গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার ইভ্যালি আবাসিক হোটেল হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ শান্তা বেগমের (৩৩) স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পিবিআই। বৃহস্পতিবার দুপুরে (২৩ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সাইফুল ইসলাম নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরের আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া থেকে স্ত্রী শান্তাকে নিয়ে গার্মেন্টে কাজ করতেন। নিহত শান্তা বেগম চরলক্ষীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শান্তা বেগম ও সাইফুল ইসলাম ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে উঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ ওই কক্ষটি থেকে শান্তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর পিবিআই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার রাতে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার সাইফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন শান্তার আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার দুইটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও নানা সন্দেহ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় ও বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।




