জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তীব্র তাপদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের মানুষের। আগুনঝরা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেনাপোল বাজার, পোর্ট এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিক, ট্রাকচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরেরা।
যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার দুপুর তিনটার সময় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৮ শতাংশ। আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। অনেকের কাছেই এই গরম ৪১ থেকে ৪২ ডিগ্রির মতো অনুভূত হচ্ছে।
টানা কয়েকদিন ধরেই দেশের উষ্ণতম জেলার তালিকায় রয়েছে যশোর। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্ত শহর বেনাপোলেও। বিশেষ করে খোলা জায়গা ও পিচঢালা সড়কে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
দুপুরের পর বেনাপোল চেকপোস্ট, পোর্ট গেট, বাজার এলাকা, বড়আঁচড়া সড়ক ও বন্দরের আশপাশে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে যায়। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অনেকের হাতেই দেখা গেছে ছাতা, পানির বোতল কিংবা ভেজা গামছা।
তীব্র রোদে বেনাপোল বন্দরের পিচঢালা সড়কগুলো যেন আগুন ছড়াচ্ছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত গরমে সড়কের পিচ নরম হয়ে গেছে। বন্দরের খোলা ইয়ার্ডে কাজ করা শ্রমিকদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরের সময় কনটেইনারের পাশে দাঁড়ানোই যায় না। গরম লোহার মতো হয়ে থাকে। কাজ করতে গিয়ে বারবার পানি খেতে হচ্ছে। ট্রাকচালক সাগর হোসেন বলেন, রাস্তায় গরম বাতাসে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কেবিনের ভেতরও প্রচ- গরম লাগে। একটু পরপর থেমে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।’
প্রচণ্ড গরমে বেনাপোল বাজারে বেড়েছে ঠান্ডা পানি, আখের রস, লেবুর শরবত ও ডাবের চাহিদা। বাজার এলাকার শরবত বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকেই মানুষ ঠান্ডা পানীয় খুঁজছে। দুপুরের দিকে বিক্রি অনেক বেড়ে যায়।
তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা। অনেকে দুপুরের কাজ কমিয়ে সকাল ও বিকেলে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে জীবিকার তাগিদে অনেককেই প্রখর রোদের মধ্যেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বেনাপোল পৌর এলাকার ভ্যানচালক জিন্নাহ আলী বলেন, ‘গরমে যাত্রী কমে গেছে। কিন্তু বসে থাকলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও রাস্তায় নামতে হচ্ছে।’
অতিরিক্ত গরমে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জ্বর, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও হিটস্ট্রোকজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, তীব্র গরমের কারণে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জ্বর, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও হিটস্ট্রোকজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রচণ্ড গরমে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ডাবের পানি পান করতে হবে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা উচিত।
খেটে খাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সকাল সকাল কাজ শুরু করতে হবে এবং দুপুরের আগেই সম্ভব হলে কাজ শেষ করতে হবে। একাধারে কাজ না করে ৪৫ মিনিট পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়া উচিত।’