• ই-পেপার

লোহাগড়ায় স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মাশরাফি

সিলেটে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশের পতাকা ও দলীয় ব্যানার হাতে স্লোগান দিতে দিতে মহাসড়কে মিছিল করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অন্তত ১৫-২০ জন অংশ নেন। সে সময় সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা ছিল।

দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মিছিল’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক রায় বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে—স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মিছিল।’

ব্যানারের এক পাশে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রনজিত সরকারের ছবি এবং অন্য পাশে নিষিদ্ধ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাজমুল ইসলামের ছবি দেখা যায়। ব্যানারের নিচে লেখা ছিল, ‘মো. নাজমুল ইসলাম, সভাপতি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।’

আরো পড়ুন
ঝিনাইদহে ধান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে ধান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু দাউদপাড়া গ্রামের রুমেল আহমদ, শ্যামপুর গ্রামের এস কে শাহীন আলম, শেখ সাইফুল ইসলাম ও শিকারখাঁ গ্রামের ফাহিম আহমদের নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মিছিলটি ঠিক কোন এলাকায় হয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

রাজবাড়ীতে জুলাইযোদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে জুলাইযোদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীতে পূর্ববিরোধের জের ধরে জুলাইযোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. হোসেন আলীকে (৩৫) কুপিয়েছেন তার ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. জীবন মণ্ডলকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ। 

হোসেন আলীর রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের বাড়াইজুরি গ্রামের মো. মনির উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।

আহত হোসেন আলী জানান, তিনি একজন জুলাইযোদ্ধা (স্বাস্থ্য কার্ড নং-৩১১৫৭) এবং স্বেচ্ছাসেবক দল চন্দনী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে তার আপন ছোট ভাই মো. জীবন মণ্ডলের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত ১৫ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জীবন মণ্ডল পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। তবে আঘাতটি মাথায় না লেগে ভ্রুসহ বাঁ চোখ মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। সে সময় তাকে রক্ষার জন্য স্ত্রী মোছা. লিপি খাতুন (৩০) এগিয়ে এলে জীবন মণ্ডল তাকেও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় গত ১৭ মে রাতে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পরে এই মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান জানান, ওই ঘটনায় আহত জুলাইযোদ্ধা হোসেন আলী বাদী হয়ে জীবন মণ্ডলকে আসামি করে রাজবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের সদস্যরা আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে ৪ কারখানার শ্রমিকদের মানববন্ধন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে ৪ কারখানার শ্রমিকদের মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে দাবি আদায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে কোনো সুরাহা না পেয়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (১৮ মে) সকালে এক্টর স্পোর্টিং কারখানার শ্রমিকদের আয়োজনে ঢাকা ইপিজেডের পুরাতন জোনের মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় তাদের সাথে যোগ দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন বন্ধ হয়ে যাওয়া সাউথ চায়না লি., গোল্ডট্রেক্স গার্মেন্টস লি. এবং গোল্ডট্রেক্স টেক্সটাইল লিমিটেড এর সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানায়, গত বছরের শেষের দিকে এই পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ডিইপিজেড কর্মকর্তাদের সাথে বার বার মিটিং করা হলেও তারা কোনো সমাধান দিতে পারেনি। এই অবস্থায় তারা খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার একজন কর্মকর্তা জানান, গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানি আমাদের কোনো বেতন দেয়নি। এসময় ইপিজেড কর্তৃপক্ষ আমাদের এবং শ্রমিকদের বার বার আশ্বস্ত করেছে আপনারা কাজ চালিয়ে যান, কোম্পানি বেতন না দিলে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে তোমাদের বেতন দিয়ে দিবো। তার পরে ডিসেম্বরের এক তারিখে হঠাৎ করেই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করছেন তাদের কোনো প্রকার টাকা দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শ্রমিক গোলাম হোসেন বলেন, ‘ইপিজেডের ইডি স্যার আমাদের বলেছে, কোম্পানি পাওনা দিলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সমস্ত পাওনাদি পরিশোধ করবে। এরপর থেকে আমরা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তারা কোম্পানির দোহাই দিয়ে আমাদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি। দেশে নতুন সরকার গঠনের পরও আমরা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের পরও তারা আমাদের কোনোভাবে আশ্বস্ত করতে পারেনি।’

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানায়, আমরা শ্রম মন্ত্রণালয়, বেপজা এবং বিজিএমইএ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি কিন্তু সেগুলোরও কোনো জবাব পাইনাই। আজ দশ মাস হয়ে গেলো আমরা কোনো সুরাহা পাচ্ছি না। ইপিজেড কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিক সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘বকেয়া বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে পারছি না। পাওনা টাকা পেলে ধারদেনা পরিশোধ করে একটা কিছু করতে পারতাম। তাই আমাদের চাওয়া ইপিজেড কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিয়ে আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।’

অন্যান্য শ্রমিকরা জানান, আমাদের চাকরি চলে যাওয়াতে আমরা খুব কষ্টে মধ্যে আছি। আমরা আমাদের সংসার চালাতে পারছি না, বাসা ভাড়া দিতে পারি না। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারিনা। বেকার অবস্থায় আছি, আমাদের যে বয়স এ বয়সে আমরা নতুন কোনো কারখানায় চাকরি নিতেও পারছি না। কোম্পানি যদি আমাদের পাওনা দিয়ে দিতো তাহলে আমরা অনন্ত একটা অটো কিনে বা কোনো ছোট খাট ব্যাবসা করে সংসার চালাতে পারতাম। তাই ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন কোম্পানি যেন আমাদের তাড়াতাড়ি সকল বকেয়া বেতন-ভাতা বুঝিয়ে দেয় সেই ব্যবস্থা করুন।

ঝিনাইদহে ধান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ধান পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের সাগান্না গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর খাঁ ও তার স্ত্রী মোমেনা বেগম।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির আঙিনায় বোরো ধান ফ্যানের বাতাসে উড়িয়ে পরিষ্কার করছিলেন মজিবুর খাঁ। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক ফ্যানের তারে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী মোমেনা বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী আজীবর বিশ্বাস জানান, সকালে হঠাৎ চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার চেষ্টা করে। পরে জানা যায়, বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে দুজনই মারা গেছেন।

আরো পড়ুন
লালপুরে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

লালপুরে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

 

ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।