিন সাজে সজ্জিত রথের সঙ্গে হাজারো ভক্ত পদযাত্রায় অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
বক্তারা বলেন, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রা শুরু হয় এবং নয় দিন পর উল্টো রথযাত্রা বা ‘বাহুদা যাত্রা’র মাধ্যমে তাঁরা পুনরায় মূল মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করেই কমলগঞ্জে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এ বছরের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।