• ই-পেপার

বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

বগুড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ২১ মাসের শিশুর

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ২১ মাসের শিশুর
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় পুকুরে ডুবে সুরভী আক্তার (২১ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের চেচুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুরভী ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সুরভী পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

নাটোরে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাগর (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের পাটুল বাজার বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাগর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ঘোষপাড়া গ্রামের শ্রী মানিকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সাগর মোটরসাইকেলযোগে পাটুল খোলাবাড়ী জিরো পয়েন্ট থেকে পাটুল বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পাটুল বটতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশাচালক চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্রে নৌকা ডুবে নিখোঁজ মুয়াজ্জিন

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্রে নৌকা ডুবে নিখোঁজ মুয়াজ্জিন
পাকুন্দিয়ায় নিখোঁজ মুয়াজ্জিনের সন্ধানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবে সিরাজ উদ্দীন (৬৫) নামের এক মুয়াজ্জিন নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বাহাদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ডুবে যান। ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল দিনব্যাপী চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি।

নিখোঁজ সিরাজ উদ্দীন বাহাদিয়া গ্রামের মৃত রইছ উদ্দীনের ছেলে। তিনি বাহাদিয়া নামাবাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিরাজ উদ্দীন তাঁর ছেলে শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে গরুর জন্য ঘাস কেটে আনতে নৌকায় করে  ব্রহ্মপুত্রের নদের ওপারে যান। ঘাস কাটা শেষে সিরাজ উদ্দীন ও শাকিল আলাদা দুটি নৌকায় করে ঘাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রবল স্রােতের কবলে পড়ে মাঝ নদে সিরাজ উদ্দীনের নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় পাশে থাকা নৌকায় ছেলে শাকিল দ্রুত এগিয়ে এলেও প্রবল স্রােতের কারণে সিরাজ উদ্দীনকে উদ্ধার করতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে সিরাজ উদ্দীন পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কিশোরগঞ্জ ইউনিটের ডুবুরিদলের টিম লিডার আমিনুর রহমান জানান, নদে অতিরিক্ত স্রােত থাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ডুবুরিদল প্রায় ৮ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ ব্যাক্তির কোনো সন্ধান পায়নি। তাই আপাতত উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কলম প্রযুক্তির বিস্ময়

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক গাছেই ১০ জাতের আম

বরিশাল (বাবুগঞ্জ) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জে এক গাছেই ১০ জাতের আম
ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে (উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্র) কলম প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি আমগাছেই ১০ জাতের আম উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। একই সঙ্গে একটি গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণাও চলছে। উদ্ভাবনী এ উদ্যোগ কৃষক ও বাগানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় জাতের একটি আমগাছকে মূল (রুটস্টক) হিসেবে ব্যবহার করে মিয়াজাকি, ন্যাম ডক মাই, রেড আইভরি, ক্যাটিমন, থ্রি টেস্ট, ব্যানানা, আম্রপালি, বারিভোগ, বারি-১১সহ ১০টি দেশি-বিদেশি জাতের আম সংযোজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই গাছে ২০ জাত পর্যন্ত আম উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কলম প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গাছে একাধিক জাতের আম সংযোজন করা সম্ভব। বহুজাতের এসব চারা বিক্রির পাশাপাশি ক্রেতাদের পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

উদ্যানতত্ত্ববিদ ফেরদৌস আরা মিতা জানান, সীমিত জায়গায় বেশি জাতের ফল উৎপাদনের জন্য এ প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর। ছাদবাগান ও ছোট পরিসরের বাগানের জন্য এটি উপযোগী এবং একটি গাছ থেকেই একটি পরিবারের মৌসুমি আমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্যমতে, প্রতিবছর এখান থেকে প্রায় আড়াই লাখ ফলজ চারা বিক্রি হয়। ২০২৬ সালে বিক্রি হওয়া চারার মধ্যে প্রায় দেড় লাখই ছিল বহুজাতের আমের চারা।

উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. অলিউল রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রে বর্তমানে ৭৪ জাতের আম সংরক্ষণ ও উৎপাদন করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম দামি মিয়াজাকি এবং জনপ্রিয় ন্যাম ডক মাই জাতও বরিশালের আবহাওয়ায় সফলভাবে ফলন দিচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা এসব উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করতে পারছেন।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিজমি সংকুচিত হওয়া ও নগর কৃষির প্রসারের প্রেক্ষাপটে বহুজাতের ফলগাছ ভবিষ্যৎ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ | কালের কণ্ঠ