• ই-পেপার

‘১০ বছরেও ইউনিভার্সিটি থেকে বের হতে পারবে না’

পীরগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
পীরগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে আজ সোমবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর ভাই।

অভিযুক্তরা হলেন, পার্বতীপুর গ্রামের বিদ্যুৎ সরকার, রতন মিয়া, হবিবর রহমান ও মিথুল এবং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের হাফিজার রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় দরগাহ ইউনিয়নের ডাসারপাড়া গ্রামের ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী জানান, গত ১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ওই নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। প্রবল বৃষ্টির কারণে তিনি পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বারাইপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় নেন। ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৫ অভিযুক্ত তাঁকে সেখান থেকে জোর করে তুলে বড় দরগাহ ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের একটি মুদি দোকানে নিয়ে যান। পরে দোকান বন্ধ করে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁকে দোকান থেকে বের করে দিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় দুই জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিব।’

হামলা-মারধরের পর স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ যুবকের

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
হামলা-মারধরের পর স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ যুবকের
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হামলা, মারধরের পর নববিবাহিত স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন আব্দুল কাদির (২২) নামের এক যুবক।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কাদির দাবি করেন, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৪ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তানজিনা রহমান সাদিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। তবে মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। প্রায় দুই মাস আগে তার স্ত্রী স্বেচ্ছায় তার বাড়িতে চলে আসার পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

তার দাবি, সোমবার দুপুরে স্ত্রী ও স্বজনদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে একটি দাওয়াতে যাওয়ার পথে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন আহত হন।

আব্দুল কাদিরের অভিযোগ, হামলার সময় তার স্ত্রী তানজিনা রহমান সাদিয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হরিদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
হরিদাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ির হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম গাইবান্ধা জেলা শাখা। সোমবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকার একটি কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিক ফোরাম গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে কথিত রামমূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং দেশবিরোধী যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা হচ্ছে। এই আন্দোলনে একটি দাবি ছিল ধর্মকে পুঁজি করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনে জড়িত এই প্রতারক হরিদাসকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা এবং কথিত রামমূর্তি অপসারণ করা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হরিদাস গ্রেপ্তার হলেও তাদের এই আন্দোলন এখনই শেষ হয়ে যায়নি। এই ষড়যন্ত্রের শিকর উপড়ে ফেলতে তারা সরকারের কাছে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- রামমূর্তি দ্রুত অপসারণ করে ধর্মের আড়ালে এবং উসকানিমূলক উদ্দেশ্যে মন্দিরের বাইরে রামমূর্তিসহ খোলা আকাশের নিচে স্থাপিত সব মূর্তি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। হরিদাসের অর্থায়নের উৎস অসুন্ধান করে ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার যে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য ওঠে এসেছে তা তদন্ত করতে হবে। এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের পেছনে কোন বিদেশি রাষ্ট্র বা উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মদদ ও অর্থায়ন রয়েছে কিনা, তা খুঁজে বের করতে হবে। সেইসঙ্গে হরিদাসসহ তার সব সহযোগীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। হরিদাসের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য কুশীলব ও সব সহযোগীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দেশদ্রোহী ও মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে হরিদাসসহ তার সব সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুল মাজেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান সবুজ, প্রচার সম্পাদক মুফতি মো. হেলাল উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, রবিবার মধ্য রাতে ঢাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বহুল আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার নামে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা রয়েছে।

গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন দুই ফিড কারখানাকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরে লাইসেন্সবিহীন দুই ফিড কারখানাকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পোলট্রি ও ফিশ ফিড (মাছ ও মুরগির খাদ্য) উৎপাদন ও বিক্রি করার অপরাধে গাজীপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা ও ভান্নারা এলাকায় বিএসটিআইয়ের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম।

কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা এলাকার ‘কমফিড বাংলাদেশ পিইটি লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় তল্লাশি চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ও পণ্য মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই পোলট্রি ফিড বিক্রি ও বিতরণ করছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অপরাধে বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে উপজেলার ভান্নারা এলাকায় অবস্থিত ‘কৃষিপণ্য ফিডস লিমিটেড’ নামের আরেকটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানেও বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া পোলট্রি ও ফিশ ফিড উৎপাদন ও বাজারজাত করার প্রমাণ মেলে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অন্য নামি প্রতিষ্ঠানের বস্তা ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করছিল। এসব অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে বিএসটিআই গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অফিসপ্রধান এস এম তালাত মাহমুদ এবং সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজাল ও অবৈধ বিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

‘১০ বছরেও ইউনিভার্সিটি থেকে বের হতে পারবে না’ | কালের কণ্ঠ