• ই-পেপার

কোরআনের বাণী

যেদিন অপরাধ স্বীকার কোনো কাজে আসবে না

শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া

মুফতি ওমর বিন নাছির
শয়তান থেকে সুরক্ষা লাভের দোয়া
সংগৃহীত ছবি

শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে যুগে যুগে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করছে। কখনো কুমন্ত্রণা দিয়ে, কখনো পাপকে সুন্দর করে দেখিয়ে, আবার কখনো হতাশা ও সন্দেহ সৃষ্টি করে সে মানুষের ঈমান ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন মুমিনের জন্য শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। তেমনি একটি দোয়া হলো- 

لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ 

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। 

হাদিস : মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দিনে একশ বার এই দোয়া পাঠ করবে,এই দোয়া দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে...। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩২৯৩)

হাদিসের বাণী

গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
গোপনীয়তা রক্ষায় নববী শিক্ষা
সংগৃহীত ছবি

সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) বলেন, একবার মহানবী (সা.) আমার কাছে এলেন, আমি তখন পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি এসে আমাদের সালাম দিলেন। তিনি আমাকে কোনো একটা প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। ফলে আমার মা আমাকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে পান নি। আমি বাড়িতে ফিরলে আমার মা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বললাম, মহানবী (সা.) আমাকে তাঁর একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন। মা বললেন, কোন কাজে? আমি বললাম, সেটা তো মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়। তখন মা আমাকে বললেন, মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় কারও কাছে তুমি প্রকাশ করবে না। তারপর আনাস (রা.) বলেন, ওয়াল্লাহি, (আল্লাহর কসম)  হে সাবিত, আমি যদি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলতাম, তাহলে তোমাকে বলতাম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৬৩৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০৬০)

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মহানবী (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন। তিনি আনাস (রা.) ও তাঁর সাথীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিয়েছেন। 

২. শিশুদেরও সালাম দেওয়ার মাধ্যমে মহানবী (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সালাম শুধু বড়দের জন্য নয়; ছোট-বড় সকল মুসলমানের মধ্যে সালামের প্রচলন করা সুন্নত।

৩. আনাস (রা.) মহানবী (সা.)-এর গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, কারও ব্যক্তিগত বা আমানতস্বরূপ কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করা বৈধ নয়।

৪. আনাস (রা.)-এর মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করার পর যখন জানলেন এটি মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত বিষয়, তখন তিনি তা জানার জন্য চাপ দেননি; বরং গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন। এটি আদর্শ অভিভাবকত্বের দৃষ্টান্ত।

৫. আনাস (রা.) মায়ের কাছে মিথ্যা অজুহাত দেননি; বরং সত্য বলেছেন যে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাজে গিয়েছিলেন। একজন মুমিন সর্বদা সত্য কথা বলবে।

৬. আনাস (রা.) বহু বছর পরও সেই গোপন বিষয় প্রকাশ করেননি। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমানতদারি, তাকওয়া ও নবী ﷺ-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পরিচয় বহন করে।

৭. অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল পরিহার করা জরুরি। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ বা অনুসন্ধান করা ইসলামের আদর্শ নয়। মানুষের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
 

কাবার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো

ইসলামী জীবন ডেস্ক
কাবার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কাবা শরিফ—মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য প্রতীক। পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান প্রতিদিন এই পবিত্র ঘরকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু কাবার বাহ্যিক অবয়ব সবার পরিচিত হলেও এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ কেমন, ভেতরে কী কী রয়েছে এবং কীভাবে সাজানো আছে—তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহলের শেষ নেই।

বিশ্বের অন্যতম পবিত্র এই স্থাপনার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা হয় না। বিশেষ ধৌতকরণ অনুষ্ঠান এবং সৌদি আরব সরকারের আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের জন্য বছরে সীমিত সময়ে কাবার দরজা খোলা হয়। যারা ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক অনাড়ম্বর অথচ গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের কথা, যেখানে জাঁকজমকের চেয়ে বেশি অনুভূত হয় পবিত্রতা ও প্রশান্তি।

কাবার ভেতরের কাঠামো
কাবা শরিফের উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার। এর অভ্যন্তরীণ অংশ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ঐতিহাসিক গুরুত্বে সমৃদ্ধ।

তিনটি শক্তিশালী স্তম্ভ
কাবার ছাদকে ধারণ করে আছে সারিবদ্ধভাবে স্থাপিত তিনটি মজবুত কাঠের স্তম্ভ। ইতিহাসবিদদের মতে, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর সময় থেকে এ ধরনের স্তম্ভ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উন্নতমানের টিক কাঠ দিয়ে নির্মিত এসব স্তম্ভ বর্তমানে নান্দনিক অলংকরণে সুসজ্জিত, যা কাবার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

মার্বেলখচিত মেঝে ও দেয়াল
কাবার মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ সাদা ও ধূসর মার্বেল পাথরে আবৃত। দেয়ালের ওপরের অংশে রয়েছে সবুজ রঙের বিশেষ কাপড় বা প্যানেল, যেখানে স্বর্ণখচিত ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত অঙ্কিত রয়েছে। সরলতা ও সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় কাবার ভেতরের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও মর্যাদাপূর্ণ।

দ্বিস্তরবিশিষ্ট ছাদ
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে কাবা শরিফের কোনো ছাদ ছিল না। পরবর্তীতে কুরাইশরা পুনর্নির্মাণের সময় প্রথম ছাদ নির্মাণ করে। পরে কাঠামোকে আরও মজবুত ও নিরাপদ করতে অতিরিক্ত আরেকটি ছাদ সংযোজন করা হয়।

কাবার ভেতরের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন : কাবার অভ্যন্তরে এমন কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, যা ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।

বাবুত তাওবা 
কাবার ভেতরে প্রবেশের পর ডান পাশে একটি ছোট সোনালি দরজা চোখে পড়ে। এটি ‘বাবুত তাওবা’ বা ‘তাওবার দরজা’ নামে পরিচিত। এই দরজার মাধ্যমে কাবার ছাদে ওঠার সিঁড়ির পথ রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রদীপ ও ঝাড়বাতি
অভ্যন্তরের স্তম্ভগুলোর সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক প্রদীপ, মশাল ও অলংকৃত ঝাড়বাতি। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন শাসক, খলিফা ও বাদশাহরা বিভিন্ন সময়ে এগুলো উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন। এসব নিদর্শন কাবার দীর্ঘ ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের স্মৃতিবিজড়িত স্থান
মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। 

সুগন্ধির সংরক্ষণস্থল
কাবার ভেতরে একটি মার্বেল নির্মিত স্থান রয়েছে, যেখানে বিশেষ সুগন্ধি সংরক্ষণ করা হয়। উদ, কস্তুরি, অ্যাম্বার ও গোলাপজলের মতো মূল্যবান সুগন্ধি ব্যবহার করা হয় কাবার অভ্যন্তরকে সুবাসিত রাখতে।

সংস্কারকারীদের স্মারক ফলক
কাবার দেয়ালে বিভিন্ন যুগে সংস্কারকাজে অবদান রাখা খলিফা, সুলতান ও শাসকদের নামসংবলিত কয়েকটি মার্বেল ফলক সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলো কাবার রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের দীর্ঘ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আধ্যাত্মিকতার আবাসস্থল
কাবার ভেতরে প্রবেশের সৌভাগ্য খুব কম মানুষেরই হয়। তবে যারা এই সুযোগ পেয়েছেন, তারা প্রায় সবাই একমত—কাবার অভ্যন্তরে কোনো রাজকীয় চাকচিক্য নেই; আছে এক গভীর প্রশান্তি, বিনয় ও আল্লাহর মহিমার অনুভূতি। মার্বেলখচিত দেয়াল, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সুগন্ধিময় পরিবেশের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় সেই পবিত্রতার আবেশ, যা যুগের পর যুগ মুসলিম হৃদয়কে এই ঘরের প্রতি আকৃষ্ট করে রেখেছে।

পবিত্র কাবা শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইবাদত ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের চিরন্তন প্রতীক। এর অভ্যন্তরের প্রতিটি অংশ যেন ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

পরিশ্রম যেভাবে সাফল্য বয়ে আনে

মাইমুনা আক্তার
পরিশ্রম যেভাবে সাফল্য বয়ে আনে
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সফলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘ সাধনা, অধ্যবসায় ও অবিরাম প্রচেষ্টার ফল। পৃথিবীর ইতিহাসে যাঁরা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেউই এক দিনে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাননি।  অসংখ্য ব্যর্থতা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ধৈর্য ও পরিশ্রমের পথ অতিক্রম করেই তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছেছেন। কারণ মহান আল্লাহ এই পৃথিবীকে কর্মের ক্ষেত্র হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এখানে প্রাপ্তির সঙ্গে প্রচেষ্টা এবং সফলতার সঙ্গে সাধনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলামও মানুষকে অলসতা বা ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকতে শেখায় না। বরং চেষ্টা, সংগ্রাম ও কর্মনিষ্ঠাকে সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এই যে মানুষ তাই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : আন নাজম, আয়াত : ৩৯)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, মানুষ তার কর্ম ও প্রচেষ্টার ফলই লাভ করে। চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া কোনো অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্মফলেরই মুখোমুখি হবে। (তাফসিরে কুরতুবী)

পার্থিব জীবনের সাফল্যের মতো আখিরাতের সফলতাও চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া অর্জিত হয় না। আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাতের সৌভাগ্য কিংবা আত্মিক উৎকর্ষ—কোনোটিই অলসতার মাধ্যমে লাভ করা যায় না। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর পথে চলতে চায় এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে, আল্লাহ নিজেই তার জন্য হেদায়েতের পথ খুলে দেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে চেষ্টা-সংগ্রাম করবে, তাদের আমি আমার পথ দেখাব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

এই আয়াতের তাফসিরে ফুদাইল ইবনে আয়াদ বলেন, ‘যারা বিদ্যার্জনে ব্রতী হয়, আমি তাদের জন্য আমলও সহজ করে দিই।’ (বাগভী)

আসলে মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা কখনোই আল্লাহর কাছে মূল্যহীন নয়। কোনো ব্যক্তি যদি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পরিশ্রম করে, আল্লাহ তাকে তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না; বরং ধীরে ধীরে তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করেন, কল্যাণের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং নেক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন।

মুমিনের জীবনের লক্ষ্য শুধু দুনিয়াবি সফলতা নয়; বরং আখিরাতের স্থায়ী মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই একজন মুমিন ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের পাশাপাশি নফল আমল, দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন ও মানবসেবার মাধ্যমে নিজের আমলের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তাআলা এমন প্রচেষ্টাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আর যারা মুমিন হয়ে আখিরাত কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে। তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৯)

অতএব, সফলতার স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়; সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নিরলস চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন। দুনিয়ার কোনো ক্ষেত্রেই হোক কিংবা আখিরাতের কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যেই হোক, মহান আল্লাহ চেষ্টা ও সাধনাকেই সফলতার সোপান বানিয়েছেন। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো হতাশ না হয়ে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে আন্তরিক প্রচেষ্টার কোনো প্রতিদান কখনোই আল্লাহর কাছে হারিয়ে যায় না। একদিন না একদিন তিনি তার শ্রম, ত্যাগ ও সাধনার উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দান করবেন।