• ই-পেপার

চাঁদাবাজির অভিযোগ

মাদক পাওয়া যায়নি, অন্যের কথায় নারীকে আসামি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে রাসেল মিয়া নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালক ও সহকারীসহ আরো চারজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাজিরখলা গ্রামের টেনা মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চালক আবুল কালাম (৩৫), হেলপার জয়নাল (২২), শ্রমিক আমিনুল হক (২৫) এবং শফিকুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা থেকে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি চম্পকনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মিলন বাজার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় একটি রোলার অতিক্রম করার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। আহতদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাসেল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়ক : সংস্কারের অভাবে মারণফাঁদে জনজীবন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়ক : সংস্কারের অভাবে মারণফাঁদে জনজীবন
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়কে খানাখন্দে ভরা।

​হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়কটি আজ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর দীর্ঘশ্রুত অবহেলার এক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের সহজ চলাচলের এই পথটি বর্তমানে পিচঢালা কোনো সড়ক নয়, বরং যেন শত শত খানাখন্দে ঘেরা এক মৃত্যুফাঁদ। সংস্কারহীনতার দীর্ঘসূত্রতায় সড়কটি এখন হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, আর জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরম সীমায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের প্রশস্ততা কম নয়, কিন্তু এর বর্তমান রূপ বড্ড বিভীষিকাময়। পিচ, কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বুক চিরে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে জমে যায় কাদা-পানি, যা পথচারী ও চালকদের কাছে বিষাক্ত এক গোলকধাঁধার মতো। সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক—সব ধরনের যানই এখন এখানে এসে থমকে দাঁড়াচ্ছে। দিনের আলোয় যা কিছুটা এড়ানো সম্ভব হলেও রাতের অন্ধকারে তা হয়ে ওঠে দুর্ঘটনার প্রধান উৎস। প্রতিনিয়ত উল্টে যাচ্ছে ছোট যানবাহন, বিকল হচ্ছে মালবাহী ট্রাক। চাকা ভেঙে যাওয়া কিংবা অ্যাক্সেল ভেঙে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিত্যদিনের চিত্র। এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আজ সবচেয়ে বেশি অসহায়। কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণ, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না পেরে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘সড়কটির করুণ দশা আমাদের ব্যবসায়িক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। মালবাহী গাড়িগুলো এই রাস্তায় আসতে চায় না, আর এলেও ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ। এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়, তা আমরা জানি না।’ ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে বারবার গুঞ্জন উঠলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টনক নড়ছে না। প্রশাসনিক উদাসীনতা আর তদারকির অভাবে উন্নয়নের বরাদ্দ যেন এই সড়কের বেহাল দশা দেখেও দেখছে না। এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগী—সবাইকে এই মরণফাঁদ পাড়ি দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে চলাচলের সময় সড়কের ঝাঁকুনিতে তাদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে, যা এক মানবিক বিপর্যয়ের শামিল।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল তালি দিয়ে সংস্কার বা দায়সারা মেরামতের দিন শেষ হয়েছে। সড়কটি টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রকৌশলগত সমাধান ও কঠোর মনিটরিং। তারা মনে করেন, প্রশাসন যদি এখনই উদ্যোগী না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, আর কোনো আশ্বাস নয়, তারা এখন সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও এর স্থায়ী সমাধান চান। সড়কটি কি ফের চলাচলের উপযোগী হবে, নাকি অবহেলার এই অভিশপ্ত তকমা নিয়ে এটি আরও দীর্ঘ সময় ‘মরণফাঁদ’ হয়েই টিকে থাকবে—এখন সেই উত্তর খুঁজছেন নবীগঞ্জ ও কাজীগঞ্জের হাজারো মানুষ। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর আকুতি একটাই—মানুষের জীবনের মূল্য কোনো প্রকল্পের চেয়ে কম নয়, তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে এই দুর্গম যাতায়াতের অবসান ঘটানো হোক।

ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্ত নগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে করে ভ্রমণ করার সময় রেলসেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে মো. আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মেঘনা নদীর ভৈরব সেতুতে তিনি ধাক্কা লেগে মারা গেছেন।

নিহত আরিফুল ইসলাম (২৬) জেলার নবীনগর উপজেলার রসুল্লা ইউনিয়নের দাররা গ্রামের সরকার বাড়ির মো. আজিজুল ইসলাম কান্দুর একমাত্র ছেলে।

পরিবার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আরিফুল ইসলাম ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং ‘ইলেকট্রনিক প্লাস’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ জেলার পিটিআই স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়েন। টিকেট না পেয়ে তিনি ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে সেতুর পার হওয়ার সময় ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পান। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সময় সেতুতে আঘাত পেয়ে মারা যান আরিফুল। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের লোকজন তার লাশ এসে নিয়ে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

বিকেলে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। জেলা যুবদলের সভাপতি শামিম মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মাহমুদের নেতৃত্বে মিছিলটি পৌর এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতি এগিয়ে নিতে যুবদল সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং এসব প্রতিহত করতেই এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এদিকে একই দিনে আখাউড়া উপজেলায়ও যুবদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পৃথকভাবে মিছিল করেছে।

মাদক পাওয়া যায়নি, অন্যের কথায় নারীকে আসামি! | কালের কণ্ঠ