• ই-পেপার

ডুবে ভেসে ১৩ ঘণ্টা সংগ্রামের পর উদ্ধার ব্যাংক কর্মকর্তা

সখীপুর

প্রাথমিকের বৃত্তিতে যমজ তিন ভাই-বোনের চমক

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রাথমিকের বৃত্তিতে যমজ তিন ভাই-বোনের চমক
ছবি : কালের কণ্ঠ

এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরে চমক দিখিয়েছে যমজ তিন ভাই-বোন। উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলো ফাতেমা আক্তার শেমী (১২), আনাস আল মামুন (১২) ও আরাফাত আল মামুন (১২)। তারা উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রামের প্রবাসী মো. শামীম এবং ঘাটেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আর্জিনা আক্তারের সন্তান।

তিন ভাই-বোন বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। বর্তমানে তারা সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভঃ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

শিক্ষার্থীদের মা আর্জিনা আক্তার বলেন, ‘তিন সন্তানই পড়াশোনায় মনোযোগী। তাদের এই অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং পরিবারের উৎসাহ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের বাবা বিদেশে থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনার খোঁজখবর নিতেন এবং সন্তানদের উৎসাহ দিতেন। আমি চাই, তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করুক। সবার কাছে তাদের জন্য দোয়া চাই।’

বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবার চারজন ট্যালেন্টপুল এবং চারজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে যমজ তিন ভাই-বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তারা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, উপজেলার বৃত্তির ফলাফলে বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা বিদ্যালয়ের জন্যও বড় অর্জন। একসঙ্গে তিন যমজ ভাই-বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের এই বিরল সাফল্য এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, ‘তিন সহোদরের এমন কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’ ভবিষ্যতে তারা এমন সাফল্য ধরে রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালাইয়ের তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্প

কাগজে ১২৫ শ্রমিক, তালিকায় সভাপতির ভাই-ভাতিজা

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
কাগজে ১২৫ শ্রমিক, তালিকায় সভাপতির ভাই-ভাতিজা
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। প্রথমে শ্রমনির্ভর প্রকল্পে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে অধিকাংশ কাজ করানো এবং প্রকৃত শ্রমিকের পরিবর্তে কাগজে অতিরিক্ত শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এবার সেই প্রকল্পের শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে নতুন অনিয়ম। তালিকায় প্রকল্প সভাপতির আপন ছোট ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই, মামাসহ একাধিক নিকট আত্মীয়-স্বজন এবং স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি স্থানীয়দের দাবি, অন্য এলাকার কয়েকজনের নামও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) আওতায় উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য ১২৫ জন শ্রমিকের তালিকা জমা দেন প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আমজাদ হোসেন।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। খালের অধিকাংশ অংশই ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল দিয়ে কাজ করতে দেখা গেলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প চলাকালে কোনো দিনই ৬০ থেকে ৬৫ জনের বেশি শ্রমিক মাঠে কাজ করেননি। অথচ সরকারি নথিতে প্রতিদিন ১২৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন বলে দেখানো হয়েছে।

শ্রমিক তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩ নম্বর তুহিন মাহমুদ, ৮ নম্বর আবুল হোসেন, ১৮ নম্বর সাজ্জাদুল ইসলাম, ২১ নম্বর আনোয়ার হোসেন, ৪৩ নম্বর রমজান আলী প্রামাণিক, ৪৫ নম্বর রেজাউল হক, ৫৭ নম্বর এনামুল হক সরকার, ৬১ নম্বর রুবেল হোসেন, ৬৬ নম্বর মফিদুল ইসলাম, ৬৭ নম্বর মামুনুর রশিদ প্রামাণিক, ৭৮ নম্বর তারেকুল ইসলাম, ৮২ নম্বর তৌফিকুল ইসলাম, ৯৬ নম্বর এনামুল হক প্রামাণিক, ৯৭ নম্বর মাহমুদুল হাসান এবং ১১৬ নম্বর আবু জাহের ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি পেশাদার দিনমজুর নন। তার পরও তাঁদের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, তালিকার ৩৯ ও ৫৫ নম্বরে থাকা আলমগীর এবং হোসেন আমিনুল ইসলাম প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেনের আপন ছোট ভাই। ২৪ নম্বর জিয়াউর রহমান ও ৩৪ নম্বর সুজাউল ইসলাম তাঁর চাচাতো ভাই, ৬৮ নম্বর সানাউল হক মণ্ডল তাঁর মামা এবং ৯৫ নম্বর এসআই পাশা তাঁর আপন ভাতিজা। একই তালিকার ৪২ নম্বরে থাকা এম এ ফারুক হোসেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শ্যালক বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শুধু আত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করেই ক্ষান্ত হননি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা, শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তাঁদের দাবি, শ্রমিক তালিকার ৬১ নম্বর রুবেল হোসেনের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ৬০ নম্বর হাফেজ আকন্দের চেকে আরিফুল ইসলাম স্বাক্ষর করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই হিসাবের সঙ্গে আবার প্রকল্প সভাপতির মেয়ে আমিনা খাতুন তিশার মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো সরকারি অর্থ উত্তোলনে অনিয়মের সন্দেহ আরো জোরালো করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ‘তাঁদের কখনোই ওই প্রকল্পে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম রাখার কথা বলে আগে থেকেই তাঁদের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কারো হাতে ৫০০ টাকা, কারও হাতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কোনো টাকাই পাননি। অথচ তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে দুই কিস্তিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তালোড়া-বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা সুমির জালাল বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। আমজাদ হোসেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। মাঠে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। বাকি অধিকাংশই প্রকল্প সভাপতির আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত লোকজন। পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এখন প্রকল্পের কাজ করবো না তো কি চুরি করে খাব? শ্রমিকের তালিকায় আমার ভাই, ভাতিজা ও স্বজনদের নাম আছে তো কী হয়েছে? কী লেখার আছে লিখেন তো?

১২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেছেন—এমন দাবির পক্ষে ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতির কয়েকজন নিকট আত্মীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয়ের নাম থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত ৫২ লাখ টাকার মধ্যে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘শ্রমিকের তালিকায় অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় বিলের একটি অংশ পরিশোধ না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার, ডেভিড ইমন অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার, ডেভিড ইমন অধরা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ডিডিএনের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির, মো. গিয়াস, মো. নয়ন ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ফরহাদ। এর মধ্যে ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মনিরের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের মুঠোফোনে কল করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তারা কার নির্দেশে হামলা চালিয়েছে, তা জানতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের পরিচয়ও বেরিয়ে আসবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন অংশ নিয়েছিল। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করা না যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আপনাদের কাছেও কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানাবেন।

ইমনের বিরুদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। তার নামে অনেকগুলো মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রামে নীরবে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, যেসব এলাকার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, সেসব স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ হুমকি দিলে বা চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।

কটিয়াদী

সড়কজুড়ে খানাখন্দ, দুর্ভোগে ২ ইউনিয়নের বাসিন্দা

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
সড়কজুড়ে খানাখন্দ, দুর্ভোগে ২ ইউনিয়নের বাসিন্দা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের স্বনির্ভর মোড় এলাকায়। মঙ্গলবার তোলা। কালের কণ্ঠ

পিচ, খোয়া উঠে বেরিয়ে পড়েছে ইট। অনেক জায়গায় সেই ইটও উঠে গেছে। তারপর মাটি উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে। একটু অসতর্ক হলেই উল্টে যায় ইজি বাইকের মতো হালকা যান।    

এমন অবস্থা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের। জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নকে উপজেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির আরেক নাম এখন দুর্ভোগ। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। 

স্থানীয়রা জানায়, এই সড়ক ব্যবহার করে একটি আলিম মাদরাসা ও পরীক্ষা কেন্দ্র, একটি বালিকা মাদরাসা, সরকারি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের  প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া রোগী, ব্যবসায়ীসহ  সাধারণ মানুষকে একইরকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কটির খারাপ অবস্থার কারণে ব্যবসায় মারাত্মক মন্দা চলছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এই সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ফলে কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও সৃষ্টি হয় খানাখন্দ। তাদের মতে, সড়কটিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য পিচের পরিবর্তে আরসিসি ঢালাই করা প্রয়োজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নরসিংদীর মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করে। কটিয়াদী মডেল থানার সামনে থেকে লোহাজুরী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই নাজুক। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতেও পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে, সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রায়ই যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, কখনো কখনো যানবাহন উল্টেও যাচ্ছে। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই সড়কের ঝাঁকুনির কারণে প্রসূতি রোগীর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জালালপুর ইউনিয়নের নদীর বাঁধসংলগ্ন চালের মিল এলাকা থেকে থানা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। 

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, ইট ও বালুবাহী ট্রাক্টরের অতিরিক্ত চলাচলেও দ্রুত সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও দোকানের বারান্দা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

জালালপুরের ফেকামারা গ্রামের বাসিন্দা মানিক বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে আমাদের চরম কষ্ট হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে টেকসই কাজ হয় না। বছর না ঘুরতেই আবারো খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। আরসিসি ঢালাই করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’

ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। বৃষ্টি হলে গাড়ির চাকায় কাদাপানি ছিটকে দোকানের ভেতর পড়ে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’ 

মনির হোসেন, ফাহিম ও সবুজসহ কয়েকজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজে গিয়ে জামাকাপড় কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, কিন্তু সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

অটোরিকশার চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘২০ মিনিটের রাস্তা যেতে এখন ৪০ মিনিট লাগে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পরপর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, আবার অনেক সময় গাড়ি উল্টেও যায়।’

লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের অবস্থাও একই। কটিয়াদীতে যেতে হলে মনে ভয় কাজ করে।’

কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক কালের কন্ঠ'কে বলেন, ‘সরেজমিন সড়কটি পরিদর্শন করেছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

ডুবে ভেসে ১৩ ঘণ্টা সংগ্রামের পর উদ্ধার ব্যাংক কর্মকর্তা | কালের কণ্ঠ