• ই-পেপার

'জমি কিনে হলেও সবাইকে ঘর তৈরী করে দেয়া হবে'

চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হসপিটাল
ছবি: কালের কণ্ঠ

মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বাঁশখালির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড। ত্রাণ দেওয়া হয়েছে কোকদন্ডি, ইলশা, চাপাছড়ি, বাহারচড়া, মাইজপাড়া, বাশখালা, বাগমারা, কাথরিয়া, বৈলছড়িসহ আরো দুর্গত এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক প্রয়াস কেবল একটি ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং সমাজের প্রতি পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেডের দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা।’

পার্কভিউ হসপিটালের মার্কেটিং ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম ও মার্কেটিং বন্যাদুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।

প্রসঙ্গত, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া এলাকা প্লাবিত হয়। ২০১৪ সালের ফেনীর বন্যার পর এ অঞ্চলের এটি বড় মানবিক বিপর্যয়। গত ১০ জুলাই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ১২ জুলাই বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলামসহ এনসিপি নেতৃবৃন্দ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

১৩ জুলাই সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন।

১৪ জুলাই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

নওগাঁয় ডাবে চেতনানাশক মিশিয়ে প্রতারণা, চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় ডাবে চেতনানাশক মিশিয়ে প্রতারণা, চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চুরি হওয়া অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ঘুমের ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি এলাকার মন্ত মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনার খেজুরতলা এলাকার ইসাইল হোসেনের ছেলে হুমায়ন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই এলাকার ছই মুদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৪১)।

পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ ভাড়া নেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুই ব্যক্তি নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে তারা চালককে একটি ডাব খেতে দেন। ওই ডাবের পানিতে আগে থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার পর চালক অচেতন হয়ে পড়লে তার অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ঘুমের ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ইব্রাহীম ও হুমায়নের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে আসছিল। অপর দুই আসামি খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে : জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে :  জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে তিনি সফল বা ব্যর্থ—কোনোটিই বলতে চান না। তার ভাষায়, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এটি এখনো ‘অসমাপ্ত’ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা নতুন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘পল্লী নিবাসে’ কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনকে আমি সফল বা ব্যর্থ বলতে চাই না। কারণ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তাই আমি বলব, আন্দোলনটি এখনো অসমাপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণ আশা করেছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনে দলীয়করণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মতকে সম্মান করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি, মামলা-হামলা এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় আন্দোলন কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জি এম কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে জনগণের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাদক এখন সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধে আরো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর মহানগর ও জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টায় পল্লী নিবাসে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর যে অবদান, তা মানুষ কখনো ভুলবে না। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিস্তার স্রোতে ভাঙল নতুন তীর সংরক্ষণকাজ, পানিবন্দি ৫০০ পরিবার

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
তিস্তার স্রোতে ভাঙল নতুন তীর সংরক্ষণকাজ, পানিবন্দি ৫০০ পরিবার
ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে, প্রায় ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছর ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করে। নতুন বাঁধ নির্মাণে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তা স্থায়ী হয়নি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। একই সঙ্গে নদীর পানিতে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে যায়, প্রায় ৫০০টি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। সোমবার রাতের পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার ঘরবাড়ি সরানোর চিন্তায় আছি।’

নরশিং এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার অনেক টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু এত দ্রুত যদি ভেঙে যায়, তাহলে এই বাঁধ দিয়ে আমাদের কী লাভ হলো? এখন আবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারানোর ভয়।’

হরিণচড়া গ্রামের সাইদুল বলেন, ‘বাঁধ হওয়ার পর মনে হয়েছিল ভয় কেটে গেছে। এখন দেখি বাঁধও নদীতে চলে যাচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন ঘরটাও নদীতে ভেঙে পড়ে। ভাঙন শুরুর পর দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো এতটা ক্ষতি হতো না। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও ব্লক না ফেললে পুরো বাঁধই নদীগর্ভে চলে যাবে।’

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

'জমি কিনে হলেও সবাইকে ঘর তৈরী করে দেয়া হবে' | কালের কণ্ঠ