• ই-পেপার

নছিমনের ধাক্কা : মায়ের কোল পড়ে ৪ দিনের শিশুর মৃত্যু

চাঁদপুরে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল নিয়ে কার্গো ডুবি

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল নিয়ে কার্গো ডুবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের ত্রিনদীর মোহনায় মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে ধান-চালবোঝাই একটি কার্গো ডুবে গেছে। এতে কার্গোটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার বস্তা ধান ও চাল পানিতে তলিয়ে যায়। 

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার ত্রিনদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কার্গোর চালক এরশাদ মাঝি জানান, পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল ও ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে কার্গোটি পুরানবাজার ঘাটের কাছে পৌঁছালে মেঘনার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে সেটি হেলে পড়ে। এ সময় কার্গোতে থাকা ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, পরে কার্গোটি ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ডুবে যায়।

চাঁদপুর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া ধান ও চাল পুরানবাজারের ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ীর। এতে তাদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কিছু ধান ও চালের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে পদ্মা-মেঘনা নদী উত্তাল রয়েছে। বুধবার সকালেও চাঁদপুরে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়া ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কিছু ধান ও চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

দিনাজপুরে একই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহনন

দিনাজপুর (বোচাগঞ্জ) প্রতিনিধি
দিনাজপুরে একই দিনে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহনন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও সদর উপজেলায় একই দিনে এক কিশোরী ও এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রীমহন্তপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাসের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

একই দিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের উমরপাইল জালিয়াপাড়া এলাকায় কাকন রায়ের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বোচাগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের পরিতোষ রায়ের ছেলে। কাকন গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করে।

স্থানীয়রা জানায়, কাকন তার নানা নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় কাকন রায় ফিরে না আসায় নানাবাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। কারণ সকালে কাকন রায়ের গ্রামের প্রিয়া রানী দাস নামের এক কিশোরীর লাশ নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

আত্মহত্যার খবরটি গ্রামের সবার জানা ছিল। এ সময় নানাবাড়ির সবাই ও প্রতিবেশীরা কাকন রায়কে খুঁজতে শুরু করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনে আত্রাই নদীর ধারে একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কাকন রায়ের লাশ দেখতে পায়। 

সেখানেই প্রকাশ পায় সকালে আত্মহত্যা করা প্রিয়া রানী দাসের সঙ্গে কাকন রায়ের সম্পর্কের কথা। কাকন রায়ের নানা শ্রী নেপাল চন্দ্র রায় ৫ নং শশরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফকে বিষয়টি অবগত করেন। 

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফ জানান, কাকন রায় নানাবাড়িতে থেকে পড়া লেখা করত। একই গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। সোমবার রাতে ওই মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছ। মঙ্গলবার সকালে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। পরে শ্মশানে যখন মেয়েটির মরদেহ সৎকার করা হচ্ছিল, তখন কাকন অন্যদিকে নিজেই রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রিয়া ও কাকনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রিয়ার মৃত্যুর খবর জানার পর কাকনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে দুই পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রিয়া রানী দাসের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। কাকনের মৃত্যুর ঘটনাটি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অধীনে হওয়ায় সেটি সংশ্লিষ্ট থানা তদন্ত করছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরনবী কাকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা যায়, একই গ্রামের এক কিশোরীর মৃত্যুর পর এ ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের সম্পর্ক দুই পরিবার মেনে নেয়নি। সে কারণেই আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি ভালো নয়, ছেলেমেয়েদের এত বেশি আবেগি হওয়া ঠিক নয়। মা-বাবা ও পরিবারেরও বিষয়টি ভাবা উচিত ছিল। তাহলে তারা এই কাজটা করতে পারত না। 

তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনার বারহাট্টায় আলোচিত ধর্ষণ মামলার ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হেলাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল বারহাট্টা উপজেলার স্বল্প দশাল গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে স্বামী-পরিত্যক্তা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হেলাল। এ ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে ও পাশের ঘরের এক স্বজন আসামিকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল ধর্ষণের অভিযোগ ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। 

এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় বড় হতে থাকে। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতের মাধ্যমে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ের ফলে শিশুটি হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য অধিকার পাবে। মামলার এ রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের তালা

৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ছাড়লেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশালের নবনিযুক্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর নেতারা। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। 

এর আগে তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করতে দেখা যায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একাংশকে। তবে তার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন বরিশাল বিএনপির একটি পক্ষ। তারা আন্দোলনকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো কাজ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চাপের মুখে পরিচালক ৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন পরিচালক (স্বাস্থ্য) হিসেবে গত ৫ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আদেশে নিয়োগ পান সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি ওই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পূর্বে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টানা চার বছর সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং পরবর্তীতে দেড় বছরেরও বেশি সময় উপপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

নবনিযুক্ত পরিচালকের অনুসারী শেবাচিম-এর-৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, শেবাচিম-এর উপপরিচালক থাকার সময় নবনিযুক্ত পরিচালক মনিরুজ্জামান তাদের অনেক হেল্প করেছেন। আওয়ামী লীগের চাপে তিনি কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তাকে দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়। 

তবে শেবাচিম-এর-৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মনিরুজ্জামান শাহীন স্বৈরাচারের দোসর। জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের চিকিৎসাসেবা পেতেও বাধা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জুলাইয়ের বিরুদ্ধে শান্তি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর শেবাচিম শাখা সভাপতি সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সময় তার বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড রয়েছে। তাকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দায়িত্বে দেওয়ায় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখ থেকে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছি। তিনি পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। 

নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরবর্তীতে চাকরিতে যোগদান করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর সঙ্গে আছি। জুলাই আন্দোলনের সময় আমি শিক্ষার্থীদের বেশ সহায়তা করেছি। কিন্তু এখন নব্য কিছু বিএনপি আমার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে অফিস ত্যাগ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নছিমনের ধাক্কা : মায়ের কোল পড়ে ৪ দিনের শিশুর মৃত্যু | কালের কণ্ঠ