• ই-পেপার

দাউদকান্দিতে করোনা সন্দেহে বৃদ্ধের মৃত্যু, সাত পরিবার লকডাউন

নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৬

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনার মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের পূর্বধলা থানায় করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

এর আগে ওই মামলায় ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ রানাকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ রানা ও মাজহারুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী শাহজাহান খান, আতাউর রহমান ও হযরত আলী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের ফাজিলপুর বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসাইন এবং উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি রায়হানের নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলের ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৬০-৭০ জন নেতাকর্মী অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। 

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আটক ছয়জনকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের মনিরামপুরে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে এক স্কুলছাত্রের (চালক) মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মনিরামপুর-রাজারহাট সড়কের আট মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিম হোসেন (১৫) কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক। তাদের বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী নূরনবী জানান, সকালে তিনি মনিরামপুরের দিকে ফিরছিলেন। পথে আট মাইল এলাকায় পৌঁছালে দেখতে পান, দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল মনিরামপুরের দিক থেকে কুয়াদা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে চালকসহ মোটরসাইকেলটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত ওপরে ওঠে সড়কে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সঞ্জয় দে বলেন, ‘নিহত মাহিম আমাদের দশম শ্রেণির ছাত্র। স্কুল বন্ধ থাকায় বাবার মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল সে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

টঙ্গীতে ফ্লাইওভারে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
টঙ্গীতে ফ্লাইওভারে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ২
ঘটনাস্থল থেকে কাভার্ড ভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের টঙ্গীতে ফ্লাইওভারে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে কাভার্ড ভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাত দেড়টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফ্লাইওভারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাভার্ড ভ্যান চালক মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল (২৭) নোয়াখালীর সেনবাগ থানার খাজুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। আহতরা হলেন ট্রাকচালক মো. রনি মিয়া (৩০) ও হেলপার মো. রুবেল (৩২)।

পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে টঙ্গীগামী একটি কনটেইনারবাহী ট্রাক দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে ফ্লাইওভার থেকে টঙ্গী স্টেশন রোডে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের ওপর উঠে আটকে যায়। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে আটকে থাকা ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ড ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ভেতরে আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানের চালককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং আহত ট্রাকচালক ও হেলপারকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুর

রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬

মাদারীপুর প্রতিনিধি
রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৬
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

রোগীদের অভিযোগ, শহরের আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অসুস্থ রোগীরা হলেন– মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমনি আক্তার (৩৫), পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহামুদ (১১), পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন (২২), তালতলা এলাকার ইব্রাহীম (১৮), ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া (২৩), শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার (২৫), পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার (৯), চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী (১৮) ও শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন (১৫)। এ ছাড়াও শহরের কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তারকে (১৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরানবাজার এলাকার অবস্থিত আরএফসি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ক্রেতা। পরে রাত ৯টা থেকে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসতে থাকেন। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন রোগী। 

তাদের অভিযোগ, আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে আরএফসি থেকে নান রুটি ও গ্রিল খেয়েছে। তারপর থেকেই খুব অসুস্থ। ১০ বার বমি করেছে। অনেকবার টয়লেটে গেছে। ছেলেটার অবস্থা ভালো না। ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছে। বলছে, সুস্থ হতে সময় লাগবে।’

তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চারজনই গতকাল আরএফসিতে খাবার খেয়েছিল। চারজন ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। তারপর থেকে বমি আর পাতলা পায়খানা। সবাইকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আদালত ও অধিদপ্তরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে ছুটে গেছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। আমার রেস্টুরেন্টের খাবারে কোন ত্রুটি ছিল কিনা জানি না। তবে আমরা এরপর থেকে আরো সতর্ক হয়ে ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করব।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে যারা ভর্তি হয়েছে, তারা বেশির ভাগই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ রোগীরা এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরেও বিষয়টি আমরা নজরদারি করব। এ বিষয়ে আমরা ওই রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাব। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দাউদকান্দিতে করোনা সন্দেহে বৃদ্ধের মৃত্যু, সাত পরিবার লকডাউন | কালের কণ্ঠ