• ই-পেপার

জামিনের আবেদন

পিঠমোড়া বেঁধে, হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আদালতে আনা হলো কাজলকে

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, গ্রেপ্তার ৩

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে মাদক পাচারকালে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু রাবার বাগান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পাচারকারীরা হলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শালুকিয়া গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জের পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহিদুল ইসলাম সুরুজের মেয়ে সিমা ইসলাম (২২) ও মিরপুর এক নম্বর এলাকার কামরুজ্জামান রনির মেয়ে উর্মি আকতার উষা (১৯)।

কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, পাচারকারীরা একটি প্রাইভেট কারে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান কিনে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীরা কারটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

কেরানীগঞ্জে নৌঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে নৌঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বুড়িগঙ্গা নদীতে সিমসন খেয়াঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পারাপারের ভাড়া ২ টাকা বহাল রাখার দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এ সময় তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘাটটি আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর নদীপথে আসা পাইকারি ক্রেতাদের অতিরিক্ত পথ হেঁটে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি পারাপারের ভাড়া ২ টাকা থেকে ৫ টাকা করারও প্রতিবাদ জানান তারা।

সমাবেশে ব্যবসায়ীরা বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি পোশাকের বাজার। ১৯৮০ সালের দিকে এ বাজার গড়ে ওঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা নৌপথ, ট্রলার ও অন্যান্য যানবাহনে এখানে এসে পোশাক কেনেন। তাদের ভাষ্য, নদীপথে আসা ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০০৭ সালে প্রথমবার সিমসন খেয়াঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্দোলনের মুখে আলোচনার মাধ্যমে তা আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবার ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ঘাটে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই ব্যবসা ও জনস্বার্থে ঘাটটি পুনরায় আগের স্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

LLL

ব্যবসায়ী মো. মারুফ বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে প্রায় ৪০০ বহুতল মার্কেট, ১০ হাজারের বেশি শোরুম এবং কয়েক হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে। এখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের বড় একটি অংশের চাহিদা এ বাজার থেকে পূরণ হয়। প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী নদীপথে এ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাই ব্যবসার স্বার্থে ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন সোনামিয়া বলেন, ঘাট স্থানান্তরের পর পাইকারি ক্রেতাদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হলে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরবে। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে ঘাট স্থানান্তরের কারণ, পারাপারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

একসঙ্গে বৃত্তি পেল ৩ বোন

নাটোর প্রতিনিধি
একসঙ্গে বৃত্তি পেল ৩ বোন
সংগৃহীত ছবি

একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পেয়েছে একসঙ্গে। তারা হলো তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম ও আয়েশা সিদ্দিকা। তারা নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম সরকার ও গৃহিণী শিল্পী খাতুন দম্পতির সন্তান।

শিক্ষার্থীদের বাবা রেজাউল করিম সরকার জানান, তাদের একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তাদের তিন বোনের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। তারা নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে। আল্লাহ তায়ালার রহমত, স্বজনদের অনুপ্রেরণা, তাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা আর শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই তাদের এ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন কেয়া বলেন, তারা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ ভালো। তারা যথেষ্ট ভদ্র ও বিনয়ী। তাদের এমন সাফল্যে আমরা সবাই খুশি। আগামীতে তারা আরো ভালো ফলাফল করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জোনাইল এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, তারা তিনজনই আমাদের বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত। আশা করি তারা ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এটি একটি বিরল ঘটনা বলা চলে। আমি তাদের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

রাজারহাট

দুই সপ্তাহে নদী গিলেছে ২৫ বসতবাড়ি

ভাঙন আতঙ্কে শতাধিক পরিবার টেকসই ব্যবস্থা দাবি স্থানীয়দের

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কু‌ড়িগ্রাম
দুই সপ্তাহে নদী গিলেছে ২৫ বসতবাড়ি
কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়া একটি পরিবার। মঙ্গলবার তোলা। ছবি : সংগৃহীত

চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর পানি। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীতে হারিয়ে গেছে। 

এরই মধ্যে নদীর ভাঙন অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় এসে গেছে। এতে শতা‌ধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। 

ওই এলাকার বাসিন্দা সবুর আলী (৬৮) বলেন, ‘আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভাঙি গেছে। ত্রাণ পাইছি, এহন নদী বান্ধি দেন।’ আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না, এমন ব্যবস্থা চাই যাতে আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম এলাকা। তাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদীভাঙন রোধে কোনো টেকসই ব‌্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম জানান, তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে  ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গত সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রা‌কিবুল হাসান ব‌লেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পিঠমোড়া বেঁধে, হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আদালতে আনা হলো কাজলকে | কালের কণ্ঠ