রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকাগামী বাসের টিকিট কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানা।
আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল।
গ্রেপ্তাররা হলেন– গংগাচড়া উপজেলার তালুক হাবুর মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ কবির মিয়া (৪৩), তাজহাট এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে এনামুল (৩২) এবং নগরীর গুড়াতিপাড়ার মৃত মঞ্জুর আলীর ছেলে টিটল (৫০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মর্ডান মোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসের টিকিট আগেভাগে সংগ্রহ করে রাখত। পরে সেই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে দ্বিগুণ কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে তারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছিল। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন।
শুক্রবার রাতে মর্ডান মোড়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় তাজহাট থানা পুলিশ। এ সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা নিয়মিত বাসের টিকিট সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাস টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কমাতে এ ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা নিয়মিত অভিযান ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ চক্রের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তি নিরসন এবং টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে তাজহাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী সকল অপরাধ দমনে আমরা সর্বদা তৎপর এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি আরো বাড়ানো হবে, যেন কোনোভাবেই যাত্রী হয়রানি বা সিন্ডিকেটভিত্তিক ভাড়া বাণিজ্য গড়ে উঠতে না পারে।






