• ই-পেপার

চলন্ত ট্রাকে ধর্ষণ চেষ্টা, চালক গ্রেপ্তার

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নে ঢাকায় ঐক্যের প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়নে ঢাকায় ঐক্যের প্রত্যয়

মাত্র পাঁচ মাসে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তা স্বাধীনতার পরে আর হয়নি। দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ এলাকার পুরোচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উন্নয়নের এই ধারবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। একইসঙ্গে এলাকাকে করতে হবে মাদকমুক্ত। দক্ষিণ গফরগাঁওকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির কার্যক্রম আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম’ আয়োজিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক আনোয়ারুল কাইয়ুম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. সিরাজুল হক, যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, তিতাস গ্যাসের সাবেক জিএম ফয়জুল বারী গোলাপ, সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার হাম্মাদ হোসেন নয়ন এবং বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি ও ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হক প্রমুখ।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আগামী ৫ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই অবহেলিত গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চিত্র পাল্টে যাবে। আগামী প্রজন্মের জন্য সবাইকে নিয়ে আমরা মানবিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য গফরগাঁও তৈরিতে কাজ করতে চাই। এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদবির করে যাচ্ছি।

গফরগাঁও পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মোহম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় ৩২ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে আরো ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ইতিমধ্যে অনুমোদন হয়েছে, যা শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গফরগাঁওয়ের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে জানিয়ে এমপি বাচ্চু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বরাদ্দের অনুরোধ জানালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জন্য পৃথক প্রকল্প প্রণয়ন করেছে এবং ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাস্তা পাকাকরণ, এইচবিবি ও ইট সোলিংয়ের কাজ হয়েছে। যেসব এলাকায় মাটির রাস্তার দাবি এসেছে, বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সেখানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রাস্তা বসে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে স্থায়ী উন্নয়ন করা যায়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বর্তমান এমপি মাত্র চার মাসের মাথায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। তিনি নির্মোহ ব্যক্তি; তিনি এটা ঝুলিয়ে রাখতে পারতেন, নির্বাচনের আগে করতে পারতেন। আর জায়গা কোনো ফ্যাক্টর নয়। যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এটিই উপযুক্ত। উপজেলা ভবন বা অন্যান্য প্রকল্পের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়, বর্তমান এমপি সেদিকে লক্ষ রাখবেন বলে মনে করছি। এখন অনেক রাস্তার কাজ চলমান, এটি আগে হয়নি।

সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, উপজেলা ভবনের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইগো বা আঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সামষ্টিকভাবে যা ভালো, তাই মেনে নেওয়া উচিত। কোনো এলাকার জন্য কোনটি ভালো—তার একটি দার্শনিক সংজ্ঞা রয়েছে; যা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাজে আসে, সেটাই প্রকৃত অর্থে ভালো। নয়াবাড়ী বা কান্দিপাড়ায় যে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে, তা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থেই সবচেয়ে উপযুক্ত ও যৌক্তিক। সামষ্টিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

বিজিএপিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেন, সরকার যে জায়গা স্থান নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্মাণের জন্য, স্থানটি আমাদের দৃষ্টিতে যথাযথ হয়েছে। আমরা চাই এই উপজেলা সদরের সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের সঙ্গে কানেক্টিভিটি হোক, সেটি হলে সরকারি সেবা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।

সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান বলেন, গফরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে উপজেলার উন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কমলগঞ্জে ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
কমলগঞ্জে ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি এরই মাঝে সরেজমিন তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার।

তদন্তকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, ‘এখানে কিছু গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য রেকর্ড করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা এবং আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তদন্ত কমিটির প্রধানকে সহযোগিতা করতে এসেছি। কেউ যদি সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পাকা রাস্তা বা অন্য কোনো অবকাঠামো তৈরি করে থাকে, সেগুলো আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে। এলাকাটির একটি পুকুরসহ বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’

এর আগে গত ১৬ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করা ওই জমিতে কমলার বাগান, বিভিন্ন স্থাপনা ও একটি পুকুর তৈরি করা হয়েছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ২০০টি ফলদ কমলা গাছ কেটে ফেলা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে সরকার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

৫০ লাখ টাকা জলে

এক মাসেই ধসে গেল রাস্তা, অবরুদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
এক মাসেই ধসে গেল রাস্তা, অবরুদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

উন্নয়নের নামে প্রহসন আর হরিলুটের এক জীবন্ত দলিল এখন নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত নির্মিত  সড়কটি। সরকারি বরাদ্দের ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢালাই রাস্তা চালুর মোটে ৩০ দিন পার হতে না হতেই কয়েক স্থানে ধসে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বাজারের অংশে পানি নিষ্কাশনের কোনো পাইপলাইন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় প্রধান সড়ক থেকে ভেতরে ঢোকার প্রধান পথটি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতার ডোবায় পরিণত হয়েছে।

এই অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজের মাশুল গুনছে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়াসহ ৫টি গ্রামের অন্তত ৭ হাজার অসহায় মানুষ। দিনের পর দিন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে হেঁটে যাতায়াত করতে গিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই এখন মারাত্মক চর্মরোগে ভুগছেন। জনদুর্ভোগের এই চরম বাস্তবতায় ফুঁসে উঠেছে এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা।

​দুর্নীতির খেসারত : মানুষের কান্না

​স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যোগাযোগের দুর্ভোগ ঘোচানোর নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও শুরু থেকেই এতে অনিয়মের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছিল। নামমাত্র ইটের খোয়া ও কার্পেটিং করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করেছে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ। সড়কের পানি নিষ্কাশনের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনা জমে একাকার হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও চাকরিজীবীদের দৈনন্দিন যাতায়াত প্রায় বন্ধ।

নোংরা ও পচা পানিতে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের পায়ে ও ত্বকে দেখা দিয়েছে তীব্র চুলকানি এবং ভয়াবহ চর্মরোগ। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো অ্যাম্বুল্যান্স বা কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশের উপায় নেই। মুমূর্ষু রোগীদের বহন করতে হয় খাটিয়ায় বা কাঁধে করে।

বিল্লাল হোসেন নামের একজন বলেন, পাইপ না দেওয়ায় এখন ভেতরের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে।

ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদের ভাষ্য, আমাদের প্রতিদিন এই পানি দিয়ে যেতে হয়। পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে।

আবুল হাশেম নামের একজন বলেন, আমার দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। ব্যবসা লাটে উঠেছে।

ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী : আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

​কাগুজে উন্নয়ন আর কর্তাব্যক্তিদের উদাসীনতায় ক্ষোভে এখন বারুদ হয়ে উঠেছে নগরপাড়ার সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী পাইপলাইন স্থাপনের আলটিমেটাম দিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, আমি জেনেছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে মতবিনিময়সভায় হামলা, চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে মতবিনিময়সভায় হামলা, চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও নতুন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার মুখে সভা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। তবে সভা শুরুর আগেই একদল ব্যক্তি ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এ সময় পরিষদের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহের বলেন, সভার প্রস্তুতির সময় কিছু লোক স্লোগান দিতে দিতে জড়ো হয়। পরে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাজালাল চৌধুরী বলেন, বৈঠক চলাকালে দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। এতে তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনাইদ আলী অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। খবর দেওয়ার পরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মতবিনিময়সভা পণ্ড করা হয়েছে, যা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী জানান, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করতে বিদ্যমান পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রস্তাবের পর এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে বাহারছড়া ইউনিয়ন বিভক্তির পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বিভক্তিকরণ এগিয়ে নিতে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয়দের মতামত গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিভক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

চলন্ত ট্রাকে ধর্ষণ চেষ্টা, চালক গ্রেপ্তার | কালের কণ্ঠ