• ই-পেপার

বন বিভাগের ট্রলারে বন কর্মকর্তার কাঠ পাচার!

বিলাসবহুল গাড়িতে লুকানো ছিল কোটি টাকার গাঁজা, নারায়ণগঞ্জে উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
বিলাসবহুল গাড়িতে লুকানো ছিল কোটি টাকার গাঁজা, নারায়ণগঞ্জে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বিলাসবহুল একটি জিপ গাড়ি থেকে কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১৪০ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে র‍্যাব-১১।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে।

র‍্যাব-১১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি কয়েকজন মাদক কারবারি একটি বড় চালান নিয়ে বন্দর থানার মদনপুর এলাকায় রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি জিপ (টয়োটা ক্লুগার) থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ১৪০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।

র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, ‘জব্দকৃত গাঁজা ও ব্যবহৃত গাড়িসহ আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোর নিখোঁজ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে ইসমাইল হোসেন (১৪) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে উপজেলার হাটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন বলে জানা গেছে। এদিকে খবর পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে কাজ সমাপ্ত করেন।

ইসমাইল হোসেন গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার আমবাগ গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানান, শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার বাগিয়া নদীর ঘাট থেকে ৭০-৮০ জন নৌকা ভ্রমণে মির্জাপুরে আসেন। ইসমাইল হোসেন সহপাঠীদের সঙ্গে বিকেল ৪টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা এলাকায় বংশাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে সন্ধ্যায় কাজ সমাপ্ত করেন।

মির্জাপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার এরশাদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়েছেন। সন্ধ্যা হওয়ায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করেন।

উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর পায়ে বিদ্ধ গুলি সদৃশ বস্তু

খুলনা অফিস
উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর পায়ে বিদ্ধ গুলি সদৃশ বস্তু

খুলনা মহানগরীতে চলতি মাসে আবারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নগরীর হরিণটানা থানার বয়রা আন্ধিরঘাট এলাকায় বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ফাতেমা আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তাকে বিদ্ধ করা বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি না কি অন্য কিছু- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে এক্স-রে ফিল্ম দেখে পুলিশের ধারণা, এটি এয়ারগানের গুলি হতে পারে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত মতামত পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ফাতেমাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাতেমা আক্তার জানান, খালার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে উঠানের মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডান পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। নিচে তাকিয়ে দেখেন, পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার ডান পায়ে গুলি সদৃশ একটি ধাতব বস্তু বিদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বস্তুটি উদ্ধার ও পরীক্ষার পরই এটি গুলি কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক্স-রে পর্যবেক্ষণে এটি এয়ারগানের গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।’

এদিকে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনেই খুলনা মহানগরীতে এটি তৃতীয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। এর আগে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর সদর থানার শান্তিধাম মোড়ে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

৩ জুলাই নগরীর নতুন বাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এক স্কুলছাত্রী। আর ২ জুলাই লবণচরা থানার আশীবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রাতুল শেখ (২২) নামের এক তরুণ।

টানা গুলির এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই মহানগরীতে একের পর এক গুলির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

অপরদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সাংবাদিকদের যেকোনো কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপির একাত্মতা থাকবে।

নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধনে খুলনায় অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এজন্য তিনি সচেতন সাংবাদিকসহ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় নগর বিএনপি কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা (এমইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মৃত্যুর আগে যা বলে গেলেন ধর্ষণের শিকার সেই প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মৃত্যুর আগে যা বলে গেলেন ধর্ষণের শিকার সেই প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা
অভিযুক্ত আরিফ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রবাসীর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তারকে (৪০) মারধরের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামে। ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম এবং একই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী। আরিফ সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসেন। ২২ জুলাই বুধবার রাতে আরিফ সাইদুলের বাড়িতে গিয়ে সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মোর্শেদা বেগমকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে মোর্শেদা রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে আরিফ তাকে বেধম মারধর করে। পরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর নানা বাড়ি থেকে বড় ছেলে মাহিম বাড়িতে এসে তার অসুস্থ মাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে রেফার করে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মোর্শেদা বেগম স্বজনদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

এদিকে স্ত্রীকে ধর্ষণের খবর শুনে স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার দেশে আসেন এবং আরিফকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ পলাতক রয়েছেন। 

শনিবার বিকেলে উপজেলার বাঁশতৈল ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান ও উপপরিদর্শক আতাউর রহমান সরজমিন তদন্তে যান।

বাঁশতৈল ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোর্শেদার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ বাবার বাড়ি কালিয়াকৈরে নিয়ে গেছেন। তার স্বামী সাইদুল ইসলাম শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি এসে আরিফকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বন বিভাগের ট্রলারে বন কর্মকর্তার কাঠ পাচার! | কালের কণ্ঠ