• ই-পেপার

জ্বালানিসংকট : বায়ুবিদ্যুতে চলবে পোশাক তৈরির কারখানা

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৯৩৭ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ১

দিনাজপুর প্রতিনিধি
এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৯৩৭ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯৩৭ জন পরীক্ষার্থী। যার গড় অনুপস্থিতির হার ২.১৩ শতাংশ। এ ছাড়াও এদিন এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ২১৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এসব কেন্দ্রে এবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ৯১ হাজার ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৮৯ হাজার ৯৮ জন পরীক্ষার্থী। সে হিসাব অনুযায়ী ১৯৩৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে রংপুরে ৩৮৯, গাইবান্ধায় ৩৩৪, নীলফামারীতে ২৩২, কুড়িগ্রামে ২০৪, লালমনিরহাটে ১৩৪, দিনাজপুরে ৩৬৬, ঠাকুরগাঁও ১৬০ এবং পঞ্চগড়ে ১২৮ জন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন সই করা এক তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা : দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা : দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আকাশ হোসেন হত্যা মামলায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরো দুই আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আকাশ হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার জিয়াউল হকের মেয়ে জেসমিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে জেসমিনের বাবা জিয়াউল হক তা মেনে নেননি।

২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন মোবাইল ফোনে আকাশকে তাদের বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। আকাশ তার বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

দুই দিন পর স্থানীয়রা জেসমিনদের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়সংলগ্ন আবর্জনা ফেলার গর্তে মাটির সঙ্গে মিশ্রিত রক্ত দেখতে পান। খবর পেয়ে আকাশের বাবা ঘটনাস্থলে যান এবং পরে পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে গলাকাটা ও পচাগলা অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আকাশের বাবা মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় চার আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা

বেঞ্চ নেই, পরিত্যক্ত ঘরের মেঝেতে বসে পাঠ

নতুন ভবন নির্মাণ দাবি

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
বেঞ্চ নেই, পরিত্যক্ত ঘরের মেঝেতে বসে পাঠ
নিজস্ব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত। তাই পাশের বিদ্যালয় পরিত্যক্ত কিন্তু কম ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের মেঝেতে বসে পাঠ নিচ্ছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বারুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

পাশাপাশি দুইটি বিদ্যালয়। একটি প্রাথমিক অপরটি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রাথমিকের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত। তাই পাশের উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত তবে কম ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ঘরটি শিশু শিক্ষার্থীদের ভরসা। সেখানে নেই আলাদা শ্রেণিকক্ষ। বসার বেঞ্চ নেই। ছোট্ট শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেঝেতে বসে মাথা নিচু করে পড়ছে, লিখছে। 

এমন অবস্থা কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৫২ নম্বর বারুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টিনের বেড়া দেওয়া ছোট্ট কক্ষের মেঝেতে বসে পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বই-খাতা মেঝেতে রেখেই লিখতে হচ্ছে শিশুদের। 

বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বসে লেখাপড়া করায় শিক্ষার্থীদের মাথাব্যথা হয়; ঘাড় ও কোমরে ব্যথা হয়।। এতে তাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বারুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের একটি ভবনের দেয়ালে দেখা দেয় বড় বড় ফাটল। ছাদের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কয়েক বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ। 

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দেয়। পরে বাধ্য হয়ে  পাশের বারুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়। সেখানকার  মেঝেতে বসে পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা সেখানে নেই প্রয়োজনীয় বেঞ্চ-টেবিল কিংবা শিশুদের উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ; নেই বৈদ্যুতিক সংযোগও।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার ও তাসলিমা আক্তার জানায়, প্রতিদিন মেঝের ধুলোবালিতে বসে ক্লাস করতে তাদের খুব কষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিচু হয়ে লিখতে গিয়ে ঘাড় ও কোমরে ব্যথা হয়। তাদের ভাষ্য, ‘বর্ষাকালে টিনশেড কক্ষে বৃষ্টির পানি পড়ে। গরমে টিনের তাপে বসে পড়া লেখা করা যায় না। অন্যসব স্কুলে নতুন ভবন আছে, আমাদের নেই। আমরা নতুন ভবন চাই।’

আনোয়ার হোসেন নামের এক অভিভাবক কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশুরা পড়তে এসে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এই স্কুলটি ভিন্ন। এই সময় এসেও আমাদের সন্তানদের মেঝেতে বসে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এটা শুধু কষ্টের নয়, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ-টেবিল সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি।’ 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিমুল চন্দ্র সূত্রধর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওরা (শিক্ষার্থী) যখন মেঝে বসে লেখে, ওদের চেহারার  দিকে তাকানো যায় না। ওরা বিভিন্ন সময় এসে বলে স্যার ঘাড় ব্যথা করে, কোমর ব্যথা করে। কিন্তু কী করব। ওদের কী বলব। দীর্ঘ সময় মাথা ঝুঁকে বসে লেখা কষ্ট। পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন করা হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট দূর হবে।’

প্রধান শিক্ষক রেহেনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কয়েক বছর আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে। এই টিনসেড ঘরটিও পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়েছিল। 

প্রধান শিক্ষক জানান, ঘরটিতে বেঞ্চ টেবিল কিছুই  নেই। বাধ্য হয়ে শিশুদের মেঝেতে বসেই পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মাথা নিচু করে লেখায় অনেক শিক্ষার্থীর ঘাড়ে ব্যথার সমস্যা হয়েছে। পড়ালেখা করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা।  আমাদের আর কোনো উপায়ও নেই।

দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বারুর বিদ্যালয়ের একটি ভবনও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া আছে। 

বিদ্যালয়ের শিশুদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘বারুর বিদ্যালয়ে  শিশুরা মেঝেতে বসে ক্লাস করছে- বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। জানালে একটা ব্যবস্থা করতাম। এর পরও আমি যেহেতেু এখন জেনেছি, ব্যবস্থা নেব।’

পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরিকৃত অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরুজ্জামান, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আলতাফ হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক এস. এম. ফরিদুর রহিম এবং মোটর মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ জনের পরিবার এবং আহত ৩ জনসহ মোট ২১টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৯৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

এ সময় বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারের এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানিসংকট : বায়ুবিদ্যুতে চলবে পোশাক তৈরির কারখানা | কালের কণ্ঠ