কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ প্রায় ৬ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম -সিলেট-কিশোরগঞ্জ রেলপথে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সংঘর্ষের জেরে বিভিন্ন স্টেশনে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে ছিল। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সংঘর্ষে ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, রেলপুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বেগ পেতে হয়।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ১৪-১৫ দিন আগে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের বালক ও যুবকদের মাঝে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফুটবল খেলায় ২ গ্রামবাসীর ছেলেদের মাঝে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা হামলা করে আহত করে। আহত করার খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রেল পুলিশ, পরে ভৈরব থানা পুলিশ, ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্য, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২ দলের সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর গোধূলি, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার- এ ৫টি ট্রেন রাত দেড়টা পর্যন্ত আটকে থাকে।
এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় ভৈরব রেলস্টেশনে শত শত যাত্রীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, আমরা কয়েক দফা চেষ্টা করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে রাত ২টায় জানান, আমরা ধৈর্য সহকারে চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। যারা রাষ্ট্র ও রেলের সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ জানান, রাত ১টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।




